রানির ভালোবাসার নিখুঁত প্রমাণ
অভিনয়জীবনে ৩০ বছর পেরিয়ে অভিনেত্রী রানি মুখোপাধ্যায়ের কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হলো তার মেয়ে আদিরা। এত বছর ধরে অভিনয় আর পুরস্কারের আনন্দ উপভোগ করেছেন তিনি, কিন্তু আদিরা ছাড়া সেই আনন্দ যেন অসম্পূর্ণ। তাই বিশেষ অনুষ্ঠানে রানি দেখালেন, প্রাপ্তি আর মাতৃত্বকে এক সঙ্গে সামলানোও সম্ভব।
২৭ বছর আগের সেই আইকনিক ফ্যাশন এখনও বজায় রেখেছেন রানি। মনে আছে ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’ ছবিতে শাহরুখ খানের সঙ্গে যেদিন তিনি ‘কুল’ লেখা হারে সাজিয়েছিলেন নিজের গলা? দীর্ঘকাল পরেও সেই ফ্যাশন তার ধারাবাহিকতায় দেখা গেল। দিল্লিতে জাতীয় পুরস্কারের মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন তিনি, গলায় সেই চমকপ্রদ হারের সঙ্গে আরেকটি ছোট, সরু হার। এই হারের বিশেষত্ব হলো—তার মধ্যে লেখা ছিল মেয়ের নাম, আদিরা।
দূর থেকে তা বোঝা সহজ নয়, তবে এই বিশেষ স্পর্শই দেখালো, রানি কেমন করে মায়ের ভালবাসা সব সময় সাথে রাখেন। তিনি বিশেষ অনুষ্ঠানে গাঢ় খয়েরি শাড়ি পরে এসেছিলেন, কপালে ছোট টিপ, কানে ঝোলা দুল। চোখে পড়ে সাধারণ সাজ, কিন্তু হারের ভিতরের বার্তাই সবচেয়ে প্রিয়। এই সরু হারের মাধ্যমে রানি প্রকাশ করেছেন, মেয়েকে কখনও দূরে রাখতে চান না।
রানি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, আদিরা নিজের সব বিষয় নিয়ে খুব খুঁতখুঁতে। মায়ের কাছেও কিছু ‘স্পেস’ চায়। তাই জাতীয় পুরস্কারের মঞ্চে তাকে সঙ্গে আনতে পারেননি, তবে সঙ্গে রাখার অন্য উপায়ই খুঁজেছেন—হারটি। এটি শুধু সাজের অংশ নয়, এটা ছিল আদিরার সঙ্গে রানের সংযোগের নিখুঁত প্রতীক।
মঞ্চে থাকাকালীন দর্শক যেমন তাকিয়ে ছিলেন পদক আর স্বীকৃতির দিকে, রানি দেখালেন আসল প্রাপ্তি কোথায়। পুরস্কার, কৃতিত্ব, ফ্রেমে ছবি—সবই সুন্দর, কিন্তু তার গলায় যে ছোট্ট হার, তাতে লেখা ছিল আদিরার নাম, সেটাই প্রকৃত আনন্দ। মায়ের ভালোবাসা, সততা আর আত্মত্যাগের এক নিখুঁত প্রকাশ।
এমনকি এই বিশেষ মুহূর্তে শাহরুখের সঙ্গে উপস্থিতি যেন অতীতের স্মৃতিকে ফিরিয়ে এনেছে। দর্শকরা আবার ফিরে গিয়েছিলেন টিনা-রাহুলের দিনগুলোতে, তখনকার সেই চমৎকার কেমিস্ট্রি এবং ফ্যাশন আইকনিক মুহূর্তগুলো মনে পড়ে।
রানি মুখোপাধ্যায় এই ঘটনায় দেখালেন, সত্যিকারের আনন্দ কখনও পদক বা পুরস্কারে সীমাবদ্ধ নয়। সেটা মায়ের ভালোবাসায়, সন্তানকে সঙ্গে রাখার চেষ্টায়, ছোট ছোট প্রতীকগুলিতে নিহিত। তার জন্য জাতীয় পুরস্কারের মঞ্চ হোক বা সিনেমার ক্যামেরা—মেয়েকে পাশে রাখা কোনো আড়ম্বরহীন অভিনয় নয়, বরং জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জনের প্রকাশ।
রানি শিখিয়েছেন, বড় প্রাপ্তি হলো সেই যা হৃদয়ের কাছাকাছি থাকে। পদক থাক বা না থাক, গলায় হারটি সব সময় মনে করিয়ে দিচ্ছে—আদিরা তাঁর কাছে সবথেকে বড় অর্জন, আর মা হিসেবে সেই ভালোবাসা কখনও আলাদা হবে না।
ব্যালকনির উপর উড়ালপুল! নাগপুরের সেতু স্মরণ করাচ্ছে ভোপালের ৯০ ডিগ্রি রেলসেতুর ঘটনার কথা