‘সিঁদুরের লড়াই’ কলকাতায়: শাহের মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহিলাযুদ্ধ, তৃণমূল বনাম বিজেপি মুখোমুখি

‘সিঁদুরের লড়াই’ কলকাতায় অমিত শাহ কলকাতায় এলেন, বললেন, বিদ্ধ করলেন— আর রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়ে গেল এক নতুন লড়াই। এবার অস্ত্র সিঁদুর! রবিবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে বিজেপি-র সভা থেকে ‘অপারেশন…

June 2, 2025
1 min read

‘সিঁদুরের লড়াই’ কলকাতায়

অমিত শাহ কলকাতায় এলেন, বললেন, বিদ্ধ করলেন— আর রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়ে গেল এক নতুন লড়াই। এবার অস্ত্র সিঁদুর!

রবিবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে বিজেপি-র সভা থেকে ‘অপারেশন সিঁদুর’ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থান নিয়ে কটাক্ষ করতেই রাজ্যের শাসক দল মাঠে নামিয়ে দেয় তাদের তিন নেত্রীকে। চুপ করে থাকেনি বিজেপিও। পাল্টা দু’জন নারী নেত্রীকে পাঠিয়ে রাজনৈতিক পাল্টাঘাত চালায় তারা।


🧣 শাহের বক্তব্যে ‘সিঁদুর’ বিতর্কের সূচনা

বিজেপি নেতা অমিত শাহ এ দিন বলেন, “অপারেশন সিঁদুরে শতাধিক জঙ্গি খতম হয়েছে। অথচ দিদির এতে কষ্ট হচ্ছে! দেশের মহিলাদের ভাবনার সঙ্গে খেলা করছেন তিনি।” তিনি বাংলার মহিলাদের আহ্বান জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই যেন বোঝানো হয়— সিঁদুরের অপমান মানে কী।

এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে মুহূর্তেই রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে রাজ্য রাজনীতি। তৃণমূল মনে করে, শাহের মন্তব্য নারীদের ধর্মীয় চিহ্নকে রাজনৈতিক অস্ত্রে পরিণত করার চেষ্টা। তার প্রতিবাদেই তারা নামিয়ে দেয় চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, কাকলি ঘোষ দস্তিদার ও সাগরিকা ঘোষকে। তিন নেত্রী বলেন, “সিঁদুর নিয়ে খেলা বন্ধ করুন!”

চন্দ্রিমার কটাক্ষ, “যখন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রতিনিধিত্ব করছেন, তখন এখানে অপারেশন সিঁদুর নিয়ে রাজনৈতিক নাটক চলছে!”


🔄 বিজেপির কৌশলী জবাব

তৃণমূলের বক্তব্যের পরেই বিজেপি-ও পাল্টা চাল দেয়। মঞ্চে আসে বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল ও প্রাক্তন সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়। দু’জনেই প্রবল আত্মবিশ্বাসে বলেন, “মমতা নিজেই প্রধানমন্ত্রীকে সিঁদুর বিক্রেতা, পাহারাদার বলে অপমান করেছেন। একজন মহিলা হয়ে এটা খুবই লজ্জার।”

অগ্নিমিত্রা টেনে আনেন অনুব্রত মণ্ডলের অডিয়োকাণ্ড, বলেন, “যাঁরা আজ প্রেস মিটে সিঁদুর পরে এলেন, তাঁরা অনুব্রতের মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন কি?” তাঁর মতে, তৃণমূলের বক্তব্য যদি নারীর সম্মান রক্ষার হয়, তবে দলীয় নেতা-নেত্রীদের অপমানজনক মন্তব্যেরও জবাব দিতে হবে।


🏛️ রাজনীতি বনাম নারীত্বের আবেগ

এই বিতর্কের গভীরে রয়েছে একাধিক স্তর। একদিকে বিজেপি অপারেশন সিঁদুরকে দেশের নিরাপত্তা ও নারীর ক্ষমতায়নের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরছে, অন্যদিকে তৃণমূল বলছে— এটি নারীত্বের অনুভূতিকে রাজনৈতিক অস্ত্রে পরিণত করার কৌশল।

সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক? দুই দলে মাঠে নামা পাঁচ নেত্রীই ছিলেন বিবাহিত নারী, যাঁদের কপালে রক্তিম সিঁদুর স্পষ্ট। একপ্রকার ‘চিহ্ন’ দিয়েই যেন তাঁরা রাজনৈতিক বার্তা দিতে চাইলেন প্রতিপক্ষকে।


🇮🇳 সেনার দুই মহিলার ছায়া

ঘটনার এক প্রতীকী সংযোজন— সেনার ‘অপারেশন সিঁদুর’ চলাকালীন দেশকে তথ্য দিতেন দু’জন মহিলা অফিসার: কর্নেল সোফিয়া কুরেশি এবং উইং কমান্ডার ব্যোমিকা সিংহ। রাজনীতির মঞ্চেও যেন সেই ‘মহিলা মুখ’ উঠে এল, তবে অন্য উদ্দেশ্যে।

জামাইষষ্ঠীর ভোজেও অম্বল নয়! পুষ্টিবিদের টিপসেই থাকুন হালকা আর হাসিখুশি 💚

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *