বাবাকে খুনের পর প্রমাণ লোপাট, তারপর পিৎজ়া অর্ডার!!
উত্তরপ্রদেশের Lucknow-এ ব্যবসায়ী মানবেন্দ্র সিংহ খুনের ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে একের পর এক ভয়ঙ্কর তথ্য। অভিযুক্ত তাঁরই ছেলে অক্ষত সিংহ— আর পুলিশের দাবি, এই খুন ছিল পরিকল্পিত এবং ঠান্ডা মাথায় করা।
খুনের আগে থেকেই পরিকল্পনা
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ঘটনার দু’দিন আগেই অক্ষত অনলাইনে অর্ডার করেছিলেন দুটি ছুরি, একটি করাত এবং একটি নীল ড্রাম। এগুলো তিনি বাড়ির মধ্যেই লুকিয়ে রেখেছিলেন। পাশাপাশি ১০ লিটার কেরোসিনও কিনে আনেন।
পুলিশের অনুমান, এসবই ছিল খুনের আগাম প্রস্তুতি।
সেই রাতের ঘটনা
১৯ ফেব্রুয়ারি রাতে একটি বিয়েবাড়ি থেকে ফিরে মানবেন্দ্র বাড়িতে বিশ্রাম নিতে যান। তার আগে পড়াশোনা নিয়ে বাবার সঙ্গে অক্ষতের তর্ক হয় বলে জানা গেছে।
পরদিন ভোর প্রায় ৪টের সময় অক্ষত বাবার লাইসেন্সড রাইফেল নিয়ে তাঁর ঘরে ঢোকেন এবং গুলি চালান। গুলির শব্দে পাশের ঘরে থাকা বোন কীর্তি ছুটে এসে রক্তাক্ত বাবাকে দেখে হতভম্ব হয়ে পড়েন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তখন অক্ষত বন্দুক দেখিয়ে বোনকে চুপ থাকতে বাধ্য করেন।
দেহ সরানো ও লুকোনোর চেষ্টা
এরপর অক্ষত মৃতদেহ টেনে নীচের তলায় নিয়ে যান। প্রথমে গাড়ির ডিকিতে তুলতে চাইলেও তা সম্ভব হয়নি। পরে একটি ঘরে দেহ রেখে তালা দিয়ে দেন।
অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি— এর কিছু পরেই তিনি অনলাইনে পিৎজ়া অর্ডার করেন এবং বোনের সঙ্গে বসে খেয়েও নেন।
প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা
পুলিশ জানিয়েছে, খুনের পর রক্তের দাগ মুছতে অক্ষত বাজার থেকে রং কিনে এনে দেয়ালে নতুন করে রং করেন। বিছানার চাদর পুড়িয়ে ফেলেন।
এর পাশাপাশি, তিনি নিজেই থানায় গিয়ে বাবার নিখোঁজ ডায়েরি করেন এবং আত্মীয়দের জানিয়ে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খুলে আবেগপূর্ণ বার্তাও পোস্ট করেন— যেন সবকিছু স্বাভাবিক।
দেহ টুকরো করার অভিযোগ
তদন্তে আরও জানা গেছে, পরে তিনি দেহের বিভিন্ন অংশ কেটে আলাদা করেন এবং কিছু অংশ পাশের গ্রামে ফেলে দেন। বাকি অংশ ড্রামে রেখে লুকিয়ে রাখেন।
পুলিশের মতে, ধাপে ধাপে প্রমাণ নষ্ট করার এই প্রচেষ্টা দেখেই স্পষ্ট— খুনটি হঠাৎ রাগের বশে নয়, বরং আগাম পরিকল্পনা করে করা হয়েছিল।
তদন্ত চলছে
ঘটনার ভয়াবহতায় শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়। পুলিশ এখন পুরো ঘটনার পেছনের মানসিক কারণ, পারিবারিক সম্পর্ক এবং পরিকল্পনার বিস্তারিত দিক খতিয়ে দেখছে।
এই ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিল— পরিবারের ভেতরেই কখনও কখনও লুকিয়ে থাকতে পারে সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত বিপদ।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?