নতুন সিপির আশ্বাস!
কলকাতার নতুন পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরেই স্পষ্ট বার্তা দিলেন Ajay Kumar Nanda—আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন হবে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ। সোমবার দুপুরে Lalbazar-এ দায়িত্ব গ্রহণের পরই তিনি বলেন, “প্রত্যেক বারের মতোই এ বারও শান্তিপূর্ণ ভোট হবে। আমরা তার জন্য প্রস্তুত।”
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে এ দিন সকালে প্রাক্তন নগরপাল Supratim Sarkar-কে সরিয়ে দেওয়া হয়। তাঁর জায়গায় দায়িত্ব পান অজয়। দায়িত্ব নেওয়ার পর সময় নষ্ট না করে তিনি সরাসরি পৌঁছে যান Dorina Crossing-এ, যেখানে মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee-র কর্মসূচি ছিল। গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে মিছিল ও সভার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখেন তিনি, যা থেকে স্পষ্ট—আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কোনও ঝুঁকি নিতে রাজি নন নতুন সিপি।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে তাঁর এই সক্রিয়তা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। শনিবার Girish Park এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনা শহরের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। রাজ্যের মন্ত্রী Shashi Panja-র বাড়িতে হামলার অভিযোগ ওঠে, যদিও পাল্টা অভিযোগও করে বিরোধী পক্ষ। এই প্রসঙ্গে অজয় বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। পুলিশ ইতিমধ্যেই ব্যবস্থা নিচ্ছে, আমিও বিষয়টি নজরে রাখছি।”
নির্বাচনকে সামনে রেখে তাঁর মূল বার্তা—পুলিশ নিরপেক্ষ থাকবে এবং কোনও অশান্তি বরদাস্ত করা হবে না। তিনি জানান, “প্রত্যেক নির্বাচনই চ্যালেঞ্জিং। সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক দল—সবাই পুলিশের কাছে নিরপেক্ষতা আশা করে। সেই প্রত্যাশা পূরণ করাই আমাদের দায়িত্ব।”
একই সঙ্গে তিনি আশ্বাস দেন যে, পর্যাপ্ত বাহিনী ইতিমধ্যেই মোতায়েন রয়েছে এবং আরও বাহিনী আসছে। অর্থাৎ, ভোট চলাকালীন যেকোনও পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য প্রস্তুত কলকাতা পুলিশ।
শুধু জনগণের প্রতিই নয়, নিজের বাহিনীকেও কড়া বার্তা দিয়েছেন নতুন নগরপাল। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, “কলকাতাবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। আর সেই দায়িত্ব পালনে আমরা ব্যর্থ হতে পারি না।” এই বক্তব্য থেকেই বোঝা যাচ্ছে, দায়িত্ব নেওয়ার শুরুতেই কঠোর ও দায়বদ্ধ প্রশাসনিক মনোভাব নিয়েই এগোতে চান তিনি।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ১৯৯৬ ব্যাচের আইপিএস অফিসার অজয়কুমার নন্দের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার হিসেবে মাওবাদী দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। পাশাপাশি Asansol–Durgapur পুলিশ কমিশনার হিসেবেও কাজ করেছেন। কলকাতা পুলিশ ও রাজ্য এসটিএফ-এ তাঁর পূর্ব অভিজ্ঞতা তাঁকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আরও সক্ষম করে তুলেছে বলেই মনে করছেন অনেকে।
সব মিলিয়ে, দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই মাঠে নেমে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা এবং স্পষ্ট বার্তা দেওয়ার মাধ্যমে অজয় বুঝিয়ে দিয়েছেন—নির্বাচনের আগে কলকাতার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা তাঁর কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। এখন দেখার, তাঁর এই আশ্বাস বাস্তবে কতটা সফল হয়।
ধীরে ধীরে কমান চিনির অভ্যাস: স্বাস্থ্য ভালো রাখতে কার্যকর কয়েকটি সহজ উপায়