করোনা মহামারির ধাক্কা আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছে বহু স্বপ্ন, বহু প্রিয়জন। তবে এই সংকটময় সময়ে প্রযুক্তি আমাদের জীবনে এনেছে এক নতুন সম্ভাবনা। শিক্ষা, বিনোদন, কাজ—সব ক্ষেত্রেই প্রযুক্তির ব্যবহার এক বিপ্লব ঘটিয়েছে। আর এই প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে অনলাইন শিক্ষা আজও টিকে রয়েছে। শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই পছন্দের শিক্ষকের কাছে পড়ার সুযোগ পাচ্ছেন, যা অনেকের সময় ও শ্রম বাঁচাচ্ছে।
শুরুটা কোভিডকালে
কোভিড-১৯-এর সময়ে, যখন পৃথিবী কার্যত স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল, তখন একমাত্র সম্বল হয়ে উঠেছিল মোবাইল, ল্যাপটপ বা ট্যাব। স্কুল, কলেজ, অফিস এমনকি নাচ-গান শেখার ক্ষেত্রেও অনলাইন মাধ্যমই ভরসা হয়ে দাঁড়ায়। তবে এই ধারণা একেবারেই নতুন ছিল না। কিন্তু কোভিডের সময় এটি ব্যাপক ভাবে জনপ্রিয়তা লাভ করে।

শিক্ষার পরিসরে অনলাইন মাধ্যমের প্রভাব
মহামারির সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর দরজা বন্ধ হয়ে গেলেও, অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে পড়াশোনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব হয়। অনলাইন শিক্ষার সুবিধা নিয়ে শিক্ষক থেকে শিক্ষার্থী—সবাই বেশ অভ্যস্ত হয়ে উঠেছেন। অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে পড়াশোনার পাশাপাশি নাচ, গান, আঁকা বা টিউশন পড়ার ক্ষেত্রেও সুযোগ বেড়ে যায়।
বেহালার কবি ও শিক্ষিকা সাম্য কার্ফা জানালেন, “কোভিডের সময় অনুষ্ঠান বন্ধ থাকায় ডিজিটাল কনসার্টের ভাবনা শুরু হয়। এতে সারা পৃথিবীর মানুষ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারছিলেন। এই ডিজিটাল মাধ্যমের জনপ্রিয়তা এখনও টিকে আছে।”
অনলাইন শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা ও সুবিধা
অনলাইন শিক্ষার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো সময় বাঁচানো। শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকের মধ্যে দূরত্ব থাকলেও ক্লাস করা বা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে। যেমন, শিক্ষিকা মধুজা মুখোপাধ্যায় বলেন, “বিদেশে থাকা ভারতীয়রা আগে থেকেই অনলাইনে ভারতীয় সংগীত শিখতেন। এখন দেশের মধ্যেও এই পদ্ধতি খুব জনপ্রিয় হয়েছে।”
মধুজা আরও জানান, “আগে গুরুগৃহে থেকে গান শেখার চল ছিল, তবে এখন প্রযুক্তি সেই ব্যবস্থাকে সহজ করেছে। গুরু-শিষ্যের সম্পর্ক অনলাইনে ধীরে ধীরে গড়ে উঠছে, যা এক সময় অসম্ভব মনে করা হতো।”
শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা
ক্লাস এইটের অনুষ্কা সরকার জানায়, “অনলাইন ক্লাসে আলাদা করে যাতায়াত করতে হয় না। এতে সময় বাঁচে এবং ভালোভাবে শেখা যায়।”
শিক্ষকদের অভিজ্ঞতা
শিক্ষিকা স্বাগতা ঘোষ চক্রবর্তী জানালেন, “করোনার সময়ে অনলাইনে আঁকা শেখাতে গিয়ে প্রথমে সমস্যা হয়েছিল। তবে পরে তা অভ্যাস হয়ে যায়। বর্তমানে অনেকেই সময় ও দূরত্ব বাঁচাতে অনলাইন ক্লাস বেছে নিচ্ছেন।”
বৃন্দা বসু, একটি অনলাইন শিক্ষা সংস্থার কর্ণধার, বললেন, “অনলাইন টিউশন কোভিডের পর থেকে বহুল জনপ্রিয় হয়েছে। শিক্ষকেরা তাঁদের বাড়ি বসে পড়াতে পারছেন। তেমনই শিক্ষার্থীরাও দূরে থেকেও পছন্দের শিক্ষকের কাছে পড়ার সুযোগ পাচ্ছেন।”
প্রযুক্তি ও শিক্ষা: এক অটুট বন্ধন
করোনা আমাদের জীবনে প্রযুক্তির গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে। শিক্ষার ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি শুধু এক মাধ্যম নয়, বরং শিক্ষাকে সকলের জন্য সহজলভ্য করার এক শক্তিশালী হাতিয়ার। দেশ বা বিদেশের দূরত্ব এখন আর শিক্ষার পথে বাধা নয়।
উপসংহার
করোনা মহামারি আমাদের অনেক কিছু কেড়ে নিলেও, শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রযুক্তির উন্নয়ন একটি উল্লেখযোগ্য দিক। অনলাইন শিক্ষার অভ্যাস আমাদের সময়, শ্রম এবং অর্থ সাশ্রয় করেছে। ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি আরও উন্নত হয়ে শিক্ষার গণ্ডি প্রসারিত করবে, এটি বলা যায় নিশ্চিতভাবে।
ইসরোর নতুন চেয়ারম্যান: ভি নারায়ণ দায়িত্ব নেবেন ১৪ জানুয়ারি