লোকসভায় নজিরবিহীন উত্তেজনা!
বাজেট অধিবেশনের মাঝেই বুধবার লোকসভায় তৈরি হল এক অভূতপূর্ব পরিস্থিতি। সকাল থেকেই বিরোধীদের বিক্ষোভে উত্তপ্ত ছিল সংসদের নিম্নকক্ষ। সেই উত্তেজনা চরমে ওঠে বিকেলে, যখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নির্ধারিত ভাষণ শুরুর আগেই সভা মুলতুবি করে দিতে বাধ্য হন স্পিকার প্যানেলের দায়িত্বে থাকা বিজেপি সাংসদ সন্ধ্যা রাই।
বিজেপির অভিযোগ, বিকেল পাঁচটা নাগাদ অধিবেশন শুরু হতেই বিরোধী দলের মহিলা সাংসদেরা ট্রেজ়ারি বেঞ্চ ঘিরে ধরেন। তাঁদের হাতে ছিল বড় বড় প্ল্যাকার্ড, তাতে লেখা— “যেটা সঠিক, সেটা করুন।” সংসদের ভেতরেই স্লোগান দিতে থাকেন তাঁরা। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে ধরার উদ্দেশ্যেই এই বিক্ষোভের ছক কষা হয়েছিল।
এই ঘটনার পেছনে রয়েছে আগের দিনের একটি সিদ্ধান্ত। মঙ্গলবার লোকসভায় বিরোধী দলের আট জন সাংসদকে সাসপেন্ড করা হয়। তারই প্রতিবাদে এ দিন সকাল থেকে কংগ্রেস-সহ বিভিন্ন বিরোধী দলের সাংসদেরা একের পর এক বিক্ষোভে সামিল হন। ফলে দিনের শুরু থেকেই দফায় দফায় সভার কাজ বন্ধ রাখতে হয়। বিকেলে আবার অধিবেশন শুরু হলেও কয়েক মিনিটের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
বিজেপির তরফে দাবি করা হয়েছে, মহিলা সাংসদেরা শুধু ট্রেজ়ারি বেঞ্চই নয়, কার্যত শাসকদলের সদস্যদের আসনের চারপাশে অবস্থান নেন। কংগ্রেস সাংসদ বর্ষা গায়কোয়াড়, জ্যোতিমণি-সহ একাধিক মহিলা সাংসদের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করেছে শাসক শিবির। অভিযোগ, সভা মুলতুবি ঘোষণার পরেও কিছু ক্ষণ তাঁরা বেঞ্চ ঘিরে রেখেছিলেন। একাধিক মন্ত্রী সরে যাওয়ার অনুরোধ জানালে পরে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।
বিজেপি সাংসদ মনোজ তিওয়ারি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে বলেন, “আজ যা হয়েছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। পূর্বপরিকল্পিত ভাবে প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণের চেষ্টা করা হয়েছিল। কিরেন রিজিজুর দ্রুত হস্তক্ষেপেই বড় বিপদ এড়ানো গিয়েছে।” তাঁর মতে, বিরোধীদের এই আচরণ সংসদীয় শালীনতার পরিপন্থী।
অন্য দিকে, বিরোধীদের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। এই ঘটনার সময় প্রধানমন্ত্রী লোকসভায় উপস্থিত ছিলেন না। সভা ছেড়ে বেরোনোর সময়ে কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়ঙ্কা গান্ধী কটাক্ষ করে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী ভয় পেয়ে গিয়েছেন বলেই হাউসে আসেননি।” কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের বিরুদ্ধেও তোপ দাগেন তিনি। পরে রাহুল গান্ধী সমাজমাধ্যমে লেখেন, “আমি আগেই বলেছিলাম, প্রধানমন্ত্রী সংসদে আসবেন না। তিনি ভয় পান এবং সত্যের মুখোমুখি হতে চান না।”
সব মিলিয়ে, বাজেট অধিবেশনের মাঝেই এই নাটকীয় পরিস্থিতি সংসদীয় রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। শাসক ও বিরোধী— দুই পক্ষের তরজা আরও তীব্র হবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।
প্রোটিন শেক নয়, ‘ঘরোয়া খিচুড়ি’ই ভরসা: শরীরচর্চার পরে হৃতিক রোশন যা খান, জানলে চমক লাগবেই