ভেনেজ়ুয়েলার তেলে নজর আমেরিকার: ৩–৫ কোটি ব্যারেল যাবে ওয়াশিংটনে, বিক্রির রাশ থাকবে ট্রাম্পের হাতেই

ভেনেজ়ুয়েলার তেলে নজর আমেরিকার! ভেনেজ়ুয়েলা থেকে তেল নেওয়ার ইচ্ছার কথা আগেই জানিয়েছিলেন Donald Trump। এ বার মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও এক ধাপ এগিয়ে স্পষ্ট করে দিলেন— ঠিক কতটা তেল আমেরিকা পেতে…

January 7, 2026
1 min read

ভেনেজ়ুয়েলার তেলে নজর আমেরিকার!

ভেনেজ়ুয়েলা থেকে তেল নেওয়ার ইচ্ছার কথা আগেই জানিয়েছিলেন Donald Trump। এ বার মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও এক ধাপ এগিয়ে স্পষ্ট করে দিলেন— ঠিক কতটা তেল আমেরিকা পেতে চলেছে এবং সেই তেলের বিক্রি থেকে আসা অর্থের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে। ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ভেনেজ়ুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রশাসন আমেরিকাকে ৩ থেকে ৫ কোটি ব্যারেল ‘উচ্চমানের’ অপরিশোধিত তেল দেবে। শুধু তা-ই নয়, বাজারদরে বিক্রি হওয়া সেই তেলের অর্থও থাকবে তাঁর প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে।

ট্রাম্পের বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে দ্রুততার কথা। তিনি জানিয়েছেন, জ্বালানিসচিব ক্রিস রাইটকে অবিলম্বে পরিকল্পনা কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর ব্যাখ্যায়, স্টোরেজ জাহাজে করে তেল এনে সরাসরি আমেরিকার বন্দরে নামানো হবে। এতে সরবরাহ শৃঙ্খল ছোট হবে, সময় বাঁচবে— এবং বাজারে প্রভাবও দ্রুত পড়বে।

যদিও ওয়াশিংটনের তরফে বলা হচ্ছে, আমেরিকা ভেনেজ়ুয়েলা দখল করতে চায় না, তবু ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে ভিন্ন ইঙ্গিত দেখছেন অনেকেই। কারণ, বিশ্বের সবচেয়ে বড় অপরিশোধিত তৈলভান্ডারের দেশ Venezuela— আনুমানিক ৩০ হাজার কোটি ব্যারেল তেল রয়েছে তাদের মাটির নিচে। সমালোচকদের মতে, এই বিপুল সম্পদের দিকেই আসলে নজর ট্রাম্পের।

সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ সেই সন্দেহ আরও ঘনীভূত করেছে। ভেনেজ়ুয়েলার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তাঁর প্রাসাদ থেকেই সস্ত্রীক আটক করে আমেরিকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। নিউ ইয়র্কের আদালতে তাঁর বিচার শুরু হয়েছে। মাদুরোর অনুপস্থিতিতে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রোড্রিগেস। ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন, আপাতত ভেনেজ়ুয়েলায় কোনও নির্বাচন হবে না— এবং এই অন্তর্বর্তী সরকারের উপর আমেরিকার প্রভাব থাকবে।

এই প্রেক্ষিতে ট্রাম্পের তেল-সংক্রান্ত ঘোষণা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। অনেকের ধারণা, তেলের বিক্রির টাকা নিজের প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রাখার কথা বলে আসলে ভেনেজ়ুয়েলার অর্থনীতির শিরায় হাত রাখার বার্তাই দিচ্ছেন তিনি। যদিও ট্রাম্পের দাবি, ওই অর্থ ভেনেজ়ুয়েলা এবং আমেরিকা— দু’দেশেরই কল্যাণে খরচ করা হবে।

তবে বাস্তবে কী ভাবে সেই ‘কল্যাণ’ সংজ্ঞায়িত হবে, তা এখনও অস্পষ্ট। ভেনেজ়ুয়েলার রাজনৈতিক অস্থিরতা, আন্তর্জাতিক চাপ এবং অভ্যন্তরীণ সংকটের মধ্যে দাঁড়িয়ে ট্রাম্পের এই ঘোষণা শুধু জ্বালানি বাজার নয়, কূটনীতির ময়দানেও নতুন উত্তাপ ছড়াচ্ছে। প্রশ্ন একটাই— তেল কি শুধুই বাণিজ্য, নাকি ক্ষমতার নতুন চাবিকাঠি?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *