বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল!
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠল রাজ্যপাল টিএন রবি-র এক ঘোষণাকে ঘিরে। বৃহস্পতিবার লোক ভবনের তরফে বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয়েছে, ভারতীয় সংবিধানের ১৭৪ অনুচ্ছেদের ২ নম্বর ধারা (বি) অনুযায়ী সপ্তদশ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সেই নির্দেশ অবিলম্বে কার্যকরও হয়েছে।
এই ঘোষণার পর থেকেই নতুন প্রশ্ন উঠেছে— তা হলে এখন রাজ্যের প্রশাসনিক দায়িত্ব কার হাতে?
কারণ, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে ইস্তফা দেননি। ভোটের ফল প্রকাশের পর তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, তিনি পরাজয় মেনে নিচ্ছেন না এবং ইস্তফা দেওয়ার কোনও প্রশ্নই ওঠে না। তাঁর বক্তব্য ছিল, “আমাকে বরখাস্ত করতে হলে রাজ্যপাল করুন।”
কিন্তু রাজ্যপাল তাঁকে বরখাস্তও করেননি। আবার নতুন সরকার গঠনের আগ পর্যন্ত তাঁকে ‘তদারকি মুখ্যমন্ত্রী’ হিসাবেও বহাল রাখার কথা ঘোষণা করা হয়নি। ফলে এক বিরল সাংবিধানিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
সংবিধান বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, বিধানসভা ভেঙে যাওয়ার অর্থ হল বর্তমান মন্ত্রিসভারও আর অস্তিত্ব নেই। অর্থাৎ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার এখন কার্যত অতীত। তবে একই সঙ্গে নতুন সরকারকে সঙ্গে সঙ্গে দায়িত্ব নিতে হবে— এমন বাধ্যবাধকতা সংবিধানে স্পষ্ট করে উল্লেখ নেই।
এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক ক্ষমতা আপাতত সরাসরি রাজ্যপালের হাতেই চলে যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞেরা। কারণ সাধারণত মন্ত্রিসভা রাজ্যপালের হয়ে প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে। কিন্তু এখন যখন বিধানসভা ও মন্ত্রিসভা— দু’টিই কার্যত বিলুপ্ত, তখন সেই ‘ডেলিগেটেড পাওয়ার’-এর ব্যবস্থাও নেই।
অনেকের মতে, চাইলে রাজ্যপাল স্বল্প সময়ের জন্য রাষ্ট্রপতির শাসনের সুপারিশ করতে পারতেন। তবে আপাতত সেই পথে হাঁটার কোনও ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। লোক ভবনের তরফেও এ বিষয়ে কোনও ঘোষণা করা হয়নি।
এ দিকে সূত্রের খবর, শুক্রবার বিজেপিকে সরকার গঠনের জন্য আমন্ত্রণ জানাতে পারেন রাজ্যপাল। বিজেপির নবনির্বাচিত বিধায়কেরা সমর্থনের চিঠি জমা দেবেন। তার পর শনিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড-এ নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা।
নতুন মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা চলছে। অনেকের মতে, শুভেন্দু অধিকারী-ই মুখ্যমন্ত্রী পদের সবচেয়ে শক্তিশালী দাবিদার। যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে এমন পরিস্থিতি প্রায় নজিরবিহীন। কোনও মুখ্যমন্ত্রী ভোটে হারের পরও ইস্তফা না দিয়ে পদে থেকে যাওয়ার দাবি তুলেছেন, আবার একই সঙ্গে বিধানসভাও ভেঙে দেওয়া হয়েছে— এমন সাংবিধানিক টানাপড়েন আগে দেখা যায়নি বললেই চলে।
স্ট্রোকের পর কেমন আছেন রাহুল রায়? পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গুজবে মুখ খুললেন অভিনেতা