হরমুজ় প্রণালীতে ফের পণ্যবাহী জাহাজে হামলা!
হরমুজ় প্রণালী দিয়ে যাওয়া একটি পণ্যবাহী জাহাজে ফের হামলার ঘটনা ঘিরে পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক শান্তি সমঝোতার পর এই প্রথম এমন হামলার অভিযোগ উঠেছে তেহরানের বিরুদ্ধে। ফলে এই সমঝোতার ভবিষ্যৎ এবং হরমুজ় প্রণালীতে আন্তর্জাতিক নৌ-পরিবহণের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এবং সংবাদ সংস্থা রয়টার্স-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার হরমুজ় প্রণালী অতিক্রম করার সময় সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী পণ্যবাহী জাহাজ ‘এভার লাভলি’-র উপর হামলা চালানো হয়। ওমানের দাহিট বন্দর থেকে প্রায় ৭.৫ নটিক্যাল মাইল দূরে ঘটনাটি ঘটে।
ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, আকাশপথ থেকে একটি ভারী বস্তু জাহাজটির উপর নিক্ষেপ করা হয়। হামলায় জাহাজটির কিছু ক্ষয়ক্ষতি হলেও কোনও নাবিক বা কর্মী আহত হননি। ঘটনার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।
ঘটনাটিকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে এর সময় নির্বাচন নিয়ে। কারণ, সম্প্রতি আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে হওয়া শান্তি সমঝোতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত ছিল হরমুজ় প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখা। সেই আবহেই এই হামলা নতুন করে অনিশ্চয়তার জন্ম দিয়েছে।
এর আগে ইরানের আধাসামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল যে, তাদের অনুমতি ছাড়া কোনও জাহাজ হরমুজ় প্রণালী অতিক্রম করতে পারবে না। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের সংযোগকারী এই কৌশলগত জলপথের উপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার বার্তাই তেহরান দিতে চাইছে বলে আন্তর্জাতিক মহলের একাংশের ধারণা।
সেই সতর্কবার্তার পরপরই ‘এভার লাভলি’-র উপর হামলার ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে, ইরানের নির্দেশ অমান্য করার ‘শাস্তি’ হিসেবেই কি এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে? যদিও এই বিষয়ে ইরান এখনও আনুষ্ঠানিক কোনও মন্তব্য করেনি। ফলে হামলার প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে জল্পনা আরও বেড়েছে।
ঘটনার পর রাষ্ট্রপুঞ্জের অধীনস্থ ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (আইএমও) হরমুজ় প্রণালীতে চলা উদ্ধার অভিযান আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যুদ্ধের সময় আটকে পড়া জাহাজ এবং নাবিকদের নিরাপদে সরিয়ে আনতেই এই অভিযান চলছিল।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ় প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও অন্যান্য পণ্য পরিবহণ করা হয়। তাই এই অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির সামান্য অবনতিও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জ্বালানি সরবরাহ এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির উপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। সেই কারণেই সাম্প্রতিক এই হামলাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ আরও তীব্র হয়েছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?