ভারত সফরের পর পাকিস্তানের প্রশংসায় রুবিয়ো!
ভারত সফর শেষ করে দেশে ফিরেই পাকিস্তান সম্পর্কে ইতিবাচক মন্তব্য করলেন মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়ো। তাঁর মতে, পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিশেষ করে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি এবং কূটনৈতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে ইসলামাবাদের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন তিনি।
শুক্রবার ওয়াশিংটনে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও বিদেশমন্ত্রী ইশাক দারের সঙ্গে বৈঠকের পর রুবিয়ো বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সুস্থিতি বজায় রাখতে পাকিস্তানের ধারাবাহিক উদ্যোগ উল্লেখযোগ্য। তিনি জানান, দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা, অর্থনীতি এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
রুবিয়োর কথায়, “নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে আরও শক্তিশালী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক গড়ে তোলার বিষয়ে আমরা আলোচনা করেছি।” তাঁর এই মন্তব্যকে পাকিস্তানের প্রতি ওয়াশিংটনের নতুন করে আগ্রহ ও কৌশলগত গুরুত্বের ইঙ্গিত হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রকও বৈঠক নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে। এক সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই বৈঠক দুই দেশের সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতির প্রতিফলন। পাশাপাশি, বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে ইসলামাবাদ ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়েও দুই পক্ষ একমত হয়েছে।
সম্প্রতি পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা বৃদ্ধির পর থেকেই কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে পাকিস্তান। গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে নতুন করে সতর্কবার্তা দেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। সেই প্রেক্ষাপটে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা শুরু করে ইসলামাবাদ।
গত ২১ মে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি ইরান সফরে গিয়ে দেশটির বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপর পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরও তেহরান সফর করেন। ফিরে এসে তিনি জানান, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার লক্ষ্যে পাকিস্তান বিভিন্ন স্তরে কূটনৈতিক যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান বর্তমানে নিজেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে। আর মার্কিন প্রশাসনের সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই প্রচেষ্টাকে কিছুটা হলেও স্বীকৃতি দিয়েছে।
তবে এই কূটনৈতিক সমীকরণ ভবিষ্যতে কোন দিকে গড়ায়, তা নির্ভর করবে আমেরিকা-ইরান সম্পর্কের পরবর্তী গতিপ্রকৃতি এবং পশ্চিম এশিয়ার সামগ্রিক পরিস্থিতির উপর। আপাতত রুবিয়োর মন্তব্যে স্পষ্ট, আঞ্চলিক শান্তি প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে ওয়াশিংটন ইতিবাচক বার্তাই দিতে চেয়েছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?