দামোদরে ইলিশের বদলে ডলফিন!
ইলিশের খোঁজে জাল ফেলেছিলেন পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের মৎস্যজীবীরা। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকালে দামোদরের জাল টেনে তুলতেই যা উঠল, তাতে রীতিমতো হুলস্থুল পড়ে গেল স্থানীয়দের মধ্যে। ইলিশ তো নয়ই, বরং উঠে এল একটি ডলফিন!
সাদিপুরের বাসিন্দা এবং পেশায় মৎস্যজীবী প্রশান্ত পাকড়ের জালেই ধরা পড়ে এই বিরল অতিথি। প্রশান্ত জানান, প্রতি দিনের মতো বুধবার রাতে নদীতে ফাঁস জাল ফেলে রেখেছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে জাল টানতে গিয়ে প্রথমে মনে হয়, বড় কোনও মাছ বুঝি ধরা পড়েছে। কিন্তু একটু পরেই বুঝতে পারেন, সেটি আসলে একটি ডলফিন!
প্রশান্ত বলেন, “প্রথমে ভয় পেয়েছিলাম, এত ভারী কিছু ধরা পড়েছে দেখে। পরে বুঝি এটা একটা ডলফিন। ওজন প্রায় ৫০-৫৫ কেজি হবে। অনেক কষ্টে জাল কেটে ডলফিনটাকে আবার মাঝনদীতে ছেড়ে দিই।”
ঘটনাস্থলে তখন উৎসুক মানুষের ভিড়। অনেকেই মোবাইলে ভিডিও করতে ব্যস্ত, আবার কেউ কেউ ভয় বা উদ্বেগে দূরে দাঁড়িয়ে। তবে প্রশান্ত এবং তাঁর সঙ্গীরা দেখিয়ে দিলেন, প্রকৃতির প্রতি সহানুভূতিশীল মন থাকলে প্রাণ বাঁচানো যায় সহজেই।
এই ডলফিনটি আসলে গাঙ্গেয় ডলফিন, স্থানীয়ভাবে যাকে ‘শুশুক’ বলা হয়। এরা মিষ্টি জলের স্তন্যপায়ী এবং সাধারণত গঙ্গা, ভাগীরথী, দামোদর, অজয় নদীতেই দেখা যায়।
শুশুক বিশেষজ্ঞ এবং কাটোয়ার বাসিন্দা গণেশ চৌধুরী জানাচ্ছেন, “এদের প্রধান খাদ্য মাছ। গঙ্গায় মাছ কমে যাওয়ায় অনেক শুশুক এখন ছোট নদী বা খাঁড়িতে ঢুকে পড়ছে খাবারের খোঁজে। কাটোয়ার অজয় ও ভাগীরথী নদীতেই এখন ৪৫ থেকে ৪৮টা শুশুক রয়েছে।”
তিনি আরও জানান, “২০০৪ সালে রাজ্যে প্রায় ৪,০০০টি শুশুক ছিল। এখন সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৭০০-এর আশেপাশে। মার্চ থেকে অগস্ট মাস পর্যন্ত এদের প্রজননের সময়। ফলে এই সময় এদের বিচরণ বেশি দেখা যায়।”
জামালপুরে এই ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। ২০২৪ সালেও দামোদরে ধরা পড়েছিল একটি ইলিশ— প্রায় এক কেজি ওজনের। সেবার সেই রুপোলি মাছ বিক্রি করতে নিলামও ডাকা হয়েছিল। এবারে ভারী বৃষ্টিতে দামোদরের জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই আশায় ছিলেন আবার হয়তো ইলিশ মিলবে। সেই আশায়ই জাল ফেলেছিলেন প্রশান্ত। কিন্তু জালে ধরা পড়ল একেবারে অন্য এক অতিথি।
দোকানের মশলার বদলে ঘরেই বানিয়ে নিন মাংসের স্বাদ বাড়ানোর জাদুমন্ত্র