‘রাম’ নয়, ‘রাম-সদৃশ’!
মদের বোতলের লেবেলে ‘রাম’-এর বদলে ‘রাম-সদৃশ’ উল্লেখ করতে হবে—খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই নির্দেশ ঘিরে আইনি লড়াইয়ে জড়িয়েছে জনপ্রিয় মদ প্রস্তুতকারী সংস্থা ওল্ড মঙ্ক। মহারাষ্ট্রে নির্দিষ্ট কয়েকটি পণ্যের বিক্রি বন্ধ থাকায় ৫০০ কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি। তাদের আরও দাবি, এই নিষেধাজ্ঞার জেরে রাজ্য সরকারের আবগারি রাজস্বেও বড় অঙ্কের প্রভাব পড়েছে।
কেন আপত্তি এফএসএসএআইয়ের?
বিতর্কের সূত্রপাত গত অগস্টে। ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (এফএসএসএআই) জানায়, মোহন রকি স্প্রিংওয়াটার প্রাইভেট লিমিটেডের তৈরি কয়েকটি পণ্যে অ্যালকোহলযুক্ত পানীয়ের স্বাদ ও গন্ধ বাড়াতে কৃত্রিম বা প্রকৃতির অনুরূপ ফ্লেভার ব্যবহার করা হয়েছে। সংস্থাটির বক্তব্য, এই ধরনের উপাদান ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্ধারিত উৎপাদন ও লেবেলিংয়ের নিয়ম মানা জরুরি।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার যুক্তি, কোনও পানীয়ে অতিরিক্ত ফ্লেভার যোগ করা হলে তার প্রকৃত উপাদান ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে ক্রেতাদের স্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন। তাই পণ্যের লেবেলে সেটিকে ‘রাম’ না বলে ‘রাম-সদৃশ’ বা ফ্লেভারযুক্ত স্পিরিট হিসেবে চিহ্নিত করার দাবি জানিয়েছে এফএসএসএআই।
কোন কোন পণ্যের বিক্রি বন্ধ?
মহারাষ্ট্রে ওল্ড মঙ্কের তিনটি পণ্য—ওল্ড মঙ্ক দ্য লিজেন্ড, ওল্ড মঙ্ক গোল্ড রিজ়ার্ভ এবং ওল্ড মঙ্ক ট্রিপল এক্স ম্যাচিয়োরড রাম—নিয়ে আপত্তি উঠেছে। পাশাপাশি, বোতলের গায়ে ‘৭ ইয়ার্স ওল্ড ব্লেন্ডেড’ এবং ‘ভেরি ওল্ড ভ্যাটেড’-এর মতো বয়স সংক্রান্ত বিবরণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
ওল্ড মঙ্কের প্রস্তুতকারক সংস্থার আইনজীবী ভেঙ্কটেশ ঢোন্ড বম্বে হাই কোর্টে দাবি করেন, মহারাষ্ট্রে বিক্রি বন্ধ থাকায় সংস্থার ৫০০ কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে। তাঁর আরও দাবি, রাজ্যের আবগারি দফতরের প্রায় ৩৫০ কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে এবং প্রায় ৩০০ শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। তবে এই পরিসংখ্যানগুলি সংস্থার তরফে আদালতে করা দাবি।
আদালতে কী হল?
সোমবার বম্বে হাই কোর্টে মামলাটির শুনানি হয়। এফএসএসএআইয়ের পক্ষে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল অনিল সিংহ জানান, লেবেলে প্রস্তাবিত সংশোধন করতে রাজি হলে তবেই সংশ্লিষ্ট পণ্যগুলির বিক্রির অনুমতি দেওয়া হবে।
অন্য দিকে, নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে ওল্ড মঙ্কের প্রস্তুতকারক সংস্থা। সংশোধিত লেবেলের খসড়া জমা দিলেও তা নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন পায়নি বলে জানা গিয়েছে। নিষেধাজ্ঞার উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ চেয়ে সংস্থার আবেদনও আগেই খারিজ হয়েছে। এ বার মামলাটির চূড়ান্ত শুনানির জন্য ২৩ অক্টোবর দিন ধার্য করেছে আদালত।
ছয় দশকেরও বেশি পুরনো ব্র্যান্ড
১৯৫৪ সালে বাজারে আসে ওল্ড মঙ্ক। দীর্ঘ সময় ধরে ভারতীয় মদ্যপানকারীদের মধ্যে ব্র্যান্ডটি পরিচিতি পেয়েছে। রাম হিসেবে ওল্ড মঙ্কের জনপ্রিয়তা গড়ে ওঠার পিছনে কপিল মোহনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। সেই ব্র্যান্ডের পণ্যের নাম ও লেবেলিং নিয়ে এফএসএসএআইয়ের আপত্তি এখন বড় আইনি ও বাণিজ্যিক বিরোধের রূপ নিয়েছে। আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকেই নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।