দক্ষিণ কলকাতার থানায় আচমকা মুখ্যমন্ত্রীর পরিদর্শন!
দক্ষিণ কলকাতার একাধিক থানায় আচমকা পরিদর্শনে বেরিয়ে পুলিশি পরিকাঠামো ও পরিষেবা খতিয়ে দেখলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা রাজ্যের পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার দুপুরে ভবানীপুর বিধানসভার অন্তর্গত ওয়াটগঞ্জ এবং পরে একবালপুর থানায় গিয়ে তিনি অভিযোগের নথি, তদন্তের অগ্রগতি, মহিলা সহায়তা ডেস্ক এবং লক-আপের পরিস্থিতি নিজে পর্যবেক্ষণ করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দুপুরে পিডব্লিউডি ক্যাম্পে সরকারি কর্মসূচি শেষ করে তাঁর চিনার পার্কের বাসভবনে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সূচি বদলে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি দক্ষিণ কলকাতার বিভিন্ন থানার উদ্দেশে রওনা দেন। প্রথমে পৌঁছন ওয়াটগঞ্জ থানায়, যা তাঁর নিজের বিধানসভা এলাকার অন্তর্ভুক্ত।
ওয়াটগঞ্জ থানায় একটি চেয়ারে বসে তিনি অভিযোগপত্র ও বিভিন্ন মামলার রেজিস্টার খুঁটিয়ে দেখেন। কোন অভিযোগে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তদন্তের বর্তমান অবস্থা কী— সে বিষয়ে কর্তব্যরত পুলিশ আধিকারিকদের কাছ থেকে বিস্তারিত জানতে চান। অভিযোগের নথি পর্যালোচনা করতে গিয়ে দ্রুত পদক্ষেপের উপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, শুধু অভিযোগ নথিভুক্ত করলেই হবে না, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়াও নিশ্চিত করতে হবে।
এরপর তিনি মহিলা সহায়তা ডেস্কের কাজকর্ম, নথিপত্র এবং পরিষেবার অবস্থা পরীক্ষা করেন। থানার বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখার সময় উপরের তলায় উঠে লক-আপও পরিদর্শন করেন এবং সেখানে নিরাপত্তা ও পরিকাঠামো সম্পর্কে খোঁজ নেন।
ওয়াটগঞ্জ থেকে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী যান একবালপুর থানায়। সেখানেও একইভাবে থানার পরিকাঠামো, অভিযোগ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া এবং পুলিশি প্রশাসনের কাজের অগ্রগতি নিয়ে আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করেন। পরিদর্শনের পর তিনি আলিপুর পুলিশ লাইন্সে পৌঁছন। সেখানে থাকাকালীন বড়বাজারে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গেই পরিস্থিতির খোঁজ নেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন।
প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, থানাগুলিতে মহিলা সহায়তা কেন্দ্রের কার্যকারিতা এবং সাধারণ মানুষের অভিযোগ নিষ্পত্তির গতি যাচাই করাই ছিল এই আকস্মিক পরিদর্শনের অন্যতম উদ্দেশ্য। মুখ্যমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রতিটি থানায় মহিলা সহায়তা কেন্দ্র চালুর যে উদ্যোগ নিয়েছিলেন, তার বাস্তব পরিস্থিতিও তিনি সরেজমিনে মূল্যায়ন করেন।
প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, আগামী দিনেও রাজ্যের বিভিন্ন থানায় এ ধরনের আকস্মিক পরিদর্শন চালাতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী, যাতে পুলিশি পরিষেবার মান, পরিকাঠামো এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা যায়।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?