কলকাতার কাছেই শীতের নিঃশ্বাস!
শীতের সকালে ঝকঝকে রোদ আর হিমেল হাওয়া গায়ে লাগতেই মনটা কেমন যেন বেরিয়ে পড়তে চায়। কিন্তু লম্বা ছুটি নেই, শিমলা বা কাশ্মীর যাওয়ার সময়ও নেই— এই আক্ষেপে অনেকেই ভ্রমণের পরিকল্পনা বাতিল করে দেন। অথচ কলকাতা থেকে খুব বেশি দূরে নয় এমন তিনটি গন্তব্য আছে, যেখানে ২–৩ দিনের ছোট ছুটিতেই পাহাড়, অরণ্য, ঝর্না আর ইতিহাস— সবকিছুর স্বাদ পাওয়া যায়। পড়শি রাজ্য বিহার, ঝাড়খণ্ড আর ওড়িশার এই তিন ঠিকানা শীতের ভ্রমণের জন্য একেবারে আদর্শ।
সারান্ডা: পাহাড়, অরণ্য আর সূর্যাস্তের দেশ
ওড়িশা–ঝাড়খণ্ড সীমান্তে অবস্থিত সারান্ডা মানেই সাতশো পাহাড়ের বিস্তৃত অরণ্যরাজি। ভোরবেলা কলকাতা থেকে রওনা দিলে বিকেলের মধ্যেই পৌঁছে যেতে পারেন পাহাড়ের কোলে। মেঘাতুবুরু বা কিরিবুরু থেকে দেখা সূর্যাস্ত আজীবন মনে গেঁথে থাকার মতো।
কারো নদী, ঝিকিরার ঝর্না, ঘন থলকোবাদ অরণ্য, বলানি খনি কিংবা জটেশ্বর শিবমন্দির— সব মিলিয়ে সারান্ডা একেবারে প্রকৃতিপ্রেমীদের স্বর্গ। সন্ধেবেলা আদিবাসী হাটে ঘোরাঘুরি, মহুয়া বা গুলগুলার স্বাদ— সফরকে করে তোলে আরও আলাদা।
কী ভাবে যাবেন:
হাওড়া থেকে বড়বিলগামী জনশতাব্দী এক্সপ্রেস বা রাতের সমলেশ্বরী এক্সপ্রেস ধরে সহজেই পৌঁছনো যায়।
থাকবেন কোথায়:
বড়বিলের হোটেল বা থলকোবাদে বন দফতরের অতিথি নিবাস— আগে থেকে বুকিং জরুরি।
সাসারাম: ইতিহাসের ছায়ায় পাহাড় আর ঝর্না
বিহারের সাসারাম মানেই ইতিহাস আর প্রকৃতির অপূর্ব মেলবন্ধন। কৃত্রিম জলাশয়ের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা শের শাহ সুরির সমাধি দেখলেই বোঝা যায় মুঘল-পূর্ব স্থাপত্যের সৌন্দর্য কতটা সমৃদ্ধ।
সাসারাম থেকে সড়কপথে এগোলেই কৈমুর পাহাড়। পনওয়াড়া অরণ্যে ঘেরা মুন্ডেশ্বরী মন্দির, মনঝর কুণ্ড ও ধুঁয়াকুণ্ড জলপ্রপাত— সব মিলিয়ে জায়গাটা একেবারে ছবির মতো। ঝুলন্ত সেতু পেরিয়ে তুতলাভবানী মন্দিরে পৌঁছনোর অভিজ্ঞতাও আলাদা করে মনে থাকবে।
কী ভাবে যাবেন:
হাওড়া থেকে দুন এক্সপ্রেস, পূর্বা, নেতাজি এক্সপ্রেস-সহ একাধিক ট্রেনে রাতেই পৌঁছে যাওয়া যায়।
থাকবেন কোথায়:
সাসারাম ও রোহতাসে থাকার জন্য হোটেলের অভাব নেই।
রাবণধারা: ওড়িশার নিভৃত জলপ্রপাতের রাজ্য
কালাহান্ডির রাবণধারা শীতের ছোট ছুটির জন্য একদম পারফেক্ট। পাহাড় আর অরণ্যের মাঝে লুকিয়ে থাকা এই জলপ্রপাত আসলে একাধিক ছোট-বড় ঝর্নার সমষ্টি— বড় রাবণধারা, সানা রাবণধারা এবং ট্রেকিং করলে উপর রাবণধারা।
ওড়িশা সরকারের ইকো-ট্যুরিজ়ম নেচার ক্যাম্পে থাকলে প্রকৃতির মাঝেই কাটবে দিনরাত। কাছেই ডোখরিচঞ্চরা, সাসপাদর জলপ্রপাত আর কারলাপাত অভয়ারণ্য ঘুরে নেওয়া যায়।
কী ভাবে যাবেন:
হাওড়া থেকে সমলেশ্বরী এক্সপ্রেসে নরলা রোড বা ভবানীপাটনা পৌঁছে সেখান থেকে গাড়িতে।
থাকবেন কোথায়:
ভবানীপাটনার হোটেল বা রাবণধারার ইকো-ট্যুরিজ়ম কটেজ।