স্বাস্থ্যজনিত কারণে পদত্যাগ করলেন উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়!
দেশের উপরাষ্ট্রপতি পদ থেকে আচমকাই ইস্তফা দিলেন জগদীপ ধনখড়। তাঁর এই সিদ্ধান্তে শুধু সংসদ নয়, চমকে গিয়েছে গোটা রাজনৈতিক মহল। স্বাস্থ্যের কারণ দেখিয়ে নিজের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেও, এই পদক্ষেপ ঘিরে জল্পনার পারদ এখন চরমে।
সোমবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতির দফতরে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন ধনখড়। রাষ্ট্রপতির সচিবালয় জানায়, তিনি এই পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সম্পূর্ণরূপে শারীরিক অস্বাস্থ্যের কারণে। তবে অনেকেই বলছেন, শুধু স্বাস্থ্য নয়, এর পেছনে হয়তো আরও গভীর রাজনৈতিক সমীকরণ রয়েছে।
২০২২ সালে উপরাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলেন ধনখড়। একাধিক বিতর্ক ও সংবেদনশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তিনি ছিলেন এক শক্তিশালী সাংবিধানিক মুখ। রাজ্যসভায় তাঁর পরিচালনা ও কঠোর অবস্থান অনেক সময় প্রশংসিত হলেও, বিরোধীদের একাংশ তাঁর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল বহুবার।
তবে ধনখড় বরাবরই নিজেকে নিয়মমাফিক ও দায়িত্ববান উপরাষ্ট্রপতি হিসেবে তুলে ধরতে সচেষ্ট ছিলেন। রাজ্যসভার অধিবেশনে তাঁর হস্তক্ষেপে অনেকবার উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছিল। তাঁর কণ্ঠে সংবিধান ও সংসদের মর্যাদার প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা ধ্বনিত হয়েছে বারবার।
কিন্তু গত কয়েক মাস ধরেই তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে নানা গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। সূত্রের খবর, সম্প্রতি ধনখড় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ও অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারেননি। চিকিৎসকের পরামর্শে বিশ্রাম নেওয়ার কথাও উঠে এসেছিল তাঁর দিনচর্যায়।
ধনখড়ের ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে রক্তচাপ, হার্টের সমস্যা ও ক্লান্তিজনিত জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। তাঁর বয়স এখন ৭৩। তাই শরীরের কথা ভেবেই এই বড় সিদ্ধান্ত বলে অনেকে মনে করছেন। যদিও এই সিদ্ধান্ত একেবারেই সহজ ছিল না—সংসদের চলতি বর্ষাকালীন অধিবেশন চলাকালীন এমন ঘোষণা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ধনখড়ের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়েছিল আইনজীবী হিসেবে। পরে রাজনীতিতে এসে ধাপে ধাপে উঠে এসেছেন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে। রাজস্থান থেকে উঠে এসে রাজ্যপাল হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্ব পালন করেছিলেন, যেখানে তাঁর ভূমিকা নিয়ে নানা বিতর্ক থাকলেও, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তাঁর দক্ষতাকে গুরুত্ব দিয়েছিল। এরপরেই উপরাষ্ট্রপতির পদে নির্বাচিত হন তিনি।
এখন প্রশ্ন উঠছে—তাঁর উত্তরসূরি কে হবেন? NDA সরকার কী শীঘ্রই নতুন নাম ঘোষণা করবে, নাকি বিরোধী জোটও প্রার্থী দেবে এই আসনে—তা এখন দেখার বিষয়। আর রাজনৈতিক মহলও নজর রাখছে, এই পদত্যাগের নেপথ্যে কেবল শারীরিক কারণ, না কি কোনও অপ্রকাশিত চাপ বা মতবিরোধ কাজ করেছে।
এই মুহূর্তে নিশ্চিতভাবে যা বলা যায়—ধনখড়ের প্রস্থানে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে এক অভিজ্ঞ ও দৃঢ় কণ্ঠস্বর হারাল সংসদ। আগামী দিনে তাঁর শারীরিক আরোগ্য কামনার সঙ্গে সঙ্গে এই আকস্মিক ঘটনার রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও গভীর পর্যবেক্ষণের দাবী রাখে।
ত্বকে চাই উজ্জ্বল জেল্লা? গরমে রোজ খান এই ‘গোলাপজল মিশ্রিত পানীয়’