বয়স ৭৩, তবু ফিটনেসে তরুণদের চ্যালেঞ্জ!
পশ্চিমবঙ্গের নতুন রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন R. N. Ravi। তাঁর নাম ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। ভোটমুখী বাংলায় তিনি কীভাবে দায়িত্ব সামলাবেন, কতটা সক্রিয় ভূমিকা নেবেন বা কী ধরনের প্রশাসনিক কৌশল দেখাবেন—এসব প্রশ্ন এখন রাজনৈতিক অন্দরে ঘুরপাক খাচ্ছে।
এর আগে এই পদে ছিলেন Jagdeep Dhankhar এবং C. V. Ananda Bose। তাঁদের সময়ের নানা ঘটনা রাজ্যপালের পদকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এনে দিয়েছিল। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—নতুন দায়িত্বে রবি কতটা প্রভাব ফেলতে পারবেন।
তবে রাজনৈতিক দিকটি সময়ই বলবে। কিন্তু ব্যক্তিগত ফিটনেসের দিক থেকে ৭৩ বছর বয়সেও তিনি যে বেশ শক্তিশালী, তার প্রমাণ ইতিমধ্যেই পাওয়া গেছে। এমনকি অনেক তরুণও তাঁর ফিটনেস দেখে অবাক হয়েছেন।
যোগ দিবসে নজর কাড়া কসরত
২০২৫ সালের ২১ জুন, আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে একটি ঘটনা অনেকের নজর কাড়ে। তখন তিনি তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল ছিলেন। ওই দিন সাধারণ মানুষের সঙ্গে মাঠে নেমে শরীরচর্চায় অংশ নিয়েছিলেন রবি।
অনেক রাজনৈতিক নেতাকেই এ ধরনের অনুষ্ঠানে হালকা ব্যায়াম করতে দেখা যায়। কিন্তু রবির কসরত দেখে উপস্থিত দর্শকদের অনেকেই মুহূর্তের জন্য অবাক হয়ে গিয়েছিলেন।
ট্র্যাক প্যান্ট ও টি-শার্ট পরে তিনি মাঠের মাঝখানে দাঁড়িয়ে শুরু করেন পুশ-আপ। দু’হাত মাটিতে রেখে শরীর সোজা রেখে ওঠানামা করার এই ব্যায়াম কাঁধ, বাহু এবং কোমরের শক্তি দাবি করে। নিয়মিত অনুশীলন না থাকলে অনেক তরুণও ১০–১২টির বেশি করতে পারেন না।
সেখানে ৭৩ বছরের রবি একটানা ৫১টি পুশ-আপ করে দেখান। তাঁর এই কসরত দেখে উপস্থিত অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন। অনেকের মন্তব্য ছিল—এ যেন কোনও সত্তরোর্ধ্ব ব্যক্তি নন, বরং তিরিশের কোঠার একজন ফিট যুবক!
ফিটনেসের রহস্য কী?
পুশ-আপ নিয়ে মতামত দিতে গিয়ে পাঁচ বারের মিস্টার ইন্ডিয়া Tushar Sil একবার বলেছিলেন, এই ব্যায়াম থেকেই বোঝা যায় কার শরীর কতটা শক্তিশালী। তাঁর মতে, যিনি নিয়মিত পুশ-আপ করতে পারেন, তিনি অবশ্যই নিয়মিত শরীরচর্চা করেন এবং শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবনযাপন করেন।
৭০ পেরোনোর পরও নিয়মিত পুশ-আপ করা সম্ভব—তবে তার জন্য দরকার কঠোর অনুশীলন, নির্দিষ্ট রুটিন এবং নিয়ন্ত্রিত জীবনধারা। সেই হিসাবেই মনে করা হচ্ছে, রবির দৈনন্দিন জীবনেও রয়েছে নিয়মিত শরীরচর্চা ও শৃঙ্খলা।
খাবার নিয়ে তাঁর ভাবনা
খাবারদাবার নিয়েও রবির দৃষ্টিভঙ্গি বেশ স্পষ্ট। তিনি খুব একটা প্রকাশ্যে নিজের পছন্দের খাবারের কথা বলেন না। তবে এক অনুষ্ঠানে তিনি জানিয়েছিলেন, আধুনিক ফাস্টফুড সংস্কৃতির কারণে তরুণদের স্বাস্থ্য দ্রুত খারাপ হচ্ছে।
একটি পুষ্টিবিষয়ক বইয়ের প্রকাশ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, ভারতের ঐতিহ্যবাহী খাবার এবং পুরনো জীবনযাপনের ধারা অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর। পূর্বপুরুষেরা যে ধরনের খাবার খেতেন এবং যে ধরনের জীবনযাপন করতেন, তা মেনে চললে দীর্ঘ ও সুস্থ জীবন পাওয়া সম্ভব।
এই প্রসঙ্গে তিনি Nagaland-এ রাজ্যপাল থাকার সময়কার অভিজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করেন। সেখানে অনেক মানুষ শতবর্ষ পর্যন্ত সুস্থভাবে বেঁচে থাকেন। তাঁর মতে, এর মূল কারণ হল তারা এখনও ঐতিহ্যবাহী খাবার ও জীবনযাপনের ধারা মেনে চলেন।
সব মিলিয়ে বলা যায়, রাজনৈতিক ময়দানে তাঁর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা চললেও ব্যক্তিগত ফিটনেস এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনযাপনের জন্য নতুন রাজ্যপাল ইতিমধ্যেই আলাদা করে নজর কাড়ছেন। সময়ই বলবে—এই দৃঢ়তা প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও কতটা প্রতিফলিত হয়।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?