হরমুজ় নিয়ে ফের ট্রাম্পের বিস্ফোরক দাবি!
হরমুজ় প্রণালীকে আমেরিকার ‘নতুন ভূখণ্ড’ হিসেবে দেখিয়ে ফের বিতর্ক উস্কে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রবিবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে হরমুজ় প্রণালীর একটি ছবি পোস্ট করে এমন দাবি করেন তিনি। এর আগে লং আইল্যান্ডের একটি পুলিশ অ্যাকাডেমিতে গিয়ে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, খুব শীঘ্রই এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথকে মার্কিন ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করা হবে।
ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন সময় সামনে এল, যখন হরমুজ় প্রণালীকে ঘিরে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা চরমে। ইরান অবশ্য ট্রাম্পের দাবিকে কার্যত কোনও গুরুত্বই দিতে রাজি নয়। তেহরানের বক্তব্য, ওয়াশিংটন নিজেদের নীতি না বদলানো পর্যন্ত হরমুজ় প্রণালী পুনরায় খোলা হবে না।
ট্রাম্পের পোস্ট ঘিরে নতুন বিতর্ক
রবিবার ট্রাম্প হরমুজ় প্রণালীর ছবি প্রকাশ করে ফের নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন। কয়েক দিন আগেই তিনি জানিয়েছিলেন, ইরানের বিরুদ্ধে অবস্থান আরও কঠোর করার পাশাপাশি কৌশলগত ভাবে এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
হরমুজ় প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক তেল পরিবহণের ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। ফলে এই অঞ্চল নিয়ে আমেরিকা-ইরান সংঘাত বাড়লে তার প্রভাব আন্তর্জাতিক বাজারেও পড়তে পারে।
ইরানের পাল্টা বার্তা
ট্রাম্পের ঘোষণাকে গুরুত্ব না দিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মহসীন রেজাই জানিয়েছেন, শুধু ঘোষণা করলেই হবে না। আমেরিকাকে নিজেদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হবে এবং আচরণ পরিবর্তন করতে হবে। তার পরেই হরমুজ় প্রণালী খোলার বিষয়ে ভাববে তেহরান।
ফলে ট্রাম্পের নতুন পোস্টকে কেন্দ্র করে দু’দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
জলপথে জাহাজ চলাচল নিয়েও ভিন্ন দাবি
হরমুজ় প্রণালী বন্ধ রয়েছে বলে ইরান দাবি করলেও সাম্প্রতিক সময়ে সেখানে জাহাজ চলাচল বেড়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে প্রায় ২০০টি জাহাজ এই জলপথ পার হয়েছে, যেখানে তার আগের সপ্তাহে সংখ্যা ছিল প্রায় ১৫০।
ট্রাম্পের দাবি, মার্কিন নৌবাহিনী ইতিমধ্যে এক হাজারের বেশি জাহাজকে হরমুজ় প্রণালী পার হতে নিরাপত্তা দিয়েছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, এক দিনে এই জলপথ দিয়ে প্রায় ১ কোটি ৬০ লক্ষ ব্যারেল তেল পরিবহণ হয়েছে।
সব মিলিয়ে, হরমুজ়কে ঘিরে ট্রাম্পের ‘নতুন মার্কিন ভূখণ্ড’ মন্তব্য আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে। অন্যদিকে ইরানের পাল্টা অবস্থানও স্পষ্ট—ওয়াশিংটনের নীতিতে পরিবর্তন না এলে তেহরানও অবস্থান বদলাবে না।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।