ভোটযুদ্ধ শুরু সংসদ ভবনে
দেশের সপ্তদশ উপরাষ্ট্রপতি কে হবেন, তা নির্ধারণ করতে মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকেই শুরু হয়েছে ভোটগ্রহণ। সংসদ ভবনের এফ-১০১ কক্ষে এই ভোট হবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। ভোটগণনা শেষে মঙ্গলবার রাতেই জানা যাবে নতুন উপরাষ্ট্রপতির নাম। বর্তমান উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড় অসুস্থতার কারণে সম্প্রতি পদত্যাগ করেছেন। তাঁর উত্তরসূরি বেছে নিতে এই বিশেষ ভোটাভুটি।
প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দুই প্রার্থী— এনডিএ সমর্থিত মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন রাজ্যপাল সিপি রাধাকৃষ্ণন এবং বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ সমর্থিত অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বি সুদর্শন রেড্ডি। বিজয়ী প্রার্থী আগামী পাঁচ বছরের জন্য দেশের উপরাষ্ট্রপতি হবেন।
নির্বাচকমণ্ডলী কারা
লোকসভা ও রাজ্যসভার সাংসদদের ভোটেই নির্ধারিত হবে ফলাফল। রাজ্যসভার ২৩৩ জন নির্বাচিত ও ১২ জন মনোনীত সাংসদ এবং লোকসভার ৫৪৩ জন সাংসদ নিয়ে গঠিত হয় এই নির্বাচকমণ্ডলী। সব মিলিয়ে সংখ্যা হওয়ার কথা ৭৮১। তবে ছ’টি আসন খালি থাকায় ভোটার থাকছেন ৭৭৫ জন। তার মধ্যেও বিজু জনতা দল (বিজেডি) এবং ভারত রাষ্ট্র সমিতি (বিআরএস) ভোটে অংশ না নেওয়ায় কার্যত ৭৭০ সাংসদের ভোটেই সিদ্ধান্ত হবে।
সংখ্যার অঙ্কে কার দাপট বেশি
৭৮১ সাংসদ থাকলে জয়ের জন্য প্রয়োজন ৩৯১ ভোট। কিন্তু ৭৭০ সাংসদ ভোট দিলে জাদুসংখ্যা দাঁড়ায় ৩৮৬-এ। এনডিএ শিবিরের হাতে রয়েছে প্রায় ৪২৫ ভোট। এর সঙ্গে ওয়াইএসআর কংগ্রেসের সমর্থন মেলে গেলে সংখ্যা বাড়বে ৪৩৬-এ। এছাড়া জেডিইউ, টিডিপি, শিবসেনা (শিন্দে গোষ্ঠী) এবং অজিত পওয়ারের শিবসেনা ভাগও এনডিএ প্রার্থী রাধাকৃষ্ণনের পাশে রয়েছে।
অন্যদিকে, বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র ঝুলিতে আছে আনুমানিক ৩২৪ ভোট। ডিএমকে, আরজেডি, তৃণমূল, উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা, বাম দলসহ কংগ্রেসও সমর্থন করছে সুদর্শন রেড্ডিকে। আপ এবং এআইএমআইএমও বিরোধী প্রার্থীকে সমর্থনের ঘোষণা করেছে।
নির্দলদের অবস্থান
লোকসভার সাত নির্দল সাংসদ এখনও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেননি। তাঁরা কোন দিকে ঝুঁকবেন, সেদিকে তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল। অন্যদিকে, শিরোমণি অকালি দল বন্যার পরিস্থিতির কারণ দেখিয়ে ভোটে অংশ নিচ্ছে না। ফলে ফলাফলের ব্যবধান কতটা হবে, তা নির্ভর করছে কিছুটা নির্দলদের উপরও।
ভোট কীভাবে হয়
উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সাংসদেরা একক হস্তান্তরযোগ্য ভোটাধিকার ব্যবহার করেন। সাদা ব্যালট পেপারে দুই প্রার্থীর নাম থাকবে। সাংসদরা টিক দিয়ে প্রথম ও দ্বিতীয় পছন্দ জানাবেন। প্রথম পছন্দের ভোটে যে প্রার্থী সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবেন, তাকেই জয়ী ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন। সমান হলে দ্বিতীয় পছন্দের ভোট গোনা হবে। কোনও ভুল বা অপ্রাসঙ্গিক মন্তব্য থাকলে সেই ভোট বাতিলও হতে পারে।
জয়ের সম্ভাবনা কার
গত বার এনডিএ-র প্রার্থী ধনখড় বিরোধীদের মার্গারেট আলভাকে ৩৪৬ ভোটে হারিয়েছিলেন। এ বারও রাধাকৃষ্ণনের জয় প্রায় নিশ্চিত ধরা হচ্ছে। তবে ব্যবধান অনেকটা কমতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনুমান, রাধাকৃষ্ণন ১০০ থেকে ১২৫ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে থাকতে পারেন।
এখন সবার নজর ভোটফল ঘোষণার দিকে। মঙ্গলবার রাতেই পরিষ্কার হয়ে যাবে— ধনখড়ের আসনে বসতে চলেছেন রাধাকৃষ্ণন নাকি বিরোধীদের চমক সুদর্শন রেড্ডি।
ওড়িশায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে ইডির তল্লাশি, ১৩৯৬ কোটির প্রতারণা মামলায় উদ্ধার কোটি টাকার সম্পদ