ট্রাম্পের ভয়েই কি তুলো থেকে শুল্ক প্রত্যাহার?
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর শুল্কনীতির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ভারতীয় বাজারে। রফতানিতে ধাক্কা সামলাতে এবার বড় পদক্ষেপ নিল নরেন্দ্র মোদী সরকার। বিদেশ থেকে আমদানি করা তুলোর উপর যে ১১ শতাংশ শুল্ক দিতে হত, তা আপাতত তুলে দেওয়া হয়েছে। সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, ১৯ অগস্ট থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই শুল্কছাড় কার্যকর থাকবে।
সরকারি যুক্তি, জনস্বার্থে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এতে উপকৃত হবেন বিশেষত বস্ত্রশিল্পের ব্যবসায়ীরা। কারণ ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন সিদ্ধান্তে আমেরিকার বাজারে ভারতীয় পণ্যের উপর মোট করের বোঝা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ। এতে ভারতের পোশাক ও বস্ত্র রফতানিতে বড় ধাক্কা লেগেছে। অর্ডার বাতিল হচ্ছে, ক্ষতির মুখে পড়ছেন হাজার হাজার ব্যবসায়ী।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্বাধীনতা দিবসের ভাষণেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন— কৃষক ও ব্যবসায়ীদের উপর শুল্কের চাপ পড়তে দেওয়া হবে না। এবার সেই প্রতিশ্রুতির পথেই এগোলো কেন্দ্র। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, এই পদক্ষেপে সত্যিই কার লাভ বেশি হবে— ব্যবসায়ীদের, নাকি কৃষকদের ক্ষতি বাড়বে?
শিল্পমহলের একাংশ মনে করছে, শুল্কছাড় শুধু দেশীয় ব্যবসায়ীদের বাঁচাতেই নয়, মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন কমাতেও কার্যকর হবে। ভারত থেকে তুলো আমদানির শর্ত সহজ করে আমেরিকাকে বার্তা দেওয়া হচ্ছে— সংঘাতে নয়, সহযোগিতায় এগোতে চায় নয়াদিল্লি।
কেন্দ্রীয় বস্ত্র মন্ত্রকের হিসেব বলছে, গত অর্থবর্ষে তুলো আমদানির পরিমাণ দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে ১২০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। এর মধ্যে অস্ট্রেলিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই সবচেয়ে বড় রফতানিকারক। তাই শুল্কছাড় সরাসরি উপকার করবে মার্কিন তুলো রফতানিকারকদেরও।
কিন্তু বিরোধীদের অভিযোগ অন্য। তাঁদের দাবি, ট্রাম্পের চাপেই নতিস্বীকার করেছে নয়াদিল্লি। এর ফলে দেশীয় তুলোচাষিরা আরও কোণঠাসা হয়ে পড়বেন। কারণ আমেরিকার তুলো গুণমানে উন্নত, দামেও তুলনামূলক সস্তা। তাই বস্ত্রশিল্প বিদেশি তুলোর দিকে ঝুঁকবে, দেশীয় তুলোর চাহিদা কমবে। এতে মার খাবেন চাষিরাই।
‘ইন্ডিয়ান কটন ফেডারেশন’-এর হিসেব অনুযায়ী, চলতি মরসুমে প্রায় ৩৯ লক্ষ বেল তুলো আমদানি হয়েছে। আরও দু’লক্ষ বেল পথে রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি এই প্রবণতা বাড়তে থাকে, দেশীয় উৎপাদনকারীরা বাজার হারানোর ভয়াবহ সমস্যায় পড়বেন।
এদিকে বস্ত্রশিল্পের প্রতিনিধিরা একেবারেই ভিন্ন সুরে কথা বলছেন। তাঁদের মতে, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ভারত ইতিমধ্যেই পিছিয়ে পড়ছে। বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম ও চিনের পণ্য আমেরিকায় তুলনামূলক সস্তা। ভারতীয় পণ্যের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপায় অনেক আমেরিকান ক্রেতা ভারত থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। এমন অবস্থায় তুলো শুল্ক প্রত্যাহার না করলে ব্যবসায়ীদের উপর চাপ আরও বাড়ত।
অতএব, নয়াদিল্লির এই সিদ্ধান্তে ব্যবসায়ীরা আপাতত কিছুটা স্বস্তি পেলেও চাষিদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে বহুগুণ। সরকার বলছে, লক্ষ্য একটাই— কাঁচামালের দাম স্থিতিশীল রাখা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে বাঁচানো। কিন্তু আগামী দিনে এই নীতির প্রকৃত ফল কাদের জন্য আশীর্বাদ আর কাদের জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়ায়, সেটাই দেখার।
জমি কেনার নামে শত কোটির সম্পত্তি দখলের চেষ্টা? বাঁকে বিহারী মন্দিরকে ঘিরে উত্তাপ