শামির কণ্ঠে আত্মবিশ্বাসের সুর!
ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক সাফল্য, ফিটনেসে কোনও খামতি নেই—তবু জাতীয় দলে ডাক আসছে না। এই পরিস্থিতিতে অনেকেই হয়তো হতাশ হয়ে পড়তেন। কিন্তু Mohammed Shami অন্য মাটির মানুষ। বরং আইপিএলের আগে তিনি জানিয়ে দিলেন, অবসর নয়—এখনও তাঁর লক্ষ্য আরও বড়।
গত ICC Champions Trophy-এর পর আর ভারতীয় দলে সুযোগ পাননি শামি। অথচ বাংলার হয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে তিনি তুলে নিয়েছেন ৬৭টি উইকেট—যা যে কোনও নির্বাচকের নজর কাড়ার মতোই পারফরম্যান্স। তবুও জাতীয় দলে জায়গা না পাওয়ায় নানা প্রশ্ন উঠছে ক্রিকেট মহলে।
তবে ৩৫ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ পেসার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন—এখনই অবসর নেওয়ার কোনও পরিকল্পনা নেই। তাঁর কথায়, “যে দিন মনে হবে ক্রিকেট একঘেয়ে হয়ে গেছে, সে দিনই সিদ্ধান্ত নেব। তার আগে নয়।” শামির এই বক্তব্যেই স্পষ্ট, খেলার প্রতি তাঁর ভালোবাসা এখনও অটুট।
এ বার আইপিএলে নতুন অধ্যায় শুরু করতে চলেছেন তিনি। Lucknow Super Giants-এর জার্সিতে দেখা যাবে তাঁকে। নিলামের আগে Sunrisers Hyderabad থেকে তাঁকে দলে নিয়েছে লখনউ। নতুন দলে যোগ দিয়ে শামির লক্ষ্য খুব পরিষ্কার—নিজের সেরাটা দেওয়া।
তিনি বলেন, “আমি সব সময় ১০০ শতাংশ দেওয়ার চেষ্টা করি। আমার কাজ বল করা, সেটাই সঠিকভাবে করতে চাই। দল আমার উপর ভরসা করেছে, সেই বিশ্বাসের মর্যাদা রাখাই আমার দায়িত্ব।” কথাগুলোয় যেমন আত্মবিশ্বাস, তেমনই দায়িত্ববোধের ছাপ।
শামি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন—তিনি কখনও ক্লান্তি বা অনীহা নিয়ে খেলতে চান না। তাঁর মতে, ক্রিকেট উপভোগ না করতে পারলে মাঠে নামার কোনও মানেই হয় না। “যে দিন খেলার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলব, সে দিনই নিজে থেকেই সরে দাঁড়াব,”—সোজাসাপ্টা স্বীকারোক্তি তাঁর।
উল্লেখযোগ্য, ২০২৩ সালের আইপিএলে দুরন্ত ফর্মে ছিলেন শামি। Gujarat Titans-এর হয়ে সবচেয়ে বেশি উইকেট নিয়ে জিতেছিলেন পার্পল ক্যাপ। যদিও পরের মরসুমে চোটের কারণে খেলতে পারেননি, তবু তাঁর ধার যে কমেনি, তা ঘরোয়া ক্রিকেটেই প্রমাণ করেছেন।
লখনউ তাঁর আইপিএল কেরিয়ারের ষষ্ঠ দল। এর আগে Punjab Kings, Delhi Capitals এবং Kolkata Knight Riders-সহ একাধিক দলের হয়ে খেলেছেন তিনি। অভিজ্ঞতা আর দক্ষতার মেলবন্ধনে তিনি এখনও যে ভয়ংকর বোলার—তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।
জাতীয় দলে সুযোগ না পেলেও শামির মনোভাব পরিষ্কার—তিনি থামার মানুষ নন। বরং প্রতিটি ম্যাচ, প্রতিটি স্পেলে নিজেকে প্রমাণ করার জন্যই যেন আরও বেশি প্রস্তুত হচ্ছেন।
ক্রিকেট তাঁর কাছে শুধুই পেশা নয়, এক ধরনের আবেগ। আর সেই আবেগ যত দিন থাকবে, তত দিন মাঠে দেখা যাবে শামিকে—গতি, আগুন আর জেদের প্রতীক হয়ে।
শেষ লড়াইয়ের গল্প: জল থেকে তোলার পরও বেঁচে ছিলেন রাহুল, তবু বাঁচানো গেল না