৩০ পেরোলেই মহিলাদের থাইরয়েডের ঝুঁকি বাড়ে!
আজকের ব্যস্ত জীবনে শরীরের ছোটখাটো সমস্যা অনেক সময়েই আমরা এড়িয়ে যাই। কিন্তু কিছু লক্ষণ এমন থাকে, যা আসলে বড় কোনও সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে—যেমন থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্যহীনতা। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ৩০ বছর বয়স পেরোনোর পর থেকেই মহিলাদের মধ্যে থাইরয়েডের ঝুঁকি অনেকটা বেড়ে যায়। তাই এই বয়সের পর নিজেকে একটু বেশি সময় দেওয়া জরুরি।
আমেরিকান থাইরয়েড অ্যাসোসিয়েশনের (ATA) তথ্য বলছে, প্রতি ৮ জন মহিলার মধ্যে অন্তত একজন জীবনের কোনও না কোনও সময় থাইরয়েডজনিত সমস্যায় ভুগবেন। এই ঝুঁকি পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের ক্ষেত্রে ৫ থেকে ৮ গুণ বেশি। তাই সময় থাকতেই কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণ চিনে নেওয়া এবং ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
থাইরয়েড সমস্যার লক্ষণগুলো কী কী?
১. অকারণে ওজন বাড়া বা কমা
আপনি যদি ডায়েট বা ব্যায়াম না করেও ওজন বাড়তে বা কমতে দেখেন, তবে তা সতর্কবার্তা হতে পারে।
- হাইপোথাইরয়েডিজমে ওজন বেড়ে যায়, কারণ শরীরের বিপাকহারের গতি কমে যায়।
- হাইপারথাইরয়েডিজমে ওজন কমতে থাকে, কারণ হরমোন অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে যায়।
২. রক্তচাপের অস্বাভাবিকতা
থাইরয়েড হরমোন হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
- হাইপোথাইরয়েডিজমে হৃদস্পন্দন কমে গিয়ে রক্তচাপ কমে যেতে পারে।
- হাইপারথাইরয়েডিজমে হৃদস্পন্দন বেড়ে গিয়ে রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে।
৩. টয়লেট ব্যবহারে পরিবর্তন
পাকস্থলির কার্যকলাপে পরিবর্তন লক্ষ্য করছেন?
- কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিলে তা হতে পারে হাইপোথাইরয়েডিজমের লক্ষণ।
- ঘন ঘন পায়খানা বা পাতলা মলত্যাগ হতে পারে হাইপারথাইরয়েডিজমের ইঙ্গিত।
৪. চিরন্তন ক্লান্তি বা মানসিক অস্থিরতা
পছন্দের কাজেও মন বসছে না, সারাদিন ক্লান্ত লাগছে?
- হাইপোথাইরয়েডিজমে ক্লান্তি, বিষণ্ণতা, উদাসীনতা দেখা যায়।
- হাইপারথাইরয়েডিজমে উদ্বেগ, ঘুমের সমস্যা এবং অতিরিক্ত চিন্তাভাবনা হতে পারে।
৫. চুল পড়া এবং ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া
- চুল হঠাৎ করে পড়তে শুরু করলে বা ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে গেলে থাইরয়েড সমস্যার সম্ভাবনা থাকে।
- ভ্রুর চুল ঝরাও এই হরমোনের ভারসাম্যহীনতার লক্ষণ হতে পারে।
৬. ঠান্ডা বা গরমের সংবেদনশীলতা
- সব সময় ঠান্ডা লাগলে বা একটু শীতেই কাঁপুনি ধরলে হতে পারে হাইপোথাইরয়েডিজম।
- উল্টোভাবে, গরমে অস্বস্তি, অতিরিক্ত ঘাম হওয়া হাইপারথাইরয়েডিজমের লক্ষণ।
৭. শরীরের নিচের অংশে ফুলে যাওয়া
- যদি পা, গোড়ালি, নিতম্বে হঠাৎ ফুলে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়, তবে তা শরীরে জল জমার লক্ষণ, যা হাইপোথাইরয়েডিজমে দেখা যায়।
কী করবেন?
এই উপসর্গগুলোর এক বা একাধিক যদি আপনার সঙ্গে মিলে যায়, তবে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং থাইরয়েড হরমোন পরীক্ষা করিয়ে নিন। সময়মতো ধরা পড়লে এবং সঠিক চিকিৎসা শুরু হলে এই সমস্যা সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
বয়স ৩০ পেরোলে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা যেমন প্রয়োজন, তেমনই নিজের শরীরের প্রতি মনোযোগী হওয়াটাও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সুস্থ থাকতে হলে আগে জানতে হবে কীভাবে অসুস্থতা ধরা যায়। আর থাইরয়েড ঠিক রাখতে হলে সচেতনতা আর আগেভাগে সতর্কতাই সবচেয়ে বড় অস্ত্র।
কয়েক সপ্তাহ ধরে নতুন অভ্যাস শুরু করেছেন সোহা আলি খান, শরীর ভালো রাখতে খালি পেটে কী খান তিনি?