যুদ্ধের ছায়া ‘কিং’-এ!
পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতির প্রভাব এবার পড়ল বলিউডেও। শাহরুখ খান অভিনীত বহু প্রতীক্ষিত ছবি ‘কিং’—যার মুক্তি নির্ধারিত ২০২৬ সালের ডিসেম্বর—তার শুটিং পরিকল্পনায় বড় বদল আনতে বাধ্য হলেন নির্মাতারা।
ছবিটির শুটিং গত দু’বছর ধরে চললেও এখনও কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাকি। বিশেষ করে দুবাইয়ের মরুভূমিতে একটি বড় অ্যাকশন সিকোয়েন্সের পরিকল্পনা ছিল, যেখানে শাহরুখের সঙ্গে দেখা যাওয়ার কথা তাঁর মেয়ে সুহানা খান এবং অনিল কপূর-কে। কিন্তু বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি মাথায় রেখে সেই শুটিং আপাতত স্থগিত করা হয়েছে।
সূত্রের খবর, সব ধরনের অনুমতি আগেই নেওয়া হয়েছিল এবং এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই শুটিং শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পশ্চিম এশিয়ার ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠা পরিস্থিতিতে নির্মাতারা কোনও ঝুঁকি নিতে চাননি। কলাকুশলীদের নিরাপত্তাকে সর্বাগ্রে রেখে বিদেশে শুটিং বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে শুটিং থেমে থাকছে না। বরং বিকল্প পরিকল্পনায় ইতিমধ্যেই কাজ শুরু হয়ে গেছে। মুম্বইয়ের ভিলে পার্লে এলাকায় বিশাল সেট তৈরি করা হচ্ছে, যেখানে দুবাইয়ের মরুভূমির পরিবেশ পুনর্নির্মাণ করা হবে। সেই সেটেই এখন শুটিংয়ের পরিকল্পনা চলছে। অর্থাৎ, প্রযুক্তির সাহায্যে একই আবহ তৈরি করে ছবির কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।
ছবিটির নির্মাণ নিয়েও রয়েছে একাধিক চমক। প্রথমে পরিচালক ছিলেন সুজয় ঘোষ, তবে পরে দায়িত্ব নেন সিদ্ধার্থ আনন্দ। ফলে ছবির স্কেল ও অ্যাকশন—দুটোই আরও বড় আকারে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে।
‘কিং’ শুধু শাহরুখের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং তাঁর কন্যা সুহানার ক্যারিয়ারের জন্যও একটি বড় মাইলস্টোন হতে চলেছে। বাবা-মেয়ের একসঙ্গে পর্দায় উপস্থিতি নিয়েই ইতিমধ্যেই দর্শকদের মধ্যে প্রবল আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৩ সালে শাহরুখের ‘পাঠান’, ‘জওয়ান’ এবং ‘ডাঙ্কি’—তিনটি ছবিই বক্স অফিসে বিপুল সাফল্য পেয়েছিল। প্রায় তিন বছর পর তিনি আবার বড় পর্দায় ফিরছেন ‘কিং’ নিয়ে। ফলে প্রত্যাশার চাপও যথেষ্ট।
সব মিলিয়ে, বাস্তবের অস্থিরতা যে কী ভাবে সিনেমার জগতেও প্রভাব ফেলতে পারে, তারই আর এক উদাহরণ এই ঘটনা। তবে বাধা সত্ত্বেও থেমে নেই কাজ—বরং নতুন পরিকল্পনায় আরও বড় করে ফিরতে চাইছে ‘কিং’।
শেষ লড়াইয়ের গল্প: জল থেকে তোলার পরও বেঁচে ছিলেন রাহুল, তবু বাঁচানো গেল না