সিরিয়ায় সৈকতে ‘বিকিনি’ নয়, বাধ্যতামূলক ‘বুরকিনি’! নারীদের জন্য নতুন পোশাক বিধি ঘিরে বিতর্কে উত্তাল দেশ

সিরিয়ায় সৈকতে ‘বিকিনি’ নয়, বাধ্যতামূলক ‘বুরকিনি’! দীর্ঘ গৃহযুদ্ধ শেষে নতুন অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর সিরিয়ায় নারীদের পোশাক নিয়ে কড়া নিয়ম জারি করল শাসক গোষ্ঠী। সমুদ্রসৈকত এবং সুইমিং পুলে মহিলারা আর…

June 17, 2025
1 min read

সিরিয়ায় সৈকতে ‘বিকিনি’ নয়, বাধ্যতামূলক ‘বুরকিনি’!

দীর্ঘ গৃহযুদ্ধ শেষে নতুন অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর সিরিয়ায় নারীদের পোশাক নিয়ে কড়া নিয়ম জারি করল শাসক গোষ্ঠী। সমুদ্রসৈকত এবং সুইমিং পুলে মহিলারা আর বিকিনি পরতে পারবেন না— এই মর্মে নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে সিরিয়ার পর্যটন মন্ত্রক। এখন থেকে সৈকতে নামতে হলে নারী পর্যটক বা স্থানীয় বাসিন্দা— সকলকেই পরতে হবে বুরকিনি, অর্থাৎ শরীর পুরোপুরি ঢাকা সাঁতারের পোশাক।

এই নির্দেশে স্পষ্ট বলা হয়েছে, সৈকতে, হোটেলের পুলে বা জনসমক্ষে এমন কোনও পোশাক চলবে না, যাতে শরীর খোলা থাকে। এমনকি পুরুষদের ক্ষেত্রেও বুকে জামা না পরে ঘোরাফেরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, দৈনন্দিন জীবনেও কাঁধ ও হাঁটু ঢাকা ঢিলেঢালা পোশাক পরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

পর্যটনমন্ত্রী মাজেন আল-সালহানি তাঁর ফেসবুক পোস্টে জানান, ‘‘সবার আবেগ, মূল্যবোধ এবং সংস্কৃতির প্রতি সম্মান দেখিয়ে উপযুক্ত পোশাক পরতে হবে।’’ এই নিয়মকে কার্যকর করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সৈকতের তত্ত্বাবধায়কদের।

কিন্তু কী এই ‘বুরকিনি’? বুরকিনি হল মুসলিম মহিলাদের জন্য তৈরি এমন এক সাঁতারের পোশাক, যা মাথা থেকে পা পর্যন্ত ঢেকে দেয়। অস্ট্রেলীয় মুসলিম ফ্যাশন ডিজাইনার আহেদা জানেত্তি ২০০৪ সালে প্রথম এটি তৈরি করেন। লক্ষ্য ছিল— হিজাব পরিহিত মহিলাদের সাঁতারে অংশগ্রহণে স্বচ্ছন্দতা দেওয়া, আবার শালীনতাও বজায় রাখা।

তবে সরকারের এই নির্দেশ ঘিরে শুরু হয়েছে প্রবল বিতর্ক। বেসরকারি হোটেল, রিসর্ট বা ব্যক্তিগত সৈকত এলাকায় এই নিয়ম শিথিল হলেও, সর্বত্র এই পোশাকবিধি জারি নিয়ে দেশের একাংশ নাগরিক ক্ষুব্ধ। অনেকেই বলছেন, এটি তালিবানি ধরনের ফতোয়া, যার মাধ্যমে মহিলাদের স্বাধীনতা খর্ব করা হচ্ছে। সিরিয়ার বহু নারী প্রশ্ন তুলেছেন, ‘‘আমি কী পরব, সেটা কি সরকার ঠিক করে দেবে?’’

বিরোধীরা দাবি করেছে, ক্ষমতাচ্যুত বাশার আল-আসাদ সরকারের পর নতুন সরকারও নারী অধিকারে হস্তক্ষেপ শুরু করেছে। সিরিয়ার রাজধানী দামাস্কাস দখলের পর থেকে বিদ্রোহী গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল-শাম (HTS) শরিয়া অনুপ্রাণিত আইন চালু করার পথে হাঁটছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

উপপর্যটনমন্ত্রী গাইথ আল-ফারাহ অবশ্য পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে বলেছেন, “এটা কোনও কড়া নিষেধাজ্ঞা নয়। আইনভাঙার জন্য শাস্তির মুখে পড়তে হবে না। বরং এই নির্দেশ দেশীয় সংস্কৃতি ও মূল্যবোধকে সম্মান করার একটি আবেদনমাত্র।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শাসক গোষ্ঠী HTS আদর্শগতভাবে তালিবানের কাছাকাছি। ফলে যদি তারা দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকে, তবে আফগানিস্তানের মতো অবস্থা সিরিয়াতেও হতে পারে, যেখানে নারীর পোশাক, শিক্ষাগমন ও চলাফেরার স্বাধীনতা প্রায় সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত।

এনজিও এবং মানবাধিকার কর্মীরা এর বিরোধিতা করে বলছেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার প্রয়োজন উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা— নারীদের পোশাক নিয়ন্ত্রণ নয়।

বিপন্ন ‘ওয়াই’ ক্রোমোজোম! পুরুষের ভবিষ্যৎ কি তবে বিবর্তনের ছাঁকনিতে?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *