বিশ্বনীতির নিয়ম ভাঙছে শক্তির দম্ভ?!
বিশ্ব রাজনীতির মঞ্চে ক্রমেই চড়ছে উত্তাপ। সেই আবহেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন আমেরিকার বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় মুখ খুললেন জার্মানির প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্ক-ওয়াল্টার স্টাইনমায়ার। তাঁর অভিযোগ, আন্তর্জাতিক নিয়ম-কানুন ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতার যে কাঠামো এত দিন ধরে বিশ্বকে সামলে রেখেছে, আমেরিকা ধীরে ধীরে তা ভেঙে দিচ্ছে।
ভেনেজ়ুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযানের প্রসঙ্গ টেনে স্টাইনমায়ার স্পষ্ট বলেন, “আন্তর্জাতিক বিধিব্যবস্থা যদি ভেঙে পড়ে, তা হলে গোটা পৃথিবী লুটেরাদের আখড়ায় পরিণত হবে। তখন যার যত শক্তি, সে ততটাই দখল কায়েম করবে।” তাঁর মতে, এই প্রবণতা গণতন্ত্রকেও দুর্বল করে দিচ্ছে। বিশ্ব রাজনীতির পরিসরে আগ্রাসন আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
জার্মান প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্যের নেপথ্যে রয়েছে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক একটি সাক্ষাৎকার। সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, অন্য দেশে সেনা অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে তাঁকে কোনও আন্তর্জাতিক আইন বা বিধির তোয়াক্কা করতে হয় না। তাঁর কথায়, “আমাকে থামাতে পারে একটাই জিনিস— আমার নিজের নৈতিকতা, আমার নিজের মন।” এই বক্তব্য ইউরোপ জুড়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
বিশেষ করে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ডকে আমেরিকার অংশ করতেই হবে, কারণ মালিকানা নাকি কৌশলগত শক্তি দেয়। প্রয়োজনে সামরিক পথেও এগোনোর ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। এই অবস্থান শুধু ডেনমার্ক নয়, গোটা ইউরোপের কাছেই অস্বস্তিকর।
স্টাইনমায়ার এই প্রসঙ্গে বলেন, ইতিহাস আমাদের শিক্ষা দেয়— শক্তির জোরে সীমান্ত বদলের চেষ্টা শেষ পর্যন্ত ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনে। তিনি রাশিয়ার ক্রাইমিয়া দখল ও ইউক্রেনে আগ্রাসনের উদাহরণ টেনে জানান, সেই ঘটনাগুলি ছিল বিশ্ব রাজনীতির এক ভয়ংকর মোড়। তাঁর মতে, আমেরিকার সাম্প্রতিক আচরণও একই রকম এক নতুন যুগের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে নিয়মের বদলে দাপটই শেষ কথা হয়ে উঠতে পারে।
জার্মান প্রেসিডেন্টের বক্তব্যে স্পষ্ট উদ্বেগ— যদি আন্তর্জাতিক আইন ও পারস্পরিক সম্মানকে পাশ কাটিয়ে একক ক্ষমতার প্রদর্শন চলতেই থাকে, তবে বিশ্বব্যবস্থা গভীর সঙ্কটে পড়বে। তাঁর সতর্কবার্তা, আজ যদি এই প্রবণতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো না যায়, তবে আগামী দিনে ছোট দেশগুলির নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব আরও বড় প্রশ্নের মুখে পড়বে।
এই মন্তব্য শুধু আমেরিকার উদ্দেশে নয়, বরং গোটা বিশ্বের জন্যই এক বার্তা— শক্তির দম্ভ নয়, নিয়ম আর সংলাপই আন্তর্জাতিক রাজনীতির আসল ভিত্তি হওয়া উচিত।
ভিন্রাজ্যের ভোটারদের স্বস্তি: শুনানিতে হাজিরা নয়, অনলাইনেই জমা দেওয়া যাবে নথি