আইপ্যাক মামলায় মোড় ঘোরাল হাই কোর্ট!
আইপ্যাক-কাণ্ডে কলকাতা হাই কোর্টে বুধবার গুরুত্বপূর্ণ মোড় এল। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ তৃণমূলের করা মামলাটি নিষ্পত্তি করে দিলেও, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) আবেদন আপাতত মুলতুবি রাখলেন। কারণ একটাই— এই সংক্রান্ত একই ধরনের মামলা ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। ফলে শীর্ষ আদালতের রায় না হওয়া পর্যন্ত হাই কোর্টে ইডির মামলার শুনানি স্থগিত থাকবে।
কেন তৃণমূলের মামলা নিষ্পত্তি হল?
তৃণমূলের মূল আবেদন ছিল, আইপ্যাক সংক্রান্ত রাজনৈতিক গোপন তথ্য যেন কোনও ভাবেই বাইরে না যায় বা অন্য কারও হাতে না পড়ে। এই তথ্যের সুরক্ষাই ছিল তাঁদের প্রধান দাবি। বুধবার শুনানিতে ইডির তরফে স্পষ্ট জানানো হয়, গত ৮ জানুয়ারি আইপ্যাকের সল্টলেক অফিস বা সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি থেকে কোনও নথি, ফাইল বা ডিজিটাল তথ্য বাজেয়াপ্ত করা হয়নি। এমনকি কোনও তথ্যের ব্যাকআপও নেওয়া হয়নি।
এই বক্তব্যের পক্ষে ইডি আদালতে পঞ্চনামাও জমা দেয়। তৃণমূলের আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী ইডির এই বক্তব্য আদালতের নথিতে রেকর্ড করার আবেদন জানান। বিচারপতি ঘোষ সেই আবেদন মেনে নেন এবং বলেন, যেহেতু কিছুই বাজেয়াপ্ত বা কপি করা হয়নি, তাই তৃণমূলের মামলায় আর আলাদা করে কোনও নির্দেশ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। সেই কারণেই মামলাটি নিষ্পত্তি করে দেওয়া হয়।
ইডির মামলা কেন মুলতুবি?
ইডির আইনজীবী এস ভি রাজু শুরু থেকেই জানান, এই বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। এক সপ্তাহের মধ্যেই সেখানে শুনানি রয়েছে। তাই তার আগে হাই কোর্টে শুনানি হলে দ্বৈত সিদ্ধান্তের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। বিচারপতি ঘোষ এই যুক্তি গ্রহণ করে জানান, সুপ্রিম কোর্টের মামলার অগ্রগতি দেখেই হাই কোর্টে ইডির আবেদন পুনরায় শোনা হবে।
ইডির আপত্তি কোথায়?
ইডি আদালতে একাধিক প্রশ্ন তোলে। তাদের বক্তব্য—
- আইপ্যাকের অফিস ও কর্ণধারের বাড়িতে তল্লাশি হলেও মামলা করেছে তৃণমূল, আইপ্যাক নয়— কেন?
- মামলার আবেদনকারী শুভাশিস চক্রবর্তী তল্লাশির সময় ঘটনাস্থলে ছিলেন না, তবু কেন তাঁর নামেই আবেদন?
- মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্যের ডিজি ও কলকাতার পুলিশ কমিশনার তল্লাশির সময় উপস্থিত ছিলেন। অথচ মামলায় তাঁদের ভূমিকার কোনও উল্লেখ নেই কেন?
ইডির দাবি, এই তিন জনকে মামলার পক্ষভুক্ত না করলে আবেদনটির শুনানি গ্রহণযোগ্য নয়।
কেন্দ্রের বক্তব্য কী?
কেন্দ্রের আইনজীবী কুমারজ্যোতি তিওয়ারি বলেন, আইপ্যাকের অফিসে তল্লাশির সঙ্গে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন বা এসআইআর-এর কোনও সম্পর্ক নেই। তাঁর কথায়, “তৃণমূলের আবেদনে শুধু নির্বাচন আর রাজনৈতিক প্রসঙ্গ রয়েছে। কিন্তু কয়লা কেলেঙ্কারি সংক্রান্ত তদন্তের সঙ্গে তার যোগ কোথায়?”
এখন কী হবে?
এখন সকলের নজর সুপ্রিম কোর্টের দিকে। শীর্ষ আদালত ইডির মামলায় কী নির্দেশ দেয়, তার উপরই নির্ভর করবে হাই কোর্টে পরবর্তী শুনানির ভবিষ্যৎ। আপাতত আইপ্যাক-কাণ্ডে আইনি লড়াইয়ের বল সুপ্রিম কোর্টের কোর্টেই গড়াচ্ছে।
‘স্পিরিট’-এ প্রভাসের ১৬০ কোটি! নায়িকাদের পারিশ্রমিকের ফারাক ঘিরে নতুন চর্চা