সুপ্রিম কোর্টে রাজ্য ও কর্মীদের অবস্থান
সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে মামলা চলছিল। ৮ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টে মামলার শুনানি শেষ হলেও রায় এখনও ঘোষণা করা হয়নি। শীর্ষ আদালত জানিয়ে দিয়েছিল, কোনও পক্ষ চাইলে লিখিত আকারে নিজের বক্তব্য জমা দিতে পারবে। সোমবার রাজ্য সেই লিখিত বক্তব্য আদালতে জমা দিয়েছে।
রাজ্যের আইনজীবী কপিল সিব্বল জানান, লিখিত বক্তব্যে রাজ্য জানিয়েছে, প্রায় ১০টি রাজ্যে ভোক্তা মূল্য সূচক (সিপিআই) মেনে ডিএ দেওয়া হয় না। রাজ্যের যুক্তি ছিল, মহার্ঘ ভাতা বাধ্যতামূলক নয় এবং এটি সরকারি কর্মচারীদের মৌলিক অধিকার নয়। এছাড়া, কেন্দ্র ও রাজ্যের আর্থিক পরিকাঠামো ভিন্ন, তাই কেন্দ্রীয় হারে দেওয়া ডিএ-এর সঙ্গে রাজ্যের তুলনা করা যায় না।
অন্যদিকে, মামলাকারী সরকারি কর্মচারীদের আইনজীবী করুণা নন্দী জানিয়েছেন, রাজ্যের লিখিত বক্তব্যের জবাব দিতে তারা একটি পাল্টা লিখিত দাখিল করতে চান। আদালত ইতিমধ্যেই এক সপ্তাহ সময় দিয়েছে, যাতে তারা তাদের বক্তব্য জমা দিতে পারেন।
এই মামলার পেছনে মূল বিষয় হলো, কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মীদের হারে রাজ্যকেও ডিএ দিতে হবে কিনা। রাজ্যের কর্মচারীরা দাবি করেছেন, নির্দিষ্ট সময় অন্তর বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী ডিএ পাওয়ার অধিকার রয়েছে। ২০২২ সালে কলকাতা হাই কোর্টও কর্মচারীদের পক্ষে রায় দিয়েছিল, বলেছিল ডিএ রাজ্য সরকারের কর্মীদের অধিকার এবং তারা কেন্দ্রীয় হারের মতো তা পাওয়ার যোগ্য।
তবে রাজ্য হাই কোর্টের রায় চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়। শীর্ষ আদালত ইতিমধ্যেই রাজ্যকে বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ মিটিয়ে দিতে নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু রাজ্য আবেদন করেছে, আরও সময় প্রয়োজন। কারণ, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের বাজেটে বকেয়া ডিএ-এর কোনও বরাদ্দ ছিল না এবং আর্থিক সঙ্কটও রয়েছে। এছাড়া, রাজ্য আদালতকে জানিয়েছে, অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ পুনর্বিবেচনারও প্রার্থনা করছে।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, রাজ্য এই মামলায় ছ’সপ্তাহের মধ্যে ডিএ দিতে ব্যর্থ হয়েছে। ৪-৭ আগস্ট পর্যন্ত আদালতে শুনানি চলেছে। তবে ১২ আগস্ট পুনরায় শুনানি পিছিয়ে যায় কারণ কপিল সিব্বল অন্য মামলায় ব্যস্ত ছিলেন।
সংক্ষেপে, সুপ্রিম কোর্টে এখন দুই পক্ষের লিখিত যুক্তি জমা হয়েছে। রাজ্যের যুক্তি, ডিএ বাধ্যতামূলক নয় এবং আর্থিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। মামলাকারীর যুক্তি, ডিএ নির্দিষ্ট সময় অন্তর দিতে হবে এবং বকেয়া কিস্তিতে মেটানো যেতে পারে। রায় এখনও স্থগিত রাখা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্য ও কর্মচারীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা এই বিতর্কের চূড়ান্ত সমাধান হবে, যা ভবিষ্যতে বকেয়া ভাতা প্রদানের দৃষ্টিকোণেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
ব্যালকনির উপর উড়ালপুল! নাগপুরের সেতু স্মরণ করাচ্ছে ভোপালের ৯০ ডিগ্রি রেলসেতুর ঘটনার কথা