বোর্ড অফ পিস

‘বোর্ড অফ পিস’ ঘিরে কূটনৈতিক টানাপড়েন: পাকিস্তানের ভূমিকা মানতে নারাজ ইজ়রায়েল

'বোর্ড অফ পিস’ ঘিরে কূটনৈতিক টানাপড়েন! আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে গঠিত নতুন আন্তর্জাতিক মঞ্চ ‘বোর্ড অফ পিস’ শুরু থেকেই আলোচনার কেন্দ্রে। শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তৈরি এই জোটে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্তি…

January 24, 2026
1 min read

‘বোর্ড অফ পিস’ ঘিরে কূটনৈতিক টানাপড়েন!

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে গঠিত নতুন আন্তর্জাতিক মঞ্চ ‘বোর্ড অফ পিস’ শুরু থেকেই আলোচনার কেন্দ্রে। শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তৈরি এই জোটে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্তি নিয়েই এ বার প্রকাশ্য আপত্তি তুলল আমেরিকার ঘনিষ্ঠ মিত্র ইজ়রায়েল। তাদের স্পষ্ট বার্তা—গাজ়ায় শান্তিরক্ষার প্রশ্নে পাকিস্তানের কোনও ভূমিকা তারা মেনে নেবে না।

শুক্রবার সুইৎজ়ারল্যান্ডের দাভোসে ‘বোর্ড অফ পিস’-এর সনদে স্বাক্ষর করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন একাধিক দেশের রাষ্ট্রনেতা, তাঁদের মধ্যে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফও। ট্রাম্পের ডাকে এই জোটে যোগ দেয় ইসলামাবাদ। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তের পরেই আপত্তির সুর শোনা যায় তেল আভিভ থেকে।

দাভোসে এক সাক্ষাৎকারে ইজ়রায়েলের অর্থমন্ত্রী নীর বরকত বলেন, “যে দেশগুলির বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদকে সমর্থনের অভিযোগ রয়েছে, তাদের এমন শান্তি উদ্যোগে জায়গা দেওয়া যায় না। পাকিস্তানও সেই তালিকায় পড়ে।” তাঁর বক্তব্য, গাজ়া অঞ্চলে শান্তিরক্ষার কাজে এমন কোনও দেশকে যুক্ত করা উচিত নয়, যাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন আছে।

এই সিদ্ধান্ত শুধু আন্তর্জাতিক স্তরে নয়, পাকিস্তানের ঘরোয়া রাজনীতিতেও বিতর্ক উসকে দিয়েছে। দেশের একাংশের দাবি, ‘বোর্ড অফ পিস’ আদতে প্যালেস্টাইন-বিরোধী একটি মঞ্চ, যেখানে যোগ দিয়ে ইসলামাবাদ নিজের অবস্থান দুর্বল করছে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এবং তাঁর দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) প্রকাশ্যেই শাহবাজ় শরিফের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে।

ইজ়রায়েলের আপত্তি শুধু পাকিস্তানেই সীমাবদ্ধ নয়। কাতার ও তুরস্ককেও এই জোটে দেখতে চায় না তারা। ইজ়রায়েলি নেতৃত্বের দাবি, এই দেশগুলি গাজ়ায় সক্রিয় ‘জিহাদি সংগঠনগুলিকে’ নীরবে সমর্থন করে। ফলে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে তাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

তবে এক দিকে পাকিস্তান-সহ কয়েকটি দেশের ভূমিকা নিয়ে আপত্তি তুললেও, অন্য দিকে ট্রাম্পের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ইজ়রায়েলের মন্ত্রী। তাঁর মতে, গাজ়ায় শান্তি ফেরানোর ক্ষেত্রে মার্কিন প্রেসিডেন্টের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জাতিসংঘকে পক্ষপাতদুষ্ট আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘বোর্ড অফ পিস’ তুলনায় অনেক বেশি নিরপেক্ষ ও কার্যকর হতে পারে।

সব মিলিয়ে ‘বোর্ড অফ পিস’ গঠনের শুরুতেই স্পষ্ট হয়ে গেল—শান্তির কথা বলা যত সহজ, বাস্তবে কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করা ততটাই জটিল। পাকিস্তানের সদস্যপদ ঘিরে এই বিতর্ক সেই বাস্তবতারই আর এক দৃষ্টান্ত।

‘স্পিরিট’-এ প্রভাসের ১৬০ কোটি! নায়িকাদের পারিশ্রমিকের ফারাক ঘিরে নতুন চর্চা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *