মহিলা সংরক্ষণ বিল ঘিরে তুঙ্গে রাজনীতি!
সংসদের বিশেষ অধিবেশন শুরু হতে চলেছে বৃহস্পতিবার থেকে, আর তার আগেই দেশের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ কার্যকর করতে উদ্যোগী হলেও, বিরোধীরা এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, লোকসভায় মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ কার্যকর করতে একাধিক বিল আনা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল, লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ করার প্রস্তাব এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল সংক্রান্ত সংশোধনী। এই বিলগুলি পাশ হলে ভবিষ্যতে লোকসভায় মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
তবে বিতর্কের মূল জায়গা অন্যত্র। বিরোধীদের অভিযোগ— জনগণনার আগে আসন পুনর্বিন্যাস (ডিলিমিটেশন) করে এই সংরক্ষণ চালু করতে চাইছে কেন্দ্র, যা সংবিধানের প্রচলিত নিয়মের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ বিষয়ে কড়া ভাষায় সরব হয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তিনি সমাজমাধ্যমে লেখেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ২০২৯ সালের নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে বিজেপি। তাঁর মতে, এতে ডিলিমিটেশন কমিশনের হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা চলে যাবে, যা গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।
বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-র বৈঠকেও এই বিষয়টি নিয়ে তীব্র সমালোচনা হয়েছে। কংগ্রেস নেতা কেসি বেণুগোপাল সরাসরি বলেন, এই বিল গণতন্ত্রের জন্য হুমকি। তাঁর দাবি, ২০২৩ সালেই মহিলা সংরক্ষণ বিল পাশ হয়েছিল, যেখানে স্পষ্ট বলা ছিল— জনগণনার পরেই আসন পুনর্বিন্যাস করে সংরক্ষণ কার্যকর হবে। কিন্তু এখন সেই প্রক্রিয়া এড়িয়ে তড়িঘড়ি করে নতুন প্রস্তাব আনা হচ্ছে।
বিরোধীদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি— বর্তমান ৫৪৩টি লোকসভা আসনের মধ্যেই সংরক্ষণ চালু করা হোক, আসন সংখ্যা বাড়ানোর প্রয়োজন নেই। তাঁদের মতে, আসন বাড়ানোর সঙ্গে সংরক্ষণকে যুক্ত করা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
অন্যদিকে, কেন্দ্রের যুক্তি— মহিলাদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন ত্বরান্বিত করতেই এই পদক্ষেপ। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এই বিষয়কে বাস্তবায়নের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ জরুরি বলেই মনে করছে সরকার।
সব মিলিয়ে, মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে মতপার্থক্য এখন চরমে। একদিকে নারীর রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর দাবি, অন্যদিকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন— এই দুইয়ের টানাপোড়েনে সংসদের আসন্ন বিশেষ অধিবেশন যে বেশ উত্তাল হতে চলেছে, তা বলাই যায়।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?