‘করোনা’ সন্দেহেই চিকিৎসা নয়!
একজন রোগী হাসপাতালে গিয়েছিলেন চিকিৎসার আশায়। কিন্তু সেখানে তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়া হয় শুধুমাত্র ‘করোনা আক্রান্ত’ হতে পারেন এই সন্দেহে। চিকিৎসার পরিবর্তে তাঁকে ফেলে রাখা হয়—ফল, ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যু। এমনই এক হৃদয়বিদারক ঘটনার প্রেক্ষিতে এবার কলকাতা হাই কোর্ট এক বেসরকারি হাসপাতালকে পাঁচ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিল।
ঘটনাটি ২০২০ সালের ১০ জুলাইয়ের। বেলঘরিয়ার বাসিন্দা, ২১ বছর বয়সি শুভজিৎ চট্টোপাধ্যায় গুরুতর শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হন কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে। পরিবারের অভিযোগ, তরুণের অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক ছিল, এবং দ্রুত অক্সিজেন দেওয়ার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁকে চিকিৎসা না করে ফেলে রাখে। তাঁদের ধারণা ছিল শুভজিৎ হয়তো করোনা আক্রান্ত, অথচ কোনও পরীক্ষাও হয়নি।
সেই অবহেলার জেরেই শুভজিতের মৃত্যু হয়। তারপর থেকেই পরিবারের লড়াই শুরু। রাজ্য স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রক কমিশনে প্রথমে অভিযোগ জানানো হয়। কমিশন তদন্ত করে হাসপাতালের দায় স্বীকার করে নেয় এবং ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
হাসপাতাল এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাই কোর্টে যায়। কিন্তু প্রথমে সিঙ্গল বেঞ্চ এবং পরে ডিভিশন বেঞ্চ—উভয়েই স্বাস্থ্য কমিশনের রায় বহাল রাখে। বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি ঋতব্রতকুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চ বুধবার জানায়, “ন্যূনতম চিকিৎসা পরিষেবা না দিয়ে কোনো রোগীকে অবহেলা করা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটা হাসপাতালের মৌলিক দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালন না করেই রোগীর মৃত্যুর জন্য হাসপাতাল দায়ী।”
মৃত শুভজিতের মা আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “আমার সন্তানকে হারিয়েছি। এই ক্ষতিপূরণ কোনও শান্তি দিতে পারবে না। তবে আদালতের এই রায় অন্তত প্রমাণ করল, অন্যায় হয়েছে। ওই টাকা দিয়ে আমি কোনও অসহায় মানুষের চিকিৎসার জন্য সাহায্য করব।”
এই ঘটনাটি করোনা পরিস্থিতির অরাজকতা এবং কিছু হাসপাতালের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের নগ্ন উদাহরণ হয়ে উঠেছে। যেখানে সন্দেহের বশে রোগীকে চিকিৎসা না দিয়ে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়, সেখানে আইনের কঠোর অবস্থান ভবিষ্যতের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।
চল্লিশের পর ফিটনেস মানে শুধু ঘাম নয়, সচেতনতা! লিসা রে জানালেন কোন ব্যায়াম থেকে দূরে থাকবেন