বিজেপির দুই বিধায়ককে ফিরিয়ে দেওয়ার কারণ জানালেন অভিষেক!
পশ্চিম মেদিনীপুরে বিজেপির মাত্র দু’জন বিধায়ক। অথচ সেই দু’জনই নাকি তৃণমূলে যোগ দিতে চেয়েছিলেন—এমনই বিস্ফোরক দাবি করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার কলেজ মাঠে ‘রণসংকল্প সভা’য় দাঁড়িয়ে তিনি স্পষ্ট করে জানালেন, ওই দুই বিধায়কের জন্য তৃণমূলের দরজা বন্ধই থাকবে।
শুরুতে নাম না করলেও পরে খড়্গপুরের বিজেপি বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রকাশ্যে আনেন অভিষেক। তাঁর বক্তব্য, দলের কর্মীদের সম্মান রক্ষার স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত। কারণ, যারা এক সময় সিপিএমের ‘হার্মাদ’ ছিল, তারা আজ বিজেপির ‘জল্লাদ’ হয়ে উঠেছে—কিন্তু তারা কোনও দিনই তৃণমূলের ‘সম্পদ’ হতে পারে না।
অভিষেক বলেন, “পশ্চিম মেদিনীপুরে বিজেপির দু’জন বিধায়ক তৃণমূলে আসতে চেয়েছিলেন। আপনাদের দাবিকে সম্মান জানিয়ে আমি দরজা বন্ধ রেখেছি।” তাঁর ‘আপনাদের’ বলতে বোঝাতে তিনি তৃণমূল কর্মীদেরই ইঙ্গিত করেন। তাঁর মতে, যাঁরা দিনের পর দিন বিজেপির বিরুদ্ধে লড়েছেন, তাঁদের আত্মসম্মানে আঘাত দিয়ে দলবদলু নেতাদের দলে নেওয়া যায় না।
এরপর তিনি স্মরণ করিয়ে দেন পশ্চিম মেদিনীপুরের রাজনৈতিক ইতিহাস। বিশেষ করে বেনাচাপড়ার কঙ্কালকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সিপিএম জমানায় কী ভাবে তৃণমূল কর্মীরা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তা এলাকার মানুষ ভুলে যাননি। সেই সময় যাঁদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অভিযোগ ছিল, তাঁদের অনেকেই আজ বিজেপির গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন বলে অভিযোগ করেন অভিষেক।
তিনি একের পর এক নাম তুলে ধরেন—দেবাশিস রায়, তন্ময় ঘোষ, সুবীর ঘোষ, তড়িৎ খাটুয়া, মহাদেব প্রামাণিক—যাঁরা কেউ একসময় সিপিএমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, আবার আজ বিজেপির নেতা বা কার্যকর্তা। অভিষেকের কথায়, “এই যোগসাজশই প্রমাণ করে, সিপিএম আর বিজেপির মধ্যে তফাতটা কোথায় মিশে গেছে।”
এরপরেই তিনি হিরণের প্রসঙ্গে আসেন। বলেন, “অজিত মাইতির সঙ্গে হিরণ আমার দফতরে এসেছিল। আপনাদের কথা ভেবেই আমি তাঁকে দলে নিইনি।” সঙ্গে যোগ করেন, এই সিদ্ধান্তে তিনি গর্বিত, কারণ এতে দলের কর্মীদের মর্যাদা রক্ষা হয়েছে।
এই প্রসঙ্গ নতুন নয়। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের আগে ঘাটালে দেবের হয়ে প্রচারে গিয়েও অভিষেক একই দাবি করেছিলেন—হিরণ নাকি তৃণমূলে ফিরতে চেয়েছিলেন। তখন হিরণ সেই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, অভিষেকই তাঁকে ডেকেছিলেন। দলকে জানিয়ে তবেই তিনি গিয়েছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।
শুক্রবার আবার সেই বিতর্ক নতুন করে উসকে দিয়ে অভিষেক স্পষ্ট বার্তা দিলেন—দল বদলের রাজনীতিতে তৃণমূল বিশ্বাসী নয়। তাঁর ভাষায়, “যারা একদিন আমাদের কর্মীদের উপর অত্যাচার করেছে, তারা আজ অন্য পতাকা ধরলেই শুদ্ধ হয়ে যায় না।”
সব মিলিয়ে, পশ্চিম মেদিনীপুরের মঞ্চ থেকে অভিষেক বুঝিয়ে দিলেন—সংখ্যার হিসাব নয়, তৃণমূলের কাছে সবচেয়ে বড় সম্পদ দলের কর্মীদের আত্মসম্মান ও ইতিহাস। আর সেই জায়গায় কোনও আপস নেই।
‘স্পিরিট’-এ প্রভাসের ১৬০ কোটি! নায়িকাদের পারিশ্রমিকের ফারাক ঘিরে নতুন চর্চা