স্বাস্থ্যজনিত কারণে পদত্যাগ, ভাইস প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়লেন জগদীপ ধনখড়!
দেশের উপরাষ্ট্রপতি পদ থেকে আচমকা ইস্তফা দিলেন জগদীপ ধনখড়। তাঁর এই সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক মহলে বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার সকালে রাষ্ট্রপতির দফতরে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। সূত্রের খবর, দীর্ঘদিন ধরেই শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন ধনখড়। শেষপর্যন্ত শারীরিক অসুস্থতাকেই ইস্তফার মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।
২০২২ সালের জুলাই মাসে দেশের উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন জগদীপ ধনখড়। তিনি দেশের ১৪তম উপরাষ্ট্রপতি। রাজস্থানের ঝুনঝুনু জেলার এক সাধারণ কৃষক পরিবারে জন্ম তাঁর। সেখান থেকে দিল্লির রাজনীতি পর্যন্ত যাত্রাপথ ছিল একেবারেই সংগ্রামের। আইনজীবী থেকে রাজনীতিক, এরপর রাজ্যপাল এবং অবশেষে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ—এই দীর্ঘ পথচলায় ধনখড়ের নাম বহুবার খবরের শিরোনামে এসেছে।
রাজনৈতিক জীবনে ধনখড় বরাবরই স্পষ্টবাদী এবং প্রশাসনিক কৌশলে দক্ষ নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হিসেবে তাঁর মেয়াদকাল ছিল নানা বিতর্কে ঘেরা। তৎকালীন রাজ্য সরকার ও রাজভবনের টানাপোড়েন প্রায়শই উঠে আসত সংবাদমাধ্যমে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে একাধিক বিষয়ে প্রকাশ্যে মতবিরোধ হয়েছিল তাঁর। কিন্তু দিল্লিতে উপরাষ্ট্রপতি পদে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি কিছুটা নরম মেজাজে দেখা গিয়েছিলেন। সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় কার্যত মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন ধনখড়।
তাঁর শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে কিছুদিন ধরেই গুঞ্জন ছিল। যদিও সরাসরি কিছু জানানো হয়নি, কিন্তু সংসদের সাম্প্রতিক অধিবেশনে তাঁর অনুপস্থিতি এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ না নেওয়া সেই জল্পনাকে আরও জোরদার করেছিল। অবশেষে রবিবার তাঁর পদত্যাগের খবর সামনে আসতেই তা স্পষ্ট হয়ে যায়।
ধনখড়ের পদত্যাগের পরে এখন প্রশ্ন উঠেছে—কে হবেন পরবর্তী উপরাষ্ট্রপতি? সামনে লোকসভা নির্বাচন। তার আগে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন মুখ বেছে নেওয়া রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হবে। এই মুহূর্তে সেই আলোচনাই জোরকদমে চলছে দিল্লির অন্দরে।
অন্যদিকে, ধনখড়ের হঠাৎ ইস্তফায় বিরোধী শিবিরেও নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ এটিকে ‘নৈতিক সিদ্ধান্ত’ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বলছেন, আসন্ন রাজনৈতিক সমীকরণের অংশ হতে পারে এই পদত্যাগ।
এতদিন ধরে যে মানুষটি দেশের সাংবিধানিক পরিকাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, তাঁর বিদায়ে এক শূন্যতা তৈরি হল তা বলাই যায়। তবে ব্যক্তিগত সুস্থতা ও পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্যই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেই ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি।
জগদীপ ধনখড় হয়তো এখন বিশ্রামে যাবেন, তবে ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে তাঁর অবদান এবং বিতর্ক—দুটোই থেকে যাবে স্মরণীয় হয়ে। তাঁর বিদায়ের মাধ্যমে এক অধ্যায়ের অবসান ঘটলেও সামনে হয়তো আরও নতুন কোনও অধ্যায়ের সূচনা অপেক্ষা করছে।
ত্বকে চাই উজ্জ্বল জেল্লা? গরমে রোজ খান এই ‘গোলাপজল মিশ্রিত পানীয়’