লোকসভায় প্রশ্নফাঁস বিল ঘিরে তুমুল বিতর্ক!
লোকসভায় ‘পাবলিক এগ্জ়ামিনেশনস (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬’ নিয়ে বিতর্ক ঘিরে মঙ্গলবার তুমুল রাজনৈতিক তরজা দেখা গেল। প্রশ্নফাঁস রোধে কেন্দ্রের আনা এই সংশোধনী বিলকে ঘিরে সরকার ও বিরোধী শিবির একে অপরের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানায়। বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে সদ্য পদত্যাগী প্রাক্তন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান এবং পরীক্ষায় দুর্নীতির অভিযোগ।
শনিবার আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের দাবির মুখে শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। এরপর সোমবার সংসদে পৌঁছতেই বিজেপি সাংসদরা তাঁকে সংবর্ধনা জানান। এই ঘটনাকে কটাক্ষ করে কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরা লোকসভায় প্রশ্ন তোলেন, “উনি কি সুপারম্যান?” পাশাপাশি তিনি গোধরা-পরবর্তী বিলকিস বানো মামলায় দোষীদের সংবর্ধনা দেওয়ার প্রসঙ্গ টেনেও বিজেপিকে আক্রমণ করেন।
প্রশ্নফাঁস রুখতে কেন্দ্রের আনা সংশোধনী বিলে দোষীদের জন্য সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। তবে বিরোধীদের দাবি, শুধু আইন কঠোর করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়াই সবচেয়ে জরুরি।
বিল পেশের আগে সংসদের বাইরে ও ভিতরে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের উপর পুলিশি পদক্ষেপের প্রতিবাদে সরব হয় বিরোধীরা। যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন দমনে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, পেলেট গান ও অন্যান্য সরঞ্জাম ব্যবহারের অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিবৃতি দাবি করেন বিরোধী সাংসদরা। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় স্পিকার ওম বিড়লা দুপুর পর্যন্ত লোকসভার অধিবেশন মুলতুবি রাখেন।
পরে বিতর্কে অংশ নিয়ে সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব বলেন, ছাত্র আন্দোলনের চাপে সরকার শেষ পর্যন্ত নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে এবং ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ সেই চাপেরই ফল। তাঁর অভিযোগ, আন্দোলনকারীদের উপর পুলিশের অপ্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগ গণতান্ত্রিক পরিবেশের পরিপন্থী।
প্রিয়ঙ্কা গান্ধীও কেন্দ্রকে আক্রমণ করে দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আমলে গত এক দশকে ১৫২টি প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি তিনি প্রশ্ন তোলেন, আন্দোলনরত পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে লাঠিচার্জ ও পেলেট ব্যবহারের নির্দেশ কি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফেই দেওয়া হয়েছিল?
এনটিএ-র কাজ ‘আউটসোর্স’ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলেন অখিলেশ যাদব এবং কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈ। গগৈর বক্তব্য, ২০২৪ সালের নিট প্রশ্নফাঁস মামলার অন্যতম অভিযুক্তকে সিবিআই ক্লিনচিট দিয়েছে। তাঁর প্রশ্ন, আগের আইন যদি যথেষ্ট কার্যকর হয়, তবে আবার সংশোধনের প্রয়োজন কেন পড়ল?
বিরোধীদের অভিযোগের পাল্টা জবাব দেন বিজেপি সাংসদ বাঁশুরি স্বরাজ। তিনি দাবি করেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা শুধুমাত্র এনডিএ আমলের সমস্যা নয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০০৪ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে ইউপিএ সরকারের সময় কেন্দ্র ও কংগ্রেস শাসিত বিভিন্ন রাজ্যে অন্তত ২২টি প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটেছিল, যার মধ্যে ছ’টি হয়েছিল তৎকালীন কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে আয়োজিত পরীক্ষায়।
প্রশ্নফাঁস বিরোধী সংশোধনী বিল নিয়ে আলোচনা চললেও রাজনৈতিক চাপানউতর যে এখনও থামার নয়, লোকসভার বিতর্কে তা আরও একবার স্পষ্ট হয়ে উঠল।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?