মহিলাদের আইপিএলের প্লে-অফে জেমাইমার দল!
একটা ম্যাচ, একটাই সমীকরণ। জিতলে প্লে-অফে দিল্লি ক্যাপিটালস, হারলে সেই জায়গা চলে যেত মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের দখলে। চাপের এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত মাথা ঠান্ডা রেখে কাজটা করে দেখাল জেমাইমা রদ্রিগেজ়ের দিল্লি। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ইউপি ওয়ারিয়র্জ়কে হারিয়ে মহিলাদের আইপিএলের প্লে-অফে তৃতীয় দল হিসেবে জায়গা করে নিল তারা। এর সঙ্গে সঙ্গেই বিদায় নিশ্চিত হল গত বারের চ্যাম্পিয়ন হরমনপ্রীত কৌরের মুম্বইয়ের।
মুম্বইয়ের ভাগ্য যে আগের ম্যাচেই অনেকটা ফিকে হয়ে গিয়েছিল, তা পরে বোঝা যায়। গুজরাতের কাছে সেই হারের খেসারত দিতে হল তাদের। শেষ পর্যন্ত গ্রুপে চার নম্বরে শেষ করে টুর্নামেন্ট ছাড়তে হল চ্যাম্পিয়ন দলকে।
গ্রুপের শেষ ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই ধাক্কা খায় ইউপি ওয়ারিয়র্জ়। অধিনায়ক মেগ ল্যানিং শূন্য রানে ফিরে যান। ওপেনার দীপ্তি শর্মা কিছুটা লড়াই করেন—তাঁর ব্যাট থেকে আসে ২৪ রান। কিন্তু এরপর টপ ও মিডল অর্ডারে একের পর এক ব্যর্থতা। হরলীন দেওল, চার্লি নট ও ডিয়ান্ড্রা ডটিন কেউই ইনিংস গড়তে পারেননি। সিমরন শেখ ২২ রান করে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন।
দিল্লির বোলাররা তখন পুরোপুরি ম্যাচের রাশ নিজেদের হাতে তুলে নেন। শিনেল হেনরি ও মারিজান কাপ ইউপির ব্যাটিং লাইনআপ ভেঙে দেন। হেনরি নেন ২টি এবং কাপ তুলে নেন ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। মাঝের ওভারে শ্রী চরণি আরও ২টি উইকেট নিয়ে চাপ বাড়ান। শেষ দিকে ১১ নম্বরে নেমে শিখা পাণ্ডে ২৩ রানে অপরাজিত থাকায় কোনও রকমে সম্মানজনক স্কোরে পৌঁছয় ইউপি। ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে তাদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১২২ রান।
রান তাড়া করতে নেমে দিল্লির শুরুটাও কিন্তু স্বস্তির ছিল না। মাত্র ১০ রান করে ফিরে যান লিজ়েল লি। তবে দ্বিতীয় উইকেটে শেফালি বর্মা ও লরা উলভার্ট ম্যাচের গতিপথ বদলে দেন। শেফালি ২৯ রান করেন, আর উলভার্টের ব্যাট থেকে আসে ঝরঝরে ৪৭ রান। এই জুটি ভাঙার পর ফের চাপের মুখে পড়ে দিল্লি। মারিজান কাপ ও শিনেল হেনরি ব্যাট হাতে রান পাননি।
এমন পরিস্থিতিতে এক প্রান্ত আগলে রাখেন অধিনায়ক জেমাইমা রদ্রিগেজ়। চলতি মরসুমে খুব বেশি রান না পেলেও, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নিজেকে মেলে ধরলেন তিনি। ১৮ বলে অপরাজিত ৩৪ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলে দলকে প্লে-অফে তুলে দিলেন জেমাইমা। প্রথমবার অধিনায়কত্বের দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে তাঁর শান্ত মাথার নেতৃত্ব আলাদা করে নজর কাড়ল। আট বল বাকি থাকতেই পাঁচ উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয় দিল্লি ক্যাপিটালস।
অন্য দিকে, এই ম্যাচে হেরে অভিষেক নায়ারের ইউপি ওয়ারিয়র্জ় গ্রুপের তলানিতেই শেষ করল অভিযান। দিল্লির জন্য অবশ্য এই জয় শুধু একটি ম্যাচ নয়—এটা স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখার লড়াইয়ে জেতা এক বড় পদক্ষেপ।
‘স্পিরিট’-এ প্রভাসের ১৬০ কোটি! নায়িকাদের পারিশ্রমিকের ফারাক ঘিরে নতুন চর্চা