ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধেই তেলের আগুন! বিশ্ব বাজারে দাম বেড়ে যেতে পারে হুহু করে

ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধেই তেলের আগুন! পশ্চিম এশিয়ায় ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যেকার চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি শুধু রাজনৈতিক নয়, অর্থনৈতিক অস্থিরতাও ডেকে আনছে। বিশেষত, এর প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা— এই…

June 24, 2025
1 min read

ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধেই তেলের আগুন!

পশ্চিম এশিয়ায় ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যেকার চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি শুধু রাজনৈতিক নয়, অর্থনৈতিক অস্থিরতাও ডেকে আনছে। বিশেষত, এর প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা— এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম বিপজ্জনক হারে বাড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ভারত সহ আমদানি নির্ভর দেশগুলির জন্য তৈরি হচ্ছে বড় সংকট।

যুদ্ধ এবং তেলের টানাপোড়েন

বিশ্বে তেল সরবরাহের একটি বড় অংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে, যার মধ্যে ইরান অন্যতম। পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার সঙ্গে সঙ্গে তেলের দামের ওঠানামাও নতুন নয়। কিন্তু এই মুহূর্তে পরিস্থিতি অনেক বেশি জটিল। কারণ, ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার হুমকি দিয়েছে— যা বিশ্বের এক পঞ্চমাংশ তেল পরিবহণের প্রধান জলপথ। সেখানে সমস্যা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহে বড়সড় ধাক্কা লাগবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই অচলাবস্থার জেরে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ১০-১৫ ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে। এখনই ব্রেন্ট ক্রুডের দাম পৌঁছে গিয়েছে ৮৬ ডলারে, যা গত মাসের তুলনায় প্রায় ৫% বেশি।

ভারতের দুশ্চিন্তা কেন?

ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ। দেশের মোট তেলের প্রায় ৮৫% আমদানি হয়। এর বড় অংশ আসে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলি থেকে, যার মধ্যে ইরান ও সৌদি আরব গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারী। যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে শুধু তেলের দাম বাড়বে না, পরিবহণ ব্যয় এবং বিমা খরচও বাড়তে পারে। সব মিলিয়ে জ্বালানির খরচ বৃদ্ধি পাবে, যা দেশের মুদ্রাস্ফীতিকে আরও উসকে দিতে পারে।

একইসঙ্গে, বিশ্ব বাজারে ডলারের দাম বাড়লে রুপির দাম পড়বে, ফলে আমদানির খরচ আরও বেড়ে যাবে। এই সমীকরণে পেট্রোল-ডিজেলের দাম চড়া হলে সাধারণ মানুষের ঘাড়ে চাপবে বাড়তি ব্যয়ভার।

শিল্প ও উৎপাদনে প্রভাব

তেল শুধু যানবাহনের জ্বালানি নয়, শিল্পোৎপাদন ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্যও অপরিহার্য। দাম বাড়লে তার প্রভাব পড়বে গ্যাস, বিদ্যুৎ এবং শিল্পজাত পণ্যের উপর। শিল্প খরচ বাড়বে, মুনাফা কমবে, এমনকি চাকরি ক্ষেত্রেও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। পরিবহণ ব্যয় বাড়লে কৃষি এবং খাদ্যপণ্যেও দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হবে।

বিনিয়োগ এবং শেয়ারবাজার

তেলের দামের অনিশ্চয়তা বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীদের মনোভাবেও প্রভাব ফেলছে। যুদ্ধের ঝুঁকি থাকলে বিনিয়োগকারীরা তুলনামূলক নিরাপদ মাধ্যম যেমন সোনা, মার্কিন বন্ড ইত্যাদির দিকে ঝুঁকবেন। এর ফলে ভারতের শেয়ারবাজারেও ধস দেখা দিতে পারে, বিশেষ করে পেট্রোলিয়াম ও পরিবহণ শিল্পে।

সরকার কী ভাবছে?

এখনও কেন্দ্রীয় সরকার তেলের ওপর অতিরিক্ত কর কমানোর বিষয়ে কোনও ঘোষণা করেনি। তবে পরিস্থিতি যদি আরও খারাপ হয়, তবে কর হ্রাস করে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার পথে হাঁটতে পারে সরকার। পাশাপাশি, কূটনৈতিক স্তরেও ভারতের নজর হরমুজ প্রণালীর উপর। কারণ, এই পথেই আসে ভারতের তেলের বেশিরভাগ চালান।

৩৫ হাজার ফুটে ও আরামেই ভেসে থাকুন! দীর্ঘ উড়ানে আরাম পাওয়ার ৭টি সহজ টিপস

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *