গৌরী খানের ছোঁয়ায় নতুন রেস্তরাঁ ‘লা সোয়ারে’!
রেস্তরাঁর দরজাটা খুলতেই মনে হয়, যেন কোনও সিনেমার সেটে পা রাখলেন। বিশাল হলঘর, উঁচু ছাদ থেকে ঝুলছে স্ফটিকের ঝাড়বাতি, দুই পাশে সিঁড়ি নেমে এসেছে মেজ়ানাইন ফ্লোর থেকে। আলো-ছায়ার খেলায় গোটা জায়গাটা এক মুহূর্তে আপন করে নেয় অতিথিকে। এখানকার ব্যস্ততা চিৎকার করে চোখে পড়ে না— বরং ধীরে ধীরে আপন করে নেয়।
রবীন্দ্রসদন থেকে মিনিট সাতেক হাঁটলেই এই রেস্তরাঁ— নাম ‘লা সোয়ারে’। আর এই ‘লা সোয়ারে’-র প্রতিটি কোণে ছড়িয়ে রয়েছে শাহরুখ খানের স্ত্রী, অন্দরসজ্জাশিল্পী গৌরী খানের রুচিশীল ছোঁয়া। কাঁটা-চামচের রং থেকে শুরু করে ন্যাপকিন, ওয়ালপেপার, টেবিল ল্যাম্প, এমনকি কার্পেটের পোড়া রঙও— সব যেন নিঃশব্দে একে অপরের সঙ্গে মিশে গিয়েছে। কোথাও অতিরিক্ত আড়ম্বর নেই, আবার কোথাও শূন্যতাও নেই। মনে হয়, এভাবেই বহু দিন ধরে এখানে ছিল সবকিছু— শুধু এত দিন চোখে পড়েনি।
রেস্তরাঁর ভাবনায় রয়েছে ফ্রেঞ্চ রিভিয়েরার অনুপ্রেরণা। দক্ষিণ ফ্রান্সের কান, মোনাকো, সাঁ ট্রোপেজ়ের বিলাসী অথচ শান্ত সংস্কৃতি উঠে এসেছে দেয়ালের নকশায়, ল্যাম্পশেডের ছাপায়, আলো-ছায়ার ব্যবহারে। সাদা-ধূসর জমিনে কয়লা-কালো আঁচড়ে ফুটে উঠেছে ভূমধ্যসাগরীয় শহরের আবছা ছবি। ঝাড়বাতি নিভলে ছোট ছোট টেবিল ল্যাম্পের আলোয় চারপাশে তৈরি হবে এক রকম মায়াবী পরিবেশ।
প্রবেশদ্বারেই ‘ক্যাজ়ুয়াল সিটিং এরিয়া’— উঁচু গোল টেবিল, মেরুন মখমলের বার চেয়ার, নির্দিষ্ট দূরত্বে সাজানো বসার জায়গা। একটু এগোলেই বার কাউন্টার, তার উপরে ডিজে নাইটের আয়োজন। আর মেজ়ানাইন ফ্লোরে আরামদায়ক সোফা, নরম আলো, কাঠের মেঝেতে ব্যবহৃত কার্পেট— সব মিলিয়ে দীর্ঘ আড্ডার আদর্শ জায়গা।
খাবারের ক্ষেত্রেও বৈচিত্র্য। ফ্রেঞ্চ পরিবেশের মধ্যেই মিলবে জাপানি সুশি, আবার চাইলে মোগলাই কাবাবও। অর্থাৎ পরিবেশ যেমন আন্তর্জাতিক, স্বাদও তেমনই বহুমুখী।
এই রেস্তরাঁর কর্ণধার প্রিয়াংশ শাহের এটি প্রথম উদ্যোগ। তিনি জানালেন, প্রথম কাজ বলেই তিনি চেয়েছিলেন আলাদা কিছু করতে। সেই ভাবনা থেকেই গৌরী খানের সঙ্গে যোগাযোগ। যদিও গৌরী প্রথমেই রাজি হননি। প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে প্রিয়াংশের ভাবনা, পরিকল্পনা, স্বপ্ন— সব শুনে তবেই সম্মতি দিয়েছিলেন।
নিজের নকশা করা এই রেস্তরাঁর উদ্বোধনে গৌরী খান বলিউডের বন্ধুদের নিয়ে কলকাতায় এসেছিলেন। তাঁর সেই উপস্থিতি যেন শহরের বুকে এক টুকরো ‘মন্নত’ এনে দিল।
ফলে শুধু শাহরুখভক্তই নন, যাঁরা একটু সুন্দর পরিবেশে সময় কাটাতে ভালোবাসেন, তাঁদের কাছেও ‘লা সোয়ারে’ হয়ে উঠেছে কলকাতার নতুন ঠিকানা— যেখানে বিলাসিতা চুপচাপ বসে থাকে আভিজাত্যের পাশে, আর শহরের কোলাহলের মাঝেই পাওয়া যায় একটুখানি শান্তির ছোঁয়া।
‘স্পিরিট’-এ প্রভাসের ১৬০ কোটি! নায়িকাদের পারিশ্রমিকের ফারাক ঘিরে নতুন চর্চা