নজিরবিহীন বার্তা সুপ্রিম কোর্টের
তদন্তকারী সংস্থা মানেই সাধারণ মানুষের মনে ভরসা, আস্থা আর ন্যায়ের প্রত্যাশা। কিন্তু যদি তদন্তকারীরাই কখনও নিয়ম ভাঙেন? তাঁদের বিরুদ্ধে কি তদন্ত হওয়া উচিত নয়? এই প্রশ্নের উত্তরেই গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিল দেশের শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট জানাল, কখনও কখনও তদন্তকারী আধিকারিকদের বিরুদ্ধেও তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। এতে বিচারব্যবস্থার উপর মানুষের আস্থা অটুট থাকে।
ঘটনাটি কিন্তু নতুন নয়, প্রায় দুই দশক আগের। অভিযোগ ছিল, সিবিআইয়ের দুই আধিকারিক ক্ষমতার অপব্যবহার করেছিলেন। ভয় দেখানো, হুমকি দেওয়া, অবৈধ ভাবে নথি বাজেয়াপ্ত করা— এমন একাধিক অভিযোগ ওঠে তাঁদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় এক ব্যবসায়ী-সহ দুই ব্যক্তি এফআইআর দায়েরের আবেদন জানান। অভিযুক্তদের মধ্যে একজন ছিলেন সিবিআইয়ের তৎকালীন যুগ্ম অধিকর্তা, অন্যজন ইনস্পেক্টর পদমর্যাদার আধিকারিক।
দিল্লি হাই কোর্ট আগেই তাঁদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছিল। এবার সুপ্রিম কোর্টও সেই নির্দেশ বহাল রাখল। বিচারপতি পঙ্কজ মিঠল এবং বিচারপতি পিবি ভারালের বেঞ্চ জানায়, “সময় এসেছে স্বীকার করার যে, কখনও কখনও তদন্তকারীদের বিরুদ্ধেও তদন্ত করা উচিত।”
২০২০ সালের একটি ঘটনার দিকেও নজর দেয় আদালত। অভিযোগ ছিল, সিবিআইয়ের এক আধিকারিক বাজেয়াপ্ত করার সময় কোনও নথি তৈরি করেননি। পরের দিন গিয়ে সেই মেমো বানানো হয়। হাই কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছিল, এই ধরনের কাজ সিবিআইয়ের নিয়মবিধির পরিপন্থী। অর্থাৎ তদন্তকারীরাও আইন ভাঙতে পারেন, তাই তাঁদের কর্মকাণ্ড পরীক্ষা করা জরুরি।
অন্য একটি ঘটনায় আরও গুরুতর অভিযোগ ওঠে। এক মামলায় অভিযুক্ত জামিনে থাকা সত্ত্বেও তাঁকে সিবিআই দফতরে ডেকে পাঠানো হয়। শুধু তাই নয়, অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য তাঁর উপর নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করা হয়। এতে সরাসরি জড়িত ছিলেন তৎকালীন যুগ্ম অধিকর্তা। হাই কোর্টের একক বেঞ্চ স্পষ্ট বলেছিল, “এটিকে শুধুই প্রক্রিয়াগত ত্রুটি বলে উড়িয়ে দেওয়া যাবে না।” তাই ওই দুই আধিকারিকের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দেয় আদালত।
এর পর সিবিআই আধিকারিকেরা সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেন ডিভিশন বেঞ্চে। কিন্তু তাঁদের আবেদন খারিজ হয়ে যায় ২০১৯ সালে। শেষ চেষ্টা হিসাবে তাঁরা সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানেও হাই কোর্টের রায় বহাল থাকে।
সুপ্রিম কোর্ট শুধু তাই নয়, আরও স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে— এই তদন্ত চালাবেন দিল্লি পুলিশের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার পদমর্যাদার কোনও আধিকারিক, অথবা তাঁর থেকে ঊর্ধ্বতন কেউ। অর্থাৎ তদন্তে কোনও পক্ষপাতের সুযোগ রাখা যাবে না।
এই রায়ের মাধ্যমে শীর্ষ আদালত এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিল— ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। তদন্তকারীরা আইন প্রয়োগ করেন বটে, কিন্তু যদি তাঁরাই আইনের সীমা লঙ্ঘন করেন, তবে তাঁদেরও জবাবদিহি করতে হবে। সাধারণ মানুষের কাছে এ এক আশ্বাস— বিচারব্যবস্থা এখনও ন্যায়ের প্রতি দায়বদ্ধ।
ওড়িশায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে ইডির তল্লাশি, ১৩৯৬ কোটির প্রতারণা মামলায় উদ্ধার কোটি টাকার সম্পদ