মহিলা মোর্চা কি বিজেপিতে নতুন মুখের ‘লঞ্চপ্যাড’?
গত দশকে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির রাজনীতিতে মহিলা মোর্চা এক অনন্য ভূমিকা পালন করেছে। বিশেষ করে তিনটি মুখ—রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, লকেট চট্টোপাধ্যায় ও অগ্নিমিত্রা পাল—যাঁদের মধ্যে কেউই দলের আদ্যন্ত ঘরোয়া নয়, বরং বাইরে থেকে রাজনীতিতে এসেছেন, তাঁরা হয়ে উঠেছিলেন বঙ্গ বিজেপির প্রথম সারির মুখ।
এঁরা তিন জনই আগে থেকে পরিচিত ছিলেন—রূপা ও লকেট অভিনয় জগত থেকে, অগ্নিমিত্রা ফ্যাশন দুনিয়া থেকে। রাজনীতিতে পা রেখেই মহিলা মোর্চার শীর্ষপদে এসে পৌঁছেছেন তাঁরা। শুধু তা-ই নয়, পরবর্তীকালে জাতীয় ও রাজ্য পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পেয়েছেন। রূপা গিয়েছেন সংসদে, লকেট হয়েছেন সাংসদ ও রাজ্য সাধারণ সম্পাদক, অগ্নিমিত্রা হয়েছেন বিধায়ক। রাজ্য বিজেপির সংগঠনেও তাঁদের গুরুত্ব কম নয়।
২০১৫ থেকে ২০২১—এই ছ’বছরে তাঁদের নেতৃত্বে মহিলা মোর্চা রাজ্যের রাজনীতিতে বেশ সক্রিয় ও দৃশ্যমান ছিল। সে সময় বিজেপির মহিলা শাখা বিভিন্ন ইস্যুতে রাস্তায় নেমেছে, জনমত গড়ে তুলেছে, সংবাদ শিরোনামে থেকেছে। অনেকেই মনে করেন, মহিলা মোর্চার ইতিহাসে এত কার্যকর সময় আগে দেখা যায়নি।
কিন্তু এই ‘চটকদার’ উত্থানের পরই যে নেতৃত্ব এসেছেন—তনুজা চক্রবর্তী ও ফাল্গুনী পাত্র—তাঁরা কি সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পেরেছেন? এই প্রশ্ন এখন বিজেপির অন্দরেও ঘুরপাক খাচ্ছে। বিশেষ করে সম্প্রতি রাজ্যে ‘আরজি কর কাণ্ড’ নিয়ে মহিলা মোর্চার তেমন দৃশ্যমান প্রতিবাদ দেখা যায়নি, যার সময় ফাল্গুনী ছিলেন সভানেত্রী। অনেকের মতে, এর ফলে মহিলা মোর্চার আগের সেই গতি ও প্রভাব কিছুটা ফিকে হয়ে এসেছে।
এই প্রেক্ষিতে, বিজেপির অন্দরে এখন ‘আদি বনাম নবাগত’, ‘ঘরোয়া বনাম বহিরাগত’ বিতর্ক আবার মাথাচাড়া দিচ্ছে। কেউ কেউ চাইছেন ঘরোয়া নেতারা অগ্রাধিকার পান, আবার অনেকে বলছেন—রূপা-লকেট-অগ্নিমিত্রার মতো বহিরাগতরাই দলকে নতুন গতিপথ দেখিয়েছেন।
লকেটের রাজনৈতিক যাত্রাও এই বিতর্কের প্রাসঙ্গিক উদাহরণ। যদিও তিনি ২০২৪ সালে লোকসভা ভোটে পরাজিত হয়েছেন এবং ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও হেরেছিলেন, তবে ২০১৯ সালে তিনি হুগলির মতো কঠিন আসন থেকে জয় পেয়েছিলেন, যা তাঁকে একধরনের রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা দিয়েছে। পাশাপাশি ২০২২ সালে উত্তরাখণ্ডে সহকারী পর্যবেক্ষক হিসেবে যেভাবে কাজ করেছেন, তা বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে প্রশংসনীয় হয়েছে। ফলে সাম্প্রতিক হারের পরও সংগঠনে তাঁর গুরুত্ব কমেনি।
এই সব কিছুই ফের এক বার প্রশ্ন তুলেছে—মহিলা মোর্চা কি কেবল একটি সংগঠন, না কি সেটি বিজেপিতে নারীদের জন্য এক প্রকার রাজনৈতিক ‘লঞ্চপ্যাড’? বিশেষ করে যারা জনপ্রিয়তা বা পরিচিতি নিয়ে দলে যোগ দেন, তাঁদের জন্য কি এটি এক সেরা ‘শর্টকাট’?
রাজ্য বিজেপির নতুন নেতৃত্বের হাত ধরে আবার সংগঠনের পুনর্গঠন শুরু হয়েছে। এই সময়েই সেই পুরনো বিতর্ক ফের ফিরে এসেছে আলোচনায়—রূপা-লকেট-অগ্নির পথ ধরেই কি তৈরি হবে ভবিষ্যতের নেতৃত্ব? নাকি ঘরোয়া নেতাদের জন্য খুলবে নতুন দরজা?
সময়ই দেবে তার উত্তর। তবে আপাতত মহিলা মোর্চা এবং তার নেত্রীদের অতীত ও বর্তমান জুড়েই চলছে নতুন নেতৃত্ব তৈরির হিসেব-নিকেশ।
কয়েক সপ্তাহ ধরে নতুন অভ্যাস শুরু করেছেন সোহা আলি খান, শরীর ভালো রাখতে খালি পেটে কী খান তিনি?