অনলাইন পুজোতে ধাক্কা খেতে পারে কালীঘাটের পান্ডারাজ!
দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় স্থানে পান্ডাদের আধিপত্য বহু পুরনো সমস্যা। বহুবার চেষ্টা করেও তাঁদের নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি, প্রশাসনও এই সমস্যার সমাধান করতে ব্যর্থ। কলকাতার একমাত্র সতীপীঠ কালীঘাট মন্দিরও এর ব্যতিক্রম নয়। পুণ্যার্থীরা এখানে পুজো দিতে এলেই পান্ডা ও দালালদের চাপে পড়তে হয়।
গয়ার মতো কালীঘাট মন্দিরেও অনলাইনে পুজোর উদ্যোগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও মন্দির কর্তৃপক্ষ এখনই চুপ। গয়ার মতোই এখানে অনলাইন ব্যবস্থার বিরোধিতা প্রবল। সেবাইত ও পান্ডাদের দাবি, অনলাইনে পুজো চালু হলে তাঁদের রুজি-রোজগার হুমকির মুখে পড়বে। এক পান্ডার কথায়, “আমরা নির্দিষ্ট বেতন পাই না। পুণ্যার্থীদের দক্ষিণাইই আমাদের জীবিকা। অনলাইনে পুজো শুরু হলে আমাদের আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যাবে।”
মন্দির চত্বরে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ জনের বেশি পান্ডা কাজ করেন। তাঁদের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন প্রায় ৫০০-৬০০ জন দালাল। এই দালালরাই পুণ্যার্থীদের ধরে ডালার দোকান পর্যন্ত নিয়ে যান, সেখান থেকে পান্ডাদের দায়িত্ব শুরু হয়। কালীঘাট মন্দিরের আশেপাশে প্রায় ১৫০টিরও বেশি ডালার দোকান রয়েছে, যেখানে প্রতিদিন হাজার হাজার ভক্তের ভিড় হয়।
পুণ্যার্থীরা অভিযোগ করেন, মন্দিরের কাছাকাছি যেতেই মৌমাছির ঝাঁকের মতো পান্ডা ও দালালরা ঘিরে ধরেন তাঁদের। এই বিষয়ে মন্দির প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনও উদাসীন। অনলাইন পুজোর প্রসঙ্গে মন্দির কর্তৃপক্ষ আইনি জটিলতার যুক্তি দিচ্ছেন। সেবাইতদের একাংশের মতে, “মায়ের দর্শন করে মন্দিরে সরাসরি পুজো দেওয়ার যে পুণ্য, তা অনলাইনে সম্ভব নয়।”
দালালরাও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, দোকানে কতজন পুণ্যার্থী নিয়ে যাওয়া যায়, তার উপর তাঁদের আয় নির্ভর করে। “পুজো না করলে কমিশনও মেলে না,” বলে জানালেন এক দালাল।
গয়ার অনলাইন পিণ্ডদান প্রকল্পের মতো কালীঘাটে অনলাইন পুজো চালু হলে এই দীর্ঘদিনের পান্ডা-দালালরাজ ভেঙে পড়তে পারে। তবে এর ফলে পুণ্যার্থীদের জন্য হয়তো মন্দিরে পুজো দেওয়া আরও সহজ হবে। তবুও, ধর্মীয় আবেগ ও জীবিকার সুরক্ষার দোহাই দিয়ে পুরোহিত ও সেবাইতেরা অনলাইন পুজোর বিরোধিতায় সরব।
এখন দেখার, প্রশাসন কি গয়ার মতো পদক্ষেপ নিয়ে কালীঘাট মন্দিরে পুণ্যার্থীদের অভিজ্ঞতা বদলাতে পারে, নাকি ঐতিহ্যের দোহাই দিয়ে পুরনো নিয়মই বহাল থাকবে।
গাজায় সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডে নেতানিয়াহুর দুঃখপ্রকাশ, ইজরায়েলে যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভ তীব্রতর