কলকাতার তিনটি অনন্য জাদুঘর!
কলকাতার নাম শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে পার্ক স্ট্রিটের প্রাচীন মিউজিয়াম, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল বা শিশুদের জন্য চিল্ড্রেনস মিউজিয়াম। কিন্তু শহরের বুকেই আছে এমন তিনটি সংগ্রহশালা, যা সাধারণত দর্শকের চোখে অদেখা থেকে যায়। শীত ফুরোনোর আগে একটু ভিন্ন অভিজ্ঞতার খোঁজে আপনি এগুলো ঘুরে দেখতে পারেন।
১. নৌকা জাদুঘর
নৌকার বিবর্তন, নদীমাতৃক বাংলার ঐতিহ্য—সবই ফুটে উঠেছে কাঁকুড়গাছির অম্বেদকর ভবনের নৌকা মিউজিয়ামে। এখানে ৪৬টি ক্ষুদ্র নৌকার মডেল আছে—যাত্রীবাহী নৌকা, মালবাহী নৌকা, পালতোলা নৌকা, বাইচের নৌকা, মাছ ধরার নৌকা।
সিন্ধু সভ্যতা থেকে শুরু করে বঙ্গীয় নদীমাতৃক সংস্কৃতিতে নৌকার ভূমিকা সুন্দরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। দক্ষিণ দিনাজপুরের রাজবংশী শিল্পীরা নিপুণ কাঠের কাজের মাধ্যমে এই রেপ্লিকা তৈরি করেছেন। ২০১৪ সালে যাত্রা শুরু করা এই জাদুঘর এখনও অপেক্ষাকৃত কম পরিচিত, কিন্তু যারা এসেছে তারা মুগ্ধ হয়ে ফিরে গিয়েছেন।
সময় ও ঠিকানা: সোম–শুক্র, সকাল ১০টা–সন্ধ্যা ৫টা। কাঁকুড়গাছি বা ভিআইপি রোডের বাস ধরে অম্বেদকর ভবনে পৌঁছানো যায়।
২. পোস্টাল মিউজিয়াম
কলকাতার জিপিও ভবনের একতলায় অবস্থিত পোস্টাল মিউজিয়াম। এখানে দেখা যায় ভারতের ডাক ব্যবস্থার ইতিহাস—ডাকটিকিট, ডাকবাক্স, পুরনো মানচিত্র, সীল ও স্ট্যাম্পের বিবর্তন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পাসবই ও স্বাক্ষরও এখানে আছে।
কবির ‘রানার’ কবিতার মতো অতীতের খবর পৌঁছে দেওয়ার দৃশ্য ৩ডি মডেলের মাধ্যমে উপস্থাপিত। এটি শুধু ডাকপ্রেমীদের নয়, ইতিহাসপ্রেমীদেরও আকর্ষণ করবে।
সময় ও ঠিকানা: মঙ্গলবার–রবিবার, সকাল ১০টা–সন্ধ্যা ৫টা। শিয়ালদহ বা হাওড়া থেকে বাস, ট্যাক্সি বা হেঁটে পৌঁছানো যায়।
৩. রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া মিউজিয়াম
নোট এবং মুদ্রার ইতিহাসের এক দারুণ অভিজ্ঞতা দিতে এখানে প্রবেশের আগে বড় একটি টাকার আকৃতির ইন্সটলেশনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। রিজার্ভ ব্যাংকের ইতিহাস, প্রাচীন বিনিময় প্রথা থেকে বর্তমান নোট ব্যবহারের বিবর্তন—সবই মডেল ও তথ্যচিত্রে তুলে ধরা হয়েছে।
এখানে বিভিন্ন দেশের মুদ্রা, রিজার্ভ ব্যাংকের ‘গোল্ড ভল্ট’, সোনার বারের ওজন এবং ব্যবহারও দেখা যায়। নোটের জীবন ও মৃত্যুর ইতিহাসের বিস্তারিত প্রদর্শনী আছে। এই জাদুঘর কেবল মুদ্রা বা অর্থপ্রেমীদের নয়, ছোট-বড় সকল দর্শকের আগ্রহ জাগায়।
সময় ও ঠিকানা: মঙ্গলবার–রবিবার, সকাল ১০টা–সন্ধ্যা ৫টা। হাওড়া বা শিয়ালদহ থেকে ডালহৌসি বা বিবাদি বাগের বাস ধরে লালদিঘির কাছে পৌঁছানো যায়, ঠিকানা ৮, কাউন্সিল হাউস স্ট্রিট।
এই তিনটি সংগ্রহশালা কলকাতার পরিচিত জায়গার বাইরে, কিন্তু ভিন্ন দৃষ্টিতে শহরের ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে দেখার সুযোগ দেয়। শীত ফুরোতে তাদের ভ্রমণ করলে পাবেন নৌকা, ডাক ও মুদ্রার জাদুকরী জগৎ—একই শহরে, নতুন অভিজ্ঞতা।
‘স্পিরিট’-এ প্রভাসের ১৬০ কোটি! নায়িকাদের পারিশ্রমিকের ফারাক ঘিরে নতুন চর্চা