লখনউয়ের জয়ের পর শামির কটাক্ষ!
আইপিএলের মঞ্চে আবারও নিজের উপস্থিতি মেলে ধরলেন মহম্মদ শামি। হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে লখনউ সুপার জায়ান্টসের জয়ে এক নতুন মাত্রা যোগ করে বাংলার এই পেসার নিজের কৃতিত্ব এবং ঘরোয়া ক্রিকেটের গুরুত্বকে উজ্জ্বল করলেন। তবে ম্যাচ শেষে শামির মন্তব্যে খোঁচা ছিল নির্বাচক এবং কোচিং স্টাফের প্রতি। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, “আমি তো যন্ত্র নই” – মানে কেবল পারফরম্যান্স দেখলেই ডাক পাওয়া যায় না।
রবিবারের ম্যাচে শামি চার ওভারে মাত্র ৯ রান খরচ করে তুলে নেন ২ উইকেট। এই উইকেট দু’টি পড়ে যায় ট্রেভিস হেড এবং অভিষেক শর্মার। নিয়ন্ত্রিত বোলিং এবং ম্যাচে সংযমী আচরণ দর্শকদের নজর কেড়ে নেয়। ম্যাচের পর তিনি বলেছেন, “খেলতে চাইলে খেলাটার কাছাকাছি থাকা দরকার। ফিট থাকা মানেই দক্ষতা কাজে লাগানো সম্ভব। তাই আমি সব সময় ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলেছি, যেন খেলার সাথে নিজেকে বজায় রাখতে পারি।”
গত বছর শামির আইপিএল যাত্রা বিশেষ ভালো যায়নি। হায়দরাবাদের হয়ে ৯ ম্যাচে মাত্র ৬ উইকেট নিয়েছিলেন, প্রতি ওভারে রান দেন ১১.২৩। তবে এবারের ফর্ম অন্যরকম। শামি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, “আমি তো যন্ত্র নই। মরসুমে উত্থান-পতন থাকতেই পারে। গত কয়েক বছর ধরে আমি ভালো খেলছি, যদিও সবাই তা দেখেনি। কিন্তু আমি সবসময় ভালো খেলতে চাই।”
শামি শুধু নিজের কৃতিত্ব নয়, লখনউ দল এবং বোলিং কোচ ভরত অরুণকেও কৃতিত্ব দিয়েছেন। বলেছেন, “ভরত ভাইয়ের সঙ্গে আগে ভারতীয় দলে অনেক দিন কাজ করেছি। আমাদের বন্ধন খুব ভালো। একে অপরকে ভালো বুঝতে পারি। লখনউ আমার দ্বিতীয় বাড়ি, তাই মানিয়ে নিতে সময় লাগেনি।”
নিজের পরিশ্রম ও দক্ষতার উপর ভরসা রাখেন শামি। বাকি বিষয়ের মাথা তিনি ঘামান না। বাংলার এই পেসারের কথায়, “আমি শুধু পরিশ্রম করি। বাকিটা উপরে থাকা মানুষ দেখবেন। আইপিএল হোক বা অন্য কোনো মঞ্চ, দক্ষতা নিয়ে পরিশ্রম করতেই হবে। নতুন বল হোক বা পুরনো, আপনি কতটা পরিশ্রম করছেন তার উপর অনেক কিছু নির্ভর করে। আমি চাই নতুন বলের শক্তি কাজে লাগাতে এবং দলের কাজে অবদান রাখতে।”
শামির এই মন্তব্য প্রমাণ করে, তিনি শুধু উইকেট নয়, নিজের মানসিক শক্তি এবং ধৈর্যকেও গুরুত্ব দেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিকতা ধরে রেখে নিজের খেলার দক্ষতা এবং ফিটনেস নিশ্চিত করা তার কৌশল। যে কারণে লখনউয়ের জয়ে তার অবদান একাধিক স্তরে প্রশংসিত।
সতীর্থদের সঙ্গে সমঝোতা, দলের সঙ্গে বন্ধন এবং নিজের দক্ষতার উপর আত্মবিশ্বাস—এই তিনটি দিকই শামিকে একজন নির্ভরযোগ্য এবং অনুপ্রেরণামূলক পেসার হিসেবে তুলে ধরেছে। আজকের দিনে আইপিএল হোক বা ভবিষ্যতের অন্য মঞ্চ, মহম্মদ শামির মানসিকতা এবং খেলার প্রতি দায়বদ্ধতা তাকে সর্বদা একটি শক্তিশালী প্রতিযোগী হিসেবে ধরে রাখবে।
শেষ লড়াইয়ের গল্প: জল থেকে তোলার পরও বেঁচে ছিলেন রাহুল, তবু বাঁচানো গেল না