টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করল বরোদা। সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতে সিকিমের বিরুদ্ধে ২০ ওভারে ৩৪৯ রান তুলে বরোদা গড়ল এক অবিস্মরণীয় বিশ্বরেকর্ড। এটি এখন পর্যন্ত টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর। এর আগে জিম্বাবোয়ের ৩৪৪ রানের রেকর্ড মাত্র ৪৩ দিনেই মুছে দিয়ে নতুন মাইলফলক ছুঁল বরোদা।
এই ঐতিহাসিক ইনিংসের মূলে ছিলেন বরোদার ব্যাটসম্যান ভানু পানিয়া। তাঁর ৫১ বলে ১৩৪ রানের বিধ্বংসী ইনিংস বরোদার জয়ের ভিত মজবুত করে দেয়। এই ইনিংসে পানিয়া মেরেছেন ১৫টি ছয় এবং পাঁচটি চার। টি-টোয়েন্টির এক ইনিংসে এতগুলো ছয় মারার ঘটনা বিরল। শুধু পানিয়া নন, বরোদার প্রতিটি ব্যাটসম্যানই রান তোলার উৎসবে শামিল হন।
বিশ্বরেকর্ডের নায়ক ভানু পানিয়া
ভানু পানিয়ার বিধ্বংসী ব্যাটিং সিকিমের বোলারদের সম্পূর্ণরূপে এলোমেলো করে দেয়। তাঁর ১৩৪ রানের ইনিংস বরোদার স্কোরবোর্ডকে অন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেয়। পানিয়ার ইনিংসটি শুধুমাত্র দ্রুতগতিরই ছিল না, বরং তা ছিল সঠিক পরিকল্পনার নিদর্শন। ম্যাচের প্রথম থেকেই তিনি চালিয়ে খেলেন এবং সিকিমের কোনও বোলারকেই সুযোগ দেননি। তাঁর ১৫টি ছয়ের ইনিংসটি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
বরোদার আরও ব্যাটিং নায়ক
ভানু পানিয়ার পাশাপাশি শিবালিক শর্মা, অভিমন্যু সিংহ, বিষ্ণু সোলাঙ্কি, এবং শ্বাশ্বত রাওয়াতের ব্যাটিংও ছিল নজরকাড়া।
- শিবালিক শর্মা: ১৭ বলে ৫৫ রান
- অভিমন্যু সিংহ: ১৭ বলে ৫৩ রান
- বিষ্ণু সোলাঙ্কি: ১৬ বলে ৫০ রান
- শ্বাশ্বত রাওয়াত: ১৬ বলে ৪৩ রান
এই ব্যাটসম্যানরা মিলে সিকিমের বিরুদ্ধে একের পর এক আক্রমণ শানিয়ে যান। বরোদার ইনিংসে মোট ৩৭টি ছয় এবং ১৮টি চার মারেন ব্যাটসম্যানরা। দলীয় ইনিংসের প্রথম পাঁচ ওভারে ৯২ রান তোলে বরোদা। ওপেনারদের দ্রুত বিদায়ের পরেও তারা ছন্দ হারায়নি। তৃতীয় উইকেটে ৯৪ রানের জুটি এবং পঞ্চম উইকেটে ৮৮ রানের জুটি বরোদাকে বিশ্বরেকর্ড গড়তে সাহায্য করে।
আগের রেকর্ড ও তার ভাঙন
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এর আগে ৩০০ পেরোনোর ঘটনাগুলি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। গত বছর এশিয়ান গেমসে মঙ্গোলিয়ার বিরুদ্ধে নেপাল ৩১৪/৩ করে নজির গড়েছিল। কিন্তু সেই রেকর্ড অল্প সময়ের মধ্যেই ভেঙে দেয় জিম্বাবোয়ে। ২৩ অক্টোবর গাম্বিয়ার বিরুদ্ধে ৩৪৪/৪ রান তুলে জিম্বাবোয়ে টি-টোয়েন্টির সর্বোচ্চ স্কোর গড়ে। তবে মাত্র ৪৩ দিনের মধ্যেই বরোদা সেই রেকর্ডকে পেছনে ফেলে দিল।
সিকিমের বিরুদ্ধে সহজ জয়
বরোদার ৩৪৯ রান তোলার পর সিকিমের জবাব কার্যত নিষ্প্রভ ছিল। তাদের ব্যাটিং লাইনআপ বরোদার বোলিং আক্রমণের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি। ফলে, বরোদা একতরফা জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে।
টেস্ট খেলিয়ে দেশগুলির স্কোর
যদিও এই রেকর্ডটি ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতার, তবে টেস্ট খেলিয়ে দেশগুলির মধ্যেও সর্বোচ্চ রান করার নজির ভারতের। ২০২৪ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ভারত ২৯৭/৬ তুলেছিল।
উপসংহার
বরোদার এই ঐতিহাসিক ইনিংসটি শুধু সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফির জন্য নয়, বরং বিশ্ব ক্রিকেটের জন্য একটি স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকবে। ভানু পানিয়া এবং তাঁর দলের অসাধারণ ব্যাটিং পারফরম্যান্স ক্রিকেটপ্রেমীদের দীর্ঘদিন মনে থাকবে। এই রেকর্ড কেবল বরোদার জন্য গর্বের বিষয় নয়, বরং এটি টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে নতুন রেকর্ড গড়ার চেতনাকে আরও তীব্র করবে।