শিশুকে নিয়ে প্রথম বিমান সফর?
শিশুকে প্রথম বার বিমানে নিয়ে যাওয়ার আগে অনেক অভিভাবকের মনেই নানা প্রশ্ন থাকে। বিমানে ওঠার বয়স থেকে শুরু করে আসন নির্বাচন, খাবার, কানের অস্বস্তি—সব কিছু নিয়ে আগে থেকে প্রস্তুতি থাকলে সফর অনেকটাই স্বস্তির হতে পারে।
শিশুকে নিয়ে বিমানে ওঠার আগে কী কী জানবেন?
১. শিশুর বয়স:
অনেক বিমান সংস্থা সাত দিনের শিশুকেও যাত্রার অনুমতি দেয়। তবে একেবারে নবজাতককে নিয়ে ভ্রমণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভাল। বিশেষ করে সংক্রমণের ঝুঁকির কথা মাথায় রেখে সম্ভব হলে শিশুর বয়স কিছুটা বাড়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা যেতে পারে।
২. এয়ারলাইন ব্যাসিনেট:
ছোট এবং নির্দিষ্ট ওজনের শিশুদের জন্য অনেক বিমান সংস্থায় ব্যাসিনেটের ব্যবস্থা থাকে। দীর্ঘ বিমানযাত্রা হলে এই সুবিধা প্রয়োজন হতে পারে। সাধারণত আগে থেকে বুক করতে হয়।
৩. আসন বাছাই:
শিশুকে নিয়ে ভ্রমণের ক্ষেত্রে জানলার ধারের আসন সুবিধাজনক হতে পারে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল বিমান সংস্থার দেওয়া শিশু-নিরাপত্তা সংক্রান্ত নির্দেশ মেনে চলা এবং প্রয়োজনমতো শিশুকে কোলে বা অনুমোদিত সিটে রাখা।
৪. বুকের দুধ বা ফর্মুলা:
শিশুর খাবার এবং প্রয়োজনীয় জল সঙ্গে নেওয়ার ক্ষেত্রে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা-নিয়ম আলাদা হতে পারে। তাই আগে থেকেই সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দর ও বিমান সংস্থার নিয়ম জেনে নিন এবং নিরাপত্তাকর্মীকে শিশুর খাবারের বিষয়টি জানান।
৫. কানে চাপ কমাতে:
বিমান ওঠার সময় ও অবতরণের সময় কানের ভিতরে চাপের পরিবর্তনে শিশুর অস্বস্তি হতে পারে। ওই সময়ে বুকের দুধ, বোতল বা বয়স উপযোগী পানীয় খাওয়ানো সাহায্য করতে পারে। শিশুর কানে তুলো গুঁজে দেওয়ার বদলে চিকিৎসক বা বিমান সংস্থার নিরাপত্তা-নির্দেশ মেনে চলাই ভাল।
পোশাক, ডাইপার ও প্রয়োজনীয় জিনিস
বিমানে শিশুকে আরামদায়ক পোশাক পরান। ওঠার আগে ডাইপার বদলে নেওয়া সুবিধাজনক। সঙ্গে অন্তত ২-৩ সেট অতিরিক্ত জামা, পর্যাপ্ত ডাইপার, ওয়াইপস, শিশুর প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং পরিচিত খাবার রাখুন।
ছোট খেলনা, ছবি-সহ বই বা বয়স উপযোগী বিনোদনের ব্যবস্থা রাখলে দীর্ঘ যাত্রায় শিশুকে ব্যস্ত রাখা সহজ হয়।
নথিপত্র ভুলবেন না
দেশের অভ্যন্তরীণ যাত্রায় শিশুর ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র সব ক্ষেত্রে প্রয়োজন না হলেও জন্মনিবন্ধনের কপি বা বয়সের প্রমাণপত্র সঙ্গে রাখা ভাল। আন্তর্জাতিক বিমানযাত্রার ক্ষেত্রে শিশুর নিজস্ব পাসপোর্ট ও প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নথি অবশ্যই থাকতে হবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ: শিশুর বয়স, স্বাস্থ্য এবং নির্দিষ্ট বিমান সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী প্রস্তুতি নিন। প্রথম বিমান সফরের আগে প্রয়োজন হলে শিশুর চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াও নিরাপদ সিদ্ধান্ত।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।