ভেনেজ়ুয়েলার পর ট্রাম্পের চোখ কি আরও চার ‘তেলের দেশে’!
নিজেকে ‘শান্তিকামী প্রেসিডেন্ট’ বলেই তুলে ধরেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। দাবি করেছিলেন, তাঁর কথাতেই থেমেছে ভারত-পাকিস্তান সহ বিশ্বের আটটি যুদ্ধ। নোবেল শান্তি পুরস্কারের দাবিদার হওয়ার কথাও অকপটে বলেছেন বহু বার। কিন্তু নতুন বছরের শুরুতেই সেই ভাবমূর্তিতে বড়সড় ফাটল ধরাল হোয়াইট হাউসের এক সিদ্ধান্ত। ভেনেজ়ুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে সে দেশের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সস্ত্রীক গ্রেফতার করে নিউ ইয়র্কে উড়িয়ে এনেছে মার্কিন ডেল্টা ফোর্স। আর তার পরেই শুরু হয়েছে নতুন আশঙ্কা— এ বার কি অন্য ‘তেলের দেশ’-গুলিও ট্রাম্পের নিশানায়?
মাত্র কয়েক ঘণ্টার অভিযানে সফল ‘অপারেশন অ্যাবসোলিউট রিজ়লভ’। এই সাফল্যের পরই ট্রাম্প নিজের সমাজমাধ্যমে কার্যত হুঁশিয়ারি দিয়ে বসেন আরও কয়েকটি দেশকে। মেক্সিকো, কলম্বিয়া, কিউবা— উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার এই তিন দেশকে সরাসরি বার্তা দেন তিনি। অভিযোগ একটাই— মাদক কারবার আর অবৈধ অনুপ্রবেশ। ট্রাম্পের স্পষ্ট কথা, “মাদক সন্ত্রাস রুখতে প্রয়োজনে আমেরিকা ওই সব দেশে পা রাখতেও দ্বিধা করবে না।”
বিশেষ করে মেক্সিকো নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক দীর্ঘ দিন ধরেই টানাপড়েনের। অবৈধ অভিবাসন আর সীমান্ত সমস্যা নিয়ে দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় ফিরেই সুর চড়ান ট্রাম্প। মেক্সিকোর বর্তমান প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শিনবম পার্ডোর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক যে খুব একটা মসৃণ নয়, তা বলাই বাহুল্য। উপরন্তু, ট্রাম্পের নতুন শুল্কনীতিতে আর্থিক চাপে পড়েছে মেক্সিকোর ব্যবসায়ীরা। ভেনেজ়ুয়েলা অভিযানের তীব্র নিন্দা করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
কলম্বিয়ার ক্ষেত্রেও একই ছবি। ট্রাম্প সে দেশের প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেট্রোর বিরুদ্ধে সরাসরি মাদক উৎপাদনের অভিযোগ তুলেছেন। দাবি, কোকেন কারখানা থেকে আমেরিকায় ঢুকছে মাদক। কিউবার শাসক মিগুয়েল দিয়াজ়-কানেলকে তো ‘ব্যর্থ নেতা’ বলেই দাগিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর বক্তব্য, কিউবার প্রশাসনিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, আর জনগণ মুক্তির অপেক্ষায়।
এই তালিকায় নতুন করে যোগ হয়েছে ইরান। মুদ্রাস্ফীতি আর মূল্যবৃদ্ধির জেরে সেখানে চলা বিক্ষোভ দমন নিয়ে ট্রাম্পের কড়া মন্তব্য বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তুলেছে। “নিরীহ মানুষকে গুলি করলে আমেরিকা চুপ থাকবে না”— এই বার্তাকে অনেকেই সামরিক হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছেন।
ইতিহাস বলছে, এই দেশগুলির সঙ্গে অতীতেও সংঘাতে জড়িয়েছে আমেরিকা— মেক্সিকোর সঙ্গে টেক্সাস যুদ্ধ, কিউবায় পিগস উপসাগরের অভিযান, ইরানে ব্যর্থ ‘অপারেশন ইগল ক্লজ়’। সেই স্মৃতি এখনও টাটকা। ভেনেজ়ুয়েলার পর যদি সত্যিই আরও চার দেশে আগ্রাসনের পথে হাঁটে ওয়াশিংটন, তবে ‘শান্তিকামী ট্রাম্প’-এর দাবি যে প্রশ্নের মুখে পড়বে, তা বলাই বাহুল্য। নতুন বছর শুরু হতেই তাই বিশ্ব তাকিয়ে— পরের লক্ষ্য কোন দেশ?
আট বছর পরে একই ফ্রেমে: জিতের সঙ্গে পুরনো দিনে ফিরে গেলেন কাঞ্চন