কেন হিজ়বুল্লাকে নিয়ে আপাতত সংযত ইরান?

কেন হিজ়বুল্লাকে নিয়ে আপাতত সংযত ইরান? পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—লেবাননে হিজ়বুল্লার বিরুদ্ধে ইজ়রায়েল ধারাবাহিক হামলা চালালেও ইরান কেন সরাসরি সামরিক প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে না? এর পিছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ…

June 23, 2026
1 min read

কেন হিজ়বুল্লাকে নিয়ে আপাতত সংযত ইরান?

পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—লেবাননে হিজ়বুল্লার বিরুদ্ধে ইজ়রায়েল ধারাবাহিক হামলা চালালেও ইরান কেন সরাসরি সামরিক প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে না? এর পিছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ও অর্থনৈতিক কারণ রয়েছে।

১. আমেরিকার সঙ্গে শান্তি আলোচনাকে অগ্রাধিকার

সুইৎজ়ারল্যান্ডে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনা তেহরানের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়া, আটকে থাকা অর্থ মুক্ত হওয়া এবং তেল রফতানির সুযোগ ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন করে বড় সংঘাতে জড়াতে চায় না ইরান।

২. অর্থনৈতিক লাভের সম্ভাবনা

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সম্ভাব্য সমঝোতার ফলে ইরান উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক সুবিধা পেতে পারে। নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে তেলের বাজারে ফের শক্তিশালী অবস্থানে ফিরতে পারবে দেশটি। তাই লেবানন ইস্যুতে অতিরিক্ত উত্তেজনা তৈরি করে সেই সুযোগ নষ্ট করতে চাইছে না তেহরান।

৩. শক্তি সংরক্ষণের কৌশল

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এখন সরাসরি যুদ্ধের বদলে কৌশলগত চাপের পথ বেছে নিয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ় প্রণালীকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের উপর প্রভাব বিস্তারের ক্ষমতা তাদের হাতে রয়েছে। ফলে সামরিক সংঘর্ষে জড়িয়ে সম্পদ ক্ষয় করার বদলে তারা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

৪. আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি উন্নত করার চেষ্টা

ইরান দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সমর্থনের অভিযোগের মুখে রয়েছে। হিজ়বুল্লা, হামাস ও হুথিদের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলির আপত্তি রয়েছে। শান্তি আলোচনার সময়ে সংযম দেখিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের কাছে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে চাইছে তেহরান।

৫. আইআরজিসির ভবিষ্যৎ হিসাব

ইরানের শক্তিশালী আধাসামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ভবিষ্যতের সম্ভাব্য পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও মনে করা হচ্ছে। যদি আমেরিকার সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ হয়, তাহলে আবার বড় সংঘাতের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। সেই কারণেই তারা এখন নিজেদের সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তি ধরে রাখতে আগ্রহী।

তবে ঝুঁকি এখনও রয়েছে

যদিও ইরান আপাতত সংযত অবস্থান নিয়েছে, বাস্তব পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে পারে। হিজ়বুল্লার উপর ইজ়রায়েলের চাপ ক্রমশ বাড়ছে এবং লেবাননের ভেতরে সামরিক অভিযানও বিস্তৃত হচ্ছে। যদি হিজ়বুল্লার অস্তিত্ব বা ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব গুরুতরভাবে হুমকির মুখে পড়ে, তাহলে তেহরান আরও কঠোর অবস্থান নিতে পারে।

সংক্ষেপে, ইরানের বর্তমান নীরবতা দুর্বলতার লক্ষণ নয়; বরং কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক হিসাব-নিকাশের ভিত্তিতে নেওয়া একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত বলেই অধিকাংশ বিশ্লেষক মনে করছেন।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *