‘রাশিয়ার তেলই একমাত্র কারণ নয়’ — ভারতীয় পণ্যে ৫০% শুল্ক আরোপের নেপথ্যে আরও কারণ জানালেন ট্রাম্প সরকারের অর্থসচিব

রাশিয়ার তেলই একমাত্র কারণ নয়! মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ভারতীয় পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। অভিযোগ, রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কিনে ভারত ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষিতে মস্কোকে আর্থিকভাবে সহায়তা…

August 28, 2025
1 min read

রাশিয়ার তেলই একমাত্র কারণ নয়!

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ভারতীয় পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। অভিযোগ, রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কিনে ভারত ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষিতে মস্কোকে আর্থিকভাবে সহায়তা করেছে। তবে বুধবার মার্কিন অর্থসচিব স্কট বেসেন্ট স্পষ্ট জানালেন, শুল্ক আরোপের পেছনে শুধু রাশিয়া থেকে তেল আমদানিই দায়ী নয়।

বেসেন্টের বক্তব্য অনুযায়ী, ভারত-আমেরিকার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে দীর্ঘসূত্রিতাও এই সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ। এখন পর্যন্ত পাঁচ দফায় আলোচনা হলেও কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো যায়নি। সূত্রের খবর, ট্রাম্প প্রশাসন চাইছে ভারত কৃষিপণ্য, দুধ এবং দুগ্ধজাত সামগ্রীর বাজার আমেরিকার জন্য সম্পূর্ণভাবে খুলে দিক। তবে ভারত সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তাড়াহুড়ো করে এমন একপাক্ষিক চুক্তি করা সম্ভব নয় যা শুধু আমেরিকার সুবিধা দেবে। এই অবস্থানেই ক্ষুব্ধ হয়ে ট্রাম্প প্রশাসন বাড়তি শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২ এপ্রিল ট্রাম্প প্রথম বিভিন্ন দেশের পণ্যে বাড়তি শুল্ক আরোপের কথা ঘোষণা করেছিলেন। তখন ভারতের পণ্যে শুল্ক ছিল ২৬ শতাংশ। পরে কিছু পণ্যের উপর শুল্ক স্থগিত করা হলেও ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামজাত সামগ্রীর উপর বাড়তি শুল্ক বহাল রাখা হয়। জুলাই মাসে আলোচনা চলার মাঝেই ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা করেন এবং রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের কারণে অনির্দিষ্ট একটি ‘পেনাল্টি’ যোগ করেন। আগস্টে শুল্ক দ্বিগুণ করে মোট ৫০ শতাংশে উন্নীত করা হয়, যা ব্রাজিল ছাড়া অন্য কোনো দেশের ক্ষেত্রে এত বেশি হয়নি।

নতুন শুল্কবিধি কার্যকর হওয়ার ফলে প্রভাব পড়তে পারে ভারতের রপ্তানি খাতে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত এক অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের রপ্তানি হয়েছে প্রায় ৭.৬ লক্ষ কোটি টাকার, যা ভারতের জিডিপির প্রায় ২ শতাংশ। পোশাক, ওষুধ, রত্ন, গয়না ও পেট্রোরাসায়নিক পণ্য এই রপ্তানির বড় অংশ জুড়ে রয়েছে। শুল্ক বৃদ্ধির ফলে ভারতের রপ্তানি আয়ে ধাক্কা লাগার আশঙ্কা থাকলেও মোদী সরকার দাবি করেছে, এই সিদ্ধান্ত ভারতীয় অর্থনীতিকে বড় কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে না।

ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কে চাপ বাড়ালেও ভবিষ্যতে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। আপাতত দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যচুক্তি ও কূটনৈতিক আলোচনাই এই সঙ্কট নিরসনের চাবিকাঠি হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

গাজায় সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডে নেতানিয়াহুর দুঃখপ্রকাশ, ইজরায়েলে যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভ তীব্রতর

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *