৭৮ ওভার, ১৫ উইকেট — ‘ফিট’ শামি! তাহলে কেন টেস্টে সুযোগ নেই ‘লালা’-র?

৭৮ ওভার, ১৫ উইকেট — ‘ফিট’ শামি! ভারতীয় ক্রিকেটের সবচেয়ে ধারাবাহিক ও ভয়ঙ্কর পেসারদের তালিকায় মহম্মদ শামির (Mohammed Shami) নাম প্রথম সারিতেই থাকবে। বয়স ৩৫ হলেও এখনও আগের মতোই ছন্দে,…

November 1, 2025
1 min read

৭৮ ওভার, ১৫ উইকেট — ‘ফিট’ শামি!

ভারতীয় ক্রিকেটের সবচেয়ে ধারাবাহিক ও ভয়ঙ্কর পেসারদের তালিকায় মহম্মদ শামির (Mohammed Shami) নাম প্রথম সারিতেই থাকবে। বয়স ৩৫ হলেও এখনও আগের মতোই ছন্দে, আগের মতোই ধারালো। রঞ্জি ট্রফিতে মাত্র দু’টি ম্যাচে ৭৮ ওভার বল করে ১৫ উইকেট তুলে নিয়েছেন, তাও ১৮টি মেডেনসহ! তবুও জাতীয় দলে তাঁর জায়গা হয়নি। প্রশ্ন উঠছে— এত পারফরম্যান্স দিয়েও আর কী পরীক্ষা দিতে হবে শামিকে?


🏏 শামির দুর্দান্ত পারফরম্যান্স এক নজরে

পরিসংখ্যানরঞ্জি ট্রফি ২০২৫-২৬
ম্যাচ২
বল করা৭৮ ওভার
মেডেন১৮
রান দিয়েছেন১৫৭
উইকেট১৫
গড়১০.৪৭
সর্বাধিক উইকেটধারীদের মধ্যে স্থানতৃতীয়

📌 সূত্র: BCCI Domestic Stats – Ranji Trophy 2025-26


🗣️ প্রাক্তনদের মত: “আর কী প্রমাণ করবে শামি?”

প্রাক্তন নির্বাচক শরদিন্দু মুখোপাধ্যায় মনে করেন, “শামির ফিটনেস নিয়ে আর প্রশ্ন তোলার কিছু নেই। ওকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজেই ফিরিয়ে আনা উচিত ছিল।”

বাংলার কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্ল সরাসরি বলেছেন,

“শামি প্রায় ৫০০ উইকেট নিয়েছে। ওর কিছু প্রমাণ করার নেই। আগের মতোই ধার, আগের মতোই নিখুঁত সিম পজিশন।”

অন্যদিকে, প্রাক্তন ক্রিকেটার মনোজ তিওয়ারি আরও তীব্র ভাষায় বলেন, “শামিকে দলে না নেওয়া গম্ভীর ও আগরকরের লজ্জা পাওয়া উচিত। এত বছরের অভিজ্ঞ বোলারের সঙ্গে নতুনদের তুলনা করা অপমানজনক।”


⚙️ নির্বাচকদের যুক্তি বনাম বাস্তবতা

অজিত আগরকর ও গৌতম গম্ভীরের নেতৃত্বে নতুন নির্বাচক কমিটি জানিয়েছিল, “চোট সারিয়ে সরাসরি জাতীয় দলে ফেরা যাবে না, আগে ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিটনেস প্রমাণ করতে হবে।”

কিন্তু বিতর্ক এখানেই — কারণ ঋষভ পন্থ সরাসরি ভারত ‘এ’-এর অধিনায়ক হয়েছেন, অথচ শামিকে সুযোগ দেওয়া হয়নি, যদিও তিনি মাঠে নেমে নিজের ফর্ম ও ফিটনেস প্রমাণ করেছেন।

👉 এই নিয়েই সমালোচনা তুঙ্গে— “নিয়ম কি সবার জন্য একই?”


🔥 কোচ বদরুদ্দিনের চোখে পুরনো শামি ফিরেছেন

শামির শৈশব কোচ মহম্মদ বদরুদ্দিন বলেন,

“লালা যত বেশি বল করে, তত ফিট হয়। ওর সিম পজিশন দেখলেই বোঝা যায় পুরনো শামি ফিরে এসেছে।”

নিজের বাড়িতেই ২২ গজের পিচ বানিয়ে নিয়মিত অনুশীলন করেন শামি, ছন্দ ফিরে পেতে। বদরুদ্দিনের মতে, “এখনও অনেক ক্রিকেট বাকি ওর মধ্যে। ওকে জাতীয় দলে ফেরানো সময়ের দাবি।”


🧩 বিশ্বকাপেও একই ছবি

২০২৩ সালের ওডিআই বিশ্বকাপে প্রথম চার ম্যাচে বেঞ্চে ছিলেন শামি। কিন্তু যখনই সুযোগ পেলেন— ৭ ম্যাচে ২৩ উইকেট, টুর্নামেন্টের সর্বাধিক। তবুও উপেক্ষা!

👉 আরও পড়ুন: ভারতীয় ক্রিকেটের সেরা পারফরমারদের বিশ্লেষণ


🏁 উপসংহার

১৫ উইকেট, ১৮ মেডেন, ৭৮ ওভার — সব পরিসংখ্যানই বলছে, শামি এখন পুরোপুরি ফিট এবং আগের মতোই ভয়ঙ্কর। নির্বাচক কমিটির উচিত তাঁকে দ্রুত ফিরিয়ে আনা, নইলে ভারতীয় পেস আক্রমণ অনেক কিছু হারাবে।

“আমার হাতে যা ছিল করেছি,” — বলেছেন শামি, “এখন ভাগ্যের উপর ভরসা রাখছি।”

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *