ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পর নরম সুর?
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর কড়া হুঁশিয়ারির পর ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট Delcy Rodríguez-এর বক্তব্যে স্পষ্ট সুরবদল নজরে এসেছে। রবিবার ট্রাম্পের সরাসরি সতর্কবার্তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ডেলসি সামাজিক মাধ্যম টেলিগ্রামে মাত্র দু’টি বাক্যে আমেরিকার সঙ্গে সহযোগিতার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে এই বার্তাকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
ডেলসি তাঁর বার্তায় লেখেন, আমেরিকা ও ভেনেজুয়েলার সম্পর্ক তিনি সংঘাত নয়, বরং ভারসাম্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে দেখতে চান। তাঁর কথায়, “আমেরিকা ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে একটি ভারসাম্যপূর্ণ এবং শ্রদ্ধাশীল সম্পর্ক গড়ে তোলাই আমাদের অগ্রাধিকার। পারস্পরিক সহযোগিতা ও উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে আমরা একসঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।” সংক্ষিপ্ত হলেও এই বক্তব্যে আগের কড়া অবস্থান থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দেখছেন বিশ্লেষকেরা।
এই বার্তার প্রেক্ষাপট বেশ নাটকীয়। কিছু দিন আগেই আমেরিকার বিশেষ অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট Nicolás Maduro এবং তাঁর স্ত্রীকে অপহরণ করে নিউ ইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বর্তমানে তাঁরা ব্রুকলিনের একটি ডিটেনশন ক্যাম্পে রয়েছেন এবং সেখানেই তাঁদের বিচার হবে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন। এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক স্তরে প্রবল বিতর্ক শুরু হয়।
অভিযানের পর প্রথমে ট্রাম্প ডেলসিকে নিয়ে আশাবাদী মন্তব্য করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডেলসি আমেরিকার সঙ্গে সহযোগিতার পথেই হাঁটবেন। কিন্তু ডেলসি তখন প্রকাশ্যে সেই বক্তব্যে সায় দেননি। বরং তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছিলেন, ভেনেজুয়েলার একমাত্র বৈধ প্রেসিডেন্ট মাদুরো এবং তাঁকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে।
পরিস্থিতি ঘোরালো হয় রবিবার, যখন ট্রাম্প মার্কিন সংবাদমাধ্যম The Atlantic-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ডেলসিকে প্রকাশ্যে হুঁশিয়ারি দেন। ট্রাম্প বলেন, “ডেলসি যদি আমাদের কথা না শোনেন, তা হলে তাঁকে মাদুরোর থেকেও বড় মূল্য চোকাতে হবে।” শুধু তাই নয়, ভেনেজুয়েলায় ফের সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনার কথাও উড়িয়ে দেননি তিনি।
এই কড়া মন্তব্যের পরই ডেলসির সংক্ষিপ্ত কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা সামনে আসে। অনেকের মতে, এটি নিছক কূটনৈতিক সৌজন্য নয়, বরং আমেরিকার চাপের মুখে বাস্তববাদী অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত। আবার কেউ কেউ বলছেন, ডেলসি হয়তো সময় কিনতে চাইছেন, যাতে ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যায়।
এ দিকে, মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীর অপহরণ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। একাধিক দেশ এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন অনড়— তাদের দাবি, ভেনেজুয়েলার শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নিতেই হত।
সব মিলিয়ে, ডেলসির দু’টি বাক্যের বার্তা আপাতদৃষ্টিতে ছোট হলেও, লাতিন আমেরিকা ও আমেরিকার কূটনৈতিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাবে, তা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।