বেসরকারি বাসের বয়স ১৭ নয়
করোনা অতিমারির সময় বহু বেসরকারি বাস বন্ধ ছিল দীর্ঘদিন। ব্যবহার না হওয়ায় যন্ত্রাংশও অনেকটা অক্ষত থেকে গিয়েছে। কিন্তু সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, বাণিজ্যিক বাসের ১৫ বছর পূর্ণ হলেই তা আর রাস্তায় নামতে পারে না। আর এ কারণেই বহু বাসমালিক এখন নিজেদের ‘সচল’ বাস নিয়েও দুশ্চিন্তায়।
এই পরিস্থিতিতে পরিবহণ দফতর চিন্তা করছে— যদি নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করা যায়, তাহলে বাণিজ্যিক গাড়ির সময়সীমা আরও দু’বছর বাড়ানো যায় কি না। অর্থাৎ, পুরনো বাসগুলোকে ১৭ বছর পর্যন্ত রাস্তায় চালানোর অনুমতি দেওয়ার ভাবনা চলছে।
পরিবহণ দফতরের এক কর্তা জানালেন, “সব বাস নয়, শুধুমাত্র সেই বাসগুলির ক্ষেত্রেই এই ছাড় দেওয়া হবে, যেগুলো যাত্রী নিরাপত্তা, ফিটনেস এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণে সফল প্রমাণিত হবে।”
কী কী শর্ত মানতে হবে বাসগুলিকে?
- ছয় মাস অন্তর ফিটনেস সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক।
- পরিবহণ দফতরের থেকে বিশেষ ছাড়পত্র নিতে হবে।
- যান্ত্রিক অবস্থা, ধোঁয়ার মাত্রা, ব্রেকিং সিস্টেম ইত্যাদির উপর ভিত্তি করেই মিলবে অনুমতি।
তবে এখানেই থেমে নেই জটিলতা। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, কলকাতা মিউনিসিপাল ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (KMDA) এলাকার মধ্যে ১৫ বছরের বেশি পুরনো বাণিজ্যিক গাড়ি চলাচল করতে পারবে না। অর্থাৎ, রাজ্যের অন্য জায়গায় বাস চললেও কলকাতা শহরের মধ্যে চলা সম্ভব নয়।
এ নিয়ে বছরখানেক আগেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে পরিবহণ মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী এবং অন্যান্য আধিকারিকেরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় বসেন। সেই সময় থেকেই বাসের সময়সীমা নিয়ে ভাবনাচিন্তার সূচনা।
বাসমালিকদের দাবি কী?
সিটি সাবারবান বাস সার্ভিসের নেতা টিটু সাহা এই সময়সীমা বৃদ্ধির বিষয়ে বলছেন, “কেন্দ্রীয় পরিবহণ মন্ত্রকের নির্দেশে কোনও নির্দিষ্ট বয়সসীমা নেই। তাহলে রাজ্য সরকার কেন ১৭ বছরের গণ্ডি টানছে?”
তিনি আরও বলেন, “যদি একটি বাস সকল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়, নিরাপদ হয়, দূষণ না ছড়ায়, তবে কেন তাকে চলতে দেওয়া হবে না? সময়সীমা ১৭ না থেমে আরও বাড়ানো হোক। এই সিদ্ধান্তে শুধু বাসমালিকদেরই নয়, উপকৃত হবেন প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রীও।”
শেষ কথা
বাস মানেই শুধু একটা যান নয়, এটা অনেকের রুজি-রুটি, শহরের শ্বাস-প্রশ্বাস। পুরনো হলেই তাকে বাতিল করা, নাকি মেরামত করে নতুন করে পথ চলার সুযোগ দেওয়া— এই দ্বন্দ্বের মাঝেই এবার এক বাস্তবতাকে সম্মান জানিয়ে সময়সীমা বাড়ানোর পথে হাঁটছে সরকার। এখন দেখার, আদালতের রায় ও সরকারি সিদ্ধান্তে বাস্তবের সঙ্গে কতটা সমন্বয় তৈরি হয়।
রুই-কাতলার একঘেয়েমিতে বিরাম! স্বাদ বদল আনতে রান্না করুন ট্যাংরা মাছের ঝালঝালে তেল-ঝাল