ভারত–আমেরিকা বাণিজ্যচুক্তি চূড়ান্ত!
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে ফোনে কথা বলার পরই ভারত–আমেরিকা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যচুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার রাতে (ভারতীয় সময়) ট্রাম্প জানান, ভারতীয় পণ্যের উপর আমেরিকার শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হচ্ছে। এই ঘোষণার পরেই স্বস্তির বার্তা দিল্লিতে। যদিও একটি প্রশ্ন এখনও ঘোরাফেরা করছে—রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে ভারতীয় পণ্যের উপর যে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ জরিমানা চাপানো হয়েছিল, তার ভবিষ্যৎ কী?
ট্রাম্প এই বিষয়ে সরাসরি কিছু না বললেও ইঙ্গিত মিলেছে অন্য জায়গা থেকে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, হোয়াইট হাউসের ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি—এই অতিরিক্ত জরিমানাও তুলে নেওয়ার পথে হাঁটতে পারেন ট্রাম্প। মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোরের মন্তব্যও সেই দিকেই ইঙ্গিতবাহী। জরিমানার প্রসঙ্গ এড়িয়ে তিনি শুধু বলেছেন, “ভারতের ক্ষেত্রে মোট শুল্ক ১৮ শতাংশই প্রযোজ্য হবে।”
যদি সত্যিই অতিরিক্ত জরিমানা প্রত্যাহার করা হয়, তা হলে ভারতের অবস্থান আরও শক্ত হবে। কারণ, সে ক্ষেত্রে আমেরিকার বাজারে ভারতের শুল্ক হার দাঁড়াবে প্রতিবেশী পাকিস্তান (১৯ শতাংশ), বাংলাদেশ (২০ শতাংশ) এবং চিনের (৩০–৩৫ শতাংশ) থেকেও কম।
চুক্তি কার্যকর হলে এর আর্থিক অভিঘাতও কম নয়। ট্রাম্পের দাবি, এই চুক্তির আওতায় ভারত আগামী দিনে ৫০ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি মূল্যের জ্বালানি, প্রযুক্তি, কৃষিপণ্য, কয়লা ও অন্যান্য সামগ্রী আমেরিকা থেকে আমদানি করবে। একই সঙ্গে তিনি সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, প্রধানমন্ত্রী মোদী রাশিয়া থেকে তেল কেনা কমিয়ে আমেরিকা ও ভেনেজুয়েলা থেকে তেল আমদানিতে সম্মত হয়েছেন।
এই ঘোষণার পরেই এক্স-এ নিজের প্রতিক্রিয়া জানান প্রধানমন্ত্রী মোদী। তিনি লেখেন,
“আজ আমার প্রিয় বন্ধু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলতে পেরে আনন্দিত। ভারতে তৈরি পণ্যের উপর শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হয়েছে—এই খবর অত্যন্ত আনন্দের। এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের জন্য ১৪০ কোটি ভারতবাসীর পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে আন্তরিক ধন্যবাদ। বিশ্বের দুই বৃহৎ অর্থনীতি ও বৃহত্তম গণতন্ত্র একসঙ্গে কাজ করলে সাধারণ মানুষই উপকৃত হয়।”
মোদীর বার্তায় শুধু বাণিজ্য নয়, কূটনীতির সুরও স্পষ্ট। তিনি আরও লেখেন, ট্রাম্পের নেতৃত্ব বিশ্বে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ এবং শান্তির উদ্যোগে ভারত সব সময় আমেরিকার পাশে থাকবে।
সব মিলিয়ে, এই চুক্তিকে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায় বলেই দেখছেন কূটনৈতিক মহল। যদিও অতিরিক্ত জরিমানার বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা এখনও বাকি, তবু শুল্ক কমার ঘোষণাই আপাতত ভারতীয় রফতানিকারকদের মুখে হাসি ফিরিয়েছে।
‘স্পিরিট’-এ প্রভাসের ১৬০ কোটি! নায়িকাদের পারিশ্রমিকের ফারাক ঘিরে নতুন চর্চা