সিরিয়ায় রক্তাক্ত প্রতিশোধ!
সিরিয়ায় আবারও রক্তাক্ত অধ্যায় শুরু হয়েছে। ক্ষমতা বদলের পর দেশজুড়ে শুরু হয়েছে প্রতিহিংসার বন্যা। বিদ্রোহীদের হাতে ক্ষমতা যাওয়ার পর প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের অনুগামীরা ক্রমাগত আক্রমণের শিকার হচ্ছেন, আবার পাল্টা হামলাও চালাচ্ছেন তাঁরা। এরই মধ্যে ভয়াবহ অত্যাচারের ঘটনা সামনে আসছে—মহিলাদের নগ্ন করে রাস্তায় হাঁটতে বাধ্য করা, তারপর গুলি করে হত্যা।
ক্ষমতা বদলের পর শুরু অশান্তি
গত ৮ ডিসেম্বর সিরিয়ার দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের পর বিদ্রোহী গোষ্ঠী ‘হায়াত তাহরির আল-শাম’ (HTS) এবং ‘জইশ আল-ইজ্জা’র যৌথ বাহিনী রাজধানী দামাস্কাস দখল করে। প্রেসিডেন্ট আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়, এবং তিনি পালিয়ে যান রাশিয়ায়। বিদ্রোহীরা অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করলেও এখনও দেশে সাধারণ নির্বাচন হয়নি। এই অস্থির পরিস্থিতির মধ্যেই আসাদের অনুগামীদের উপর নেমে আসে প্রতিহিংসার তাণ্ডব।
মহিলাদের উপর বর্বরতা
সংবাদ সংস্থা এপি-র এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ভয়ংকর চিত্র—সিরিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে মহিলাদের নগ্ন করে রাস্তায় হাঁটতে বাধ্য করা হচ্ছে, তারপর তাঁদের ঠাণ্ডা মাথায় গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে। রাস্তায় পড়ে থাকছে দেহের স্তূপ। এসব ঘটনার মূল টার্গেট আসাদপন্থী সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, বিশেষ করে ‘আলওয়াইট’ গোষ্ঠীর মানুষ।
প্রতিশোধের আগুনে পুড়ছে সিরিয়া
গত কয়েকদিনে সিরিয়ায় সহিংসতা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সরকারি ও বিদ্রোহী বাহিনীর মধ্যে লড়াইয়ে হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে প্রচুর সাধারণ নাগরিক, শিশু ও নারীও রয়েছেন। বিদ্রোহী বাহিনী দাবি করছে, তাঁরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। তবে আসাদপন্থী যোদ্ধারা ক্রমাগত পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, যার ফলে দেশজুড়ে আরও অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে।
সংঘর্ষের সূত্রপাত
বৃহস্পতিবার সিরিয়ার উপকূলীয় শহর জাবলেহ্তে এক অভিযুক্তকে ধরতে গেলে আসাদপন্থীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষ শুরু হয়। দ্রুত এই সংঘাত দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। ব্রিটিশ পর্যবেক্ষণ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েকদিনে সিরিয়ায় ৭৪৫ জন সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছেন। এছাড়া, অন্তর্বর্তী সরকারের অন্তত ১২৫ জন নিরাপত্তা কর্মী ও আসাদপন্থী ১৪৮ জন নিহত হয়েছেন।
আতঙ্কে দেশ ছাড়ছে সংখ্যালঘুরা
আসাদের শাসনকালে ‘আলওয়াইট’ সম্প্রদায় সরকারের উচ্চপদে এবং সেনাবাহিনীতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। কিন্তু ক্ষমতার বদলের পর এই সম্প্রদায়ের মানুষ ক্রমাগত হামলার শিকার হচ্ছেন। অনেকেই প্রাণ বাঁচাতে লেবাননের দিকে পালিয়ে যাচ্ছেন।
ভবিষ্যৎ কোন পথে?
সিরিয়ার এই ভয়াবহ পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক মহলকে চিন্তায় ফেলেছে। বিদ্রোহী সরকার দাবি করছে, তারা দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে, কিন্তু বাস্তবে সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। প্রতিশোধের এই ভয়াবহ চক্র থামবে কি না, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
ভারতের বদলার জয়: ২৫ বছর পর নিউ জিল্যান্ডকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি রোহিতদের হাতে